রাজধানী দিল্লিতে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে মৃত্যু ও আতঙ্কের ছবি। দক্ষিণ দিল্লির মালব্যনগর এলাকায় একটি বহুতল ভবনের বেসমেন্টে থাকা রেস্তরাঁয় আগুন লাগার ঘটনায় অন্তত ২০ জনের মৃত্যুর খবর সামনে এসেছে। ধোঁয়ায় ভরে যায় গোটা ভবন, আর প্রাণ বাঁচাতে হুড়োহুড়ির মধ্যে এক মহিলাকে উপর থেকে ঝাঁপ দিতেও দেখা যায় বলে স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে।
বুধবার সকাল প্রায় ৯টা ৪৫ মিনিট নাগাদ মালব্যনগরের ‘লেমন গ্রিন’ নামে একটি রেস্তরাঁ থেকে ঘন কালো ধোঁয়া বের হতে দেখেন স্থানীয় বাসিন্দারা। মুহূর্তের মধ্যে এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছে যায় দমকলের একাধিক ইঞ্জিন এবং শুরু হয় উদ্ধার অভিযান।
প্রাথমিক তথ্য অনুযায়ী, যে ভবনে আগুন লাগে সেটি পাঁচতলা। ভবনের বেসমেন্টে রেস্তরাঁটি অবস্থিত ছিল। আগুন লাগার সময় ভবনের বিভিন্ন তলায় প্রায় ৪০ জন উপস্থিত ছিলেন বলে অনুমান করা হচ্ছে।
দমকল কর্মীরা বেসমেন্ট থেকে অন্তত ১১ জনকে উদ্ধার করে হাসপাতালে পাঠিয়েছেন। তাঁদের শারীরিক অবস্থা সম্পর্কে এখনও বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ করা হয়নি। ভবনের উপরের তলাগুলিতে আরও কয়েকজন আটকে থাকতে পারেন বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
ঘটনার পর এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্য ছড়িয়ে পড়ে। উদ্ধারকাজে দমকল বাহিনীর পাশাপাশি পুলিশ এবং বিপর্যয় মোকাবিলা বাহিনীর সদস্যরাও অংশ নেন। ধোঁয়ার ঘনত্ব এবং সরু গলির কারণে উদ্ধারকাজে কিছুটা সমস্যা হয়েছে বলে জানা যাচ্ছে।
স্থানীয় সূত্রের দাবি, হউজ রানির একটি সরু গলির মধ্যে অবস্থিত ভবনটির বেসমেন্টে রেস্তরাঁটি ছিল। সেখানে নিয়মিত দেশি-বিদেশি পর্যটকদের যাতায়াত থাকত। ফলে আগুন লাগার সময় ভবনে কতজন ছিলেন, তা নিয়ে এখনও ধোঁয়াশা রয়েছে।
ঘটনাস্থল পরিদর্শনের পর আম আদমি পার্টির নেতা Somnath Bharti বলেন, পরিস্থিতি অত্যন্ত মর্মান্তিক। তাঁর দাবি, ভবনের উপরের অংশে এখনও কিছু মানুষ আটকে থাকতে পারেন। পাশাপাশি তিনি অভিযোগ করেন, খবর পাওয়ার প্রায় ৫০ মিনিট পরে দমকল বাহিনী ঘটনাস্থলে পৌঁছায়।
অন্যদিকে, দিল্লির মুখ্যমন্ত্রী Rekha Gupta অগ্নিকাণ্ডে নিহতদের পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা জানিয়েছেন। সামাজিক মাধ্যমে দেওয়া এক বার্তায় তিনি উদ্ধারকাজ দ্রুত সম্পন্ন করার নির্দেশও দিয়েছেন।
আগুন লাগার প্রকৃত কারণ এখনও স্পষ্ট নয়। শর্ট সার্কিট, গ্যাস লিকেজ নাকি অন্য কোনও কারণে এই বিপর্যয়, তা খতিয়ে দেখতে তদন্ত শুরু করেছে প্রশাসন। উদ্ধার অভিযান সম্পূর্ণ হওয়ার পর ক্ষয়ক্ষতির প্রকৃত চিত্র আরও স্পষ্ট হবে বলে মনে করা হচ্ছে।
দিল্লির বুকে এই ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ড আবারও বহুতল ভবনের অগ্নি-নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়ে বড় প্রশ্ন তুলে দিল। তদন্তের রিপোর্ট সামনে আসার অপেক্ষায় এখন প্রশাসন, স্থানীয় বাসিন্দা এবং নিহতদের পরিবার।



