তৃণমূলের অন্দরের দ্বন্দ্ব কি এবার রাজ্যের গণ্ডি ছাড়িয়ে পৌঁছে গেল দিল্লিতেও? এমনই জল্পনা তীব্র হয়েছে রাজনৈতিক মহলে। সূত্রের দাবি, অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্ব নিয়ে অসন্তুষ্ট একাংশ সাংসদ লোকসভায় আলাদা অবস্থান নেওয়ার প্রস্তুতি শুরু করেছেন। এই গোষ্ঠীর নেতৃত্বে রয়েছেন বারাসতের সাংসদ কাকলি ঘোষ দস্তিদার।
দলীয় সূত্রে খবর, তৃণমূলের ১৮ জন সাংসদ আগামী ৮ জুন লোকসভার অধিবেশনে পৃথক অবস্থান নেওয়ার পরিকল্পনা করছেন। অভিযোগ, অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বে সংসদীয় দলের সিদ্ধান্ত ও রাজনৈতিক কৌশল নিয়ে তাঁদের একাংশের আপত্তি রয়েছে। সেই কারণেই তাঁরা স্বাধীনভাবে নিজেদের অবস্থান স্পষ্ট করতে চাইছেন।
রাজ্যে সম্প্রতি দলের ভিতরে নেতৃত্ব ও সাংগঠনিক কাঠামো নিয়ে যে বিতর্ক সামনে এসেছে, তারই প্রতিফলন কি এবার জাতীয় রাজনীতিতেও দেখা যাচ্ছে—তা নিয়ে প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে। রাজনৈতিক মহলের একাংশ এই পরিস্থিতিকে ‘ঋতব্রত মডেল’-এর সম্প্রসারণ বলেই ব্যাখ্যা করছে।
সূত্রের দাবি, লোকসভায় দলনেতৃত্বের বিষয়ে পুনর্বিবেচনার দাবি জানিয়ে সংশ্লিষ্ট সাংসদরা একটি চিঠিও প্রস্তুত করছেন। সেই চিঠিতে সংসদীয় কৌশল এবং সাংগঠনিক সিদ্ধান্ত গ্রহণের পদ্ধতি নিয়ে একাধিক প্রশ্ন তোলা হতে পারে বলেও খবর।
এই জল্পনার কেন্দ্রবিন্দুতে উঠে এসেছে কাকলি ঘোষ দস্তিদারের নাম। দীর্ঘদিন ধরে দলের সাংসদ হলেও সাম্প্রতিক সময়ে তাঁকে ঘিরে রাজনৈতিক তৎপরতা বেড়েছে। অসন্তুষ্ট সাংসদদের মধ্যে সমন্বয়ের দায়িত্বও তিনি নিচ্ছেন বলে সূত্রের দাবি।
তবে এই বিষয়ে এখনও পর্যন্ত তৃণমূল কংগ্রেসের পক্ষ থেকে কোনও আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি। অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় বা দলের শীর্ষ নেতৃত্বও প্রকাশ্যে কোনও মন্তব্য করেননি।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, যদি সত্যিই ১৮ জন সাংসদ আলাদা অবস্থান নেন, তাহলে তা শুধু তৃণমূলের সংসদীয় রাজনীতিতেই নয়, দলের অভ্যন্তরীণ সমীকরণেও বড় প্রভাব ফেলতে পারে। আগামী ৮ জুনের দিকে তাই নজর থাকবে রাজনৈতিক মহলের।
এখন দেখার, এই জল্পনা শেষ পর্যন্ত বাস্তব রূপ নেয় নাকি দলীয় নেতৃত্ব পরিস্থিতি সামাল দিয়ে ঐক্যের বার্তা দিতে সক্ষম হয়। তবে দিল্লিতে তৃণমূলের সাংসদদের একাংশকে ঘিরে যে নতুন রাজনৈতিক সমীকরণের আলোচনা শুরু হয়েছে, তা অস্বীকার করার উপায় নেই।



