পশ্চিমবঙ্গের রাজনৈতিক মহলে ফের তুমুল চাঞ্চল্য। তৃণমূল কংগ্রেসের অন্দরে তৈরি হওয়া বিক্ষুব্ধ শিবিরের সঙ্গে বিপুল সংখ্যক বিধায়ক যোগ দিতে চলেছেন বলে জোর জল্পনা শুরু হয়েছে। সূত্রের দাবি, দলের মোট ৮০ জন বিধায়কের মধ্যে ৫৯ জন ইতিমধ্যেই বিক্ষুব্ধ গোষ্ঠীর পাশে দাঁড়িয়েছেন এবং সেই সমর্থনের ভিত্তিতেই আজ বিধানসভার অধ্যক্ষের কাছে গুরুত্বপূর্ণ চিঠি জমা দেওয়া হতে পারে।
বুধবার সকাল থেকেই বিধানসভা চত্বরে রাজনৈতিক তৎপরতা বেড়েছে। বিক্ষুব্ধ গোষ্ঠীর অন্যতম মুখ ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায় ইতিমধ্যেই বিধানসভায় পৌঁছে গিয়েছেন। তাঁর সঙ্গে সন্দীপন সাহাও বৈঠকে যোগ দিতে পারেন বলে জানা গিয়েছে। চিঠি জমা দেওয়ার আগে সমর্থনকারী বিধায়কদের নিয়ে একটি কৌশলগত বৈঠকেরও পরিকল্পনা রয়েছে।


প্রসঙ্গত, বিধানসভার সই জালিয়াতি বিতর্ককে কেন্দ্র করে ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায় ও সন্দীপন সাহাকে দল থেকে বহিষ্কার করেছিল তৃণমূল কংগ্রেস। সেই ঘটনার পর থেকেই দলের ভিতরে অসন্তোষের আবহ তৈরি হয়। ধীরে ধীরে সেই অসন্তোষ সংগঠিত রূপ নিতে শুরু করেছে বলেই রাজনৈতিক মহলের একাংশের দাবি।
তবে বিক্ষুব্ধ শিবিরের ঘনিষ্ঠ সূত্রের বক্তব্য, এই মুহূর্তে দল ভাঙার কোনও পরিকল্পনা নেই। বরং বিধানসভার ভিতরে আলাদা ব্লক গঠন করাই তাদের প্রথম লক্ষ্য। সেই কারণেই অধ্যক্ষের কাছে সংখ্যাগরিষ্ঠ সমর্থনের দাবি জানিয়ে আনুষ্ঠানিক আবেদন জমা দেওয়ার প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে।
সূত্রের খবর, বিরোধী দলনেতার পদ নিয়েও নতুন সমীকরণ তৈরি হতে পারে। বর্তমান বিরোধী দলনেতা শোভনদেব চট্টোপাধ্যায়ের পরিবর্তে ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের নাম প্রস্তাব করার ভাবনাচিন্তা চলছে বিক্ষুব্ধ শিবিরে। যদিও এই বিষয়ে এখনও কোনও আনুষ্ঠানিক ঘোষণা করা হয়নি।


রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, যদি সত্যিই ৫৯ জন বিধায়কের সমর্থনের দাবি প্রমাণিত হয়, তাহলে তা রাজ্যের রাজনীতিতে বড়সড় প্রভাব ফেলতে পারে। বিশেষ করে বিধানসভার অঙ্ক এবং বিরোধী রাজনীতির ভবিষ্যৎ সমীকরণ নতুন মোড় নিতে পারে।
জানা গিয়েছে, মুর্শিদাবাদ জেলার একাধিক তৃণমূল বিধায়ক এই বিক্ষুব্ধ গোষ্ঠীর প্রতি সহানুভূতিশীল। পাশাপাশি বীরভূমের কয়েকজন প্রভাবশালী বিধায়কের নামও আলোচনায় রয়েছে। কলকাতার এক প্রাক্তন মন্ত্রীর সমর্থনও বিক্ষুব্ধ শিবিরের দিকে রয়েছে বলে দাবি করা হচ্ছে।
এখন রাজনৈতিক মহলের নজর বিধানসভার অধ্যক্ষের দপ্তরের দিকে। বিক্ষুব্ধ গোষ্ঠীর দাবি কতটা গ্রহণযোগ্য হয় এবং আগামী দিনে তৃণমূলের অন্দরের এই টানাপোড়েন কোন দিকে গড়ায়, তা নিয়েই জোর জল্পনা শুরু হয়েছে।
সবচেয়ে আগে সঠিক খবর, প্রতি মুহূর্তে
Google News এবং Google Discover-এ নজরবন্দি-কে Follow করে রাখুন।



