দিল্লিতে জাঁকিয়ে পড়েছে শীত। তাপমাত্রা নামছে এক অঙ্কে। সেই প্রবল ঠান্ডার মধ্যেই পুরনো সংসদ ভবনের সিঁড়িতে সারারাত ধর্নায় বসেন তৃণমূল কংগ্রেসের সাংসদরা। মাথায় টুপি, গায়ে সোয়েটার ও শাল জড়িয়ে রাত কাটান তাঁরা। শুক্রবার সকালেও ধর্না কর্মসূচি চালু রয়েছে।
তৃণমূল সূত্রে জানানো হয়েছে, মহাত্মা গান্ধী ও রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের অপমানের প্রতিবাদে আগামী ১২ ঘণ্টা অবস্থান চলবে। ধর্নাস্থলে রাখা হয়েছে গান্ধীজি ও রবীন্দ্রনাথের ছবি। তাঁদের সামনে বসেই প্রতিবাদে সামিল হন রাজ্যসভা ও লোকসভার সাংসদরা।
ধর্নাস্থলে কারা উপস্থিত
পুরনো সংসদ ভবনের সিঁড়িতে দেখা গিয়েছে— ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়, সাগরিকা ঘোষ, মমতাবালা ঠাকুর, দোলা সেন, সাকেত গোখল-সহ একাধিক তৃণমূল সাংসদকে। কেউ শাল জড়িয়ে, কেউ সোয়েটার পরে ঠান্ডা সামলে রাতভর অবস্থান করেন।
ভোরে ভিডিও বার্তা সাগরিকা ঘোষের
ভোর পাঁচটা নাগাদ ধর্নাস্থল থেকেই একটি ভিডিও বার্তা পোস্ট করেন রাজ্যসভার সাংসদ সাগরিকা ঘোষ। তিনি বলেন, “সংসদ ভবনের সিঁড়িতে আমাদের ধর্না চলছে। মহাত্মা গান্ধী এবং রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের অপমান আমরা মেনে নেব না।”
ভিডিওর শেষে তিনি জোর গলায় বলেন— “মহাত্মা গান্ধী অমর রহে।”
‘বুলডোজার কৌশলে বিল পাস’—অভিযোগ
সাগরিকা ঘোষ অভিযোগ করেন, মোদী সরকার সংসদে ‘বুলডোজার কৌশল’ ব্যবহার করছে। তাঁর বক্তব্য, “বিরোধীদের সঙ্গে কোনও আলোচনা করা হচ্ছে না। বৈঠকে ডাকা হচ্ছে না। একের পর এক বিল জোর করে পাস করানো হচ্ছে।”
তিনি আরও বলেন, “মোদী সরকার দ্বিতীয়বার মহাত্মা গান্ধীকে হত্যা করল।”
কী এই ‘জি রাম জি’ বিল?
বিরোধীদের তীব্র হট্টগোলের মধ্যেই বৃহস্পতিবার দুপুরে লোকসভায় পাস হয় ‘বিকশিত ভারত গ্যারান্টি ফর রোজগার অ্যান্ড আজীবিকা মিশন (গ্রামীণ)’, সংক্ষেপে ‘জি রাম জি’ বিল।
পরে গভীর রাতে রাজ্যসভাতেও ধ্বনি ভোটে বিলটি পাশ হয়। এরপরই ক্ষোভ উগরে দিয়ে ধর্নায় বসেন তৃণমূল সাংসদরা।
মনরেগা বদলে নতুন প্রকল্প—কিন্তু আপত্তি কোথায়?
কেন্দ্রীয় সরকারের দাবি, ‘জি রাম জি’ বিলের মাধ্যমে ১০০ দিনের কাজের বদলে
-
১২৫ দিনের কাজের গ্যারান্টি
-
২৫ দিন অতিরিক্ত মজুরি
-
সপ্তাহান্তে মজুরি দেওয়ার নিয়ম
তবে বিরোধীদের আপত্তি মূলত দু’টি জায়গায়—
1️⃣ অর্থের ভাগ
মনরেগা প্রকল্পে পুরো টাকা দিত কেন্দ্র।
নতুন বিলে ৬০:৪০ অনুপাতে কেন্দ্র ও রাজ্যকে টাকা দিতে হবে।
এর ফলে রাজ্য সরকারের উপর আর্থিক চাপ বাড়বে বলে অভিযোগ।
2️⃣ মহাত্মা গান্ধীর নাম বাদ
মনরেগা প্রকল্প থেকে মহাত্মা গান্ধীর নাম বাদ দেওয়াকেই বিরোধীরা
“ঐতিহাসিক অপমান” বলে দাবি করছে। একই সঙ্গে বাঙালিকেও অপমান করা হয়েছে বলে অভিযোগ তৃণমূলের।
সংসদের বাইরে গড়াল প্রতিবাদ
তৃণমূল নেতৃত্বের বক্তব্য, সংসদের ভিতরে কথা বলার সুযোগ না পেয়ে তাঁরা বাধ্য হয়ে সংসদের সিঁড়িতে অবস্থান করছেন। এই প্রতিবাদ শুধু একটি বিলের বিরুদ্ধে নয়, বরং সংসদীয় গণতন্ত্র রক্ষার লড়াই।



