ছাব্বিশের বিধানসভা ভোটের আগে রাজনৈতিক লড়াই এবার পৌঁছল আদালতের চৌকাঠে। আইপ্যাকের অফিস ও কর্ণধার প্রতীক জৈনের বাড়িতে ইডির তল্লাশি নিয়ে সরাসরি বিজেপির বিরুদ্ধে ‘নির্বাচনী তথ্য-নথি লুটের চেষ্টা’র অভিযোগ তুলে কলকাতা হাই কোর্টে মামলা করল রাজ্যের শাসকদল তৃণমূল কংগ্রেস। তৃণমূলের দাবি, ইডিকে ব্যবহার করে দলের কৌশলগত গোপন নথি হাতিয়ে নেওয়ার চেষ্টা হয়েছে।
আইপ্যাকের দফতর এবং সংস্থার কর্ণধার প্রতীক জৈনের লাউডন স্ট্রিটের বাড়িতে তল্লাশি চালানো নিয়ে এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট-এর বিরুদ্ধে সরব হয়েছে তৃণমূল। শাসকদলের তরফে কলকাতা হাই কোর্ট-এ দায়ের করা আবেদনে বলা হয়েছে, আইপ্যাক তৃণমূলের পরামর্শদাতা সংস্থা এবং ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনের আগে দলের একাধিক গুরুত্বপূর্ণ পরিকল্পনা, তথ্য ও নথি তাদের কাছে সংরক্ষিত ছিল। সেই কারণেই ইডির এই তল্লাশি ‘রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত’ বলে অভিযোগ।
আদালত সূত্রে খবর, তৃণমূলের করা মামলার অনুমতি মিলেছে এবং শুক্রবারই শুনানি হতে পারে। শুধু তৃণমূল নয়—এই ইডি অভিযানের বিরুদ্ধে এখনও পর্যন্ত মোট তিনটি মামলা দায়ের হয়েছে হাই কোর্টে। সব ক’টিরই শুনানি একসঙ্গে হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে বলে জানা যাচ্ছে।
প্রসঙ্গত, ২০২০ সালে দিল্লির ইডি দফতরে দায়ের হওয়া কয়লা পাচার মামলার সূত্র ধরে বৃহস্পতিবার সকালে দেশের মোট ১০টি জায়গায় তল্লাশি চালায় ইডি। তার মধ্যে কলকাতার ৬টি স্থান ছিল। তবে সবচেয়ে বেশি শোরগোল পড়ে আইপ্যাক-এর কর্ণধার প্রতীক জৈনের লাউডন স্ট্রিটের বাড়ি এবং সল্টলেকের দফতরে তল্লাশি ঘিরে।
তল্লাশির খবর পেয়ে দুপুর নাগাদ প্রতীকের বাড়িতে পৌঁছে যান মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। অভিযোগ, সেখান থেকে তিনি একটি সবুজ রঙের ফাইল নিয়ে বেরিয়ে আসেন। পরে সল্টলেকের আইপ্যাক দফতরেও যান মুখ্যমন্ত্রী এবং সেখানে প্রায় চার ঘণ্টা অবস্থান করেন। সেখান থেকেও কিছু নথি নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে।
ইডি অভিযানের পর থেকেই কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থার বিরুদ্ধে তীব্র ভাষায় আক্রমণ শানিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। তাঁর অভিযোগ, “এই অভিযান দুর্ভাগ্যজনক। আমার আইটি দফতরে অভিযান চালিয়েছে। দলের গোপন নথি ও প্রার্থী তালিকা চুরি করতেই ইডিকে দিয়ে হামলা চালানো হয়েছে।” তৃণমূলের আদালতে করা আবেদনের ভাষাও কার্যত একই সুরে বাঁধা।
শাসকদলের দাবি, আইপ্যাকের কাছে থাকা তথ্য শুধুমাত্র রাজনৈতিক কৌশল সংক্রান্ত এবং সেগুলির সঙ্গে কোনও আর্থিক অপরাধের যোগ নেই। তাই এই তল্লাশি আইনসিদ্ধ নয় বলেই তৃণমূলের অভিযোগ। পাল্টা ইডির তরফে এখনও পর্যন্ত এ বিষয়ে বিস্তারিত প্রতিক্রিয়া জানানো হয়নি।
সব মিলিয়ে, আইপ্যাক-কাণ্ড ঘিরে রাজনৈতিক চাপানউতোর এবার আইনি লড়াইয়ের ময়দানে। শুক্রবারের শুনানিতে হাই কোর্ট কী অবস্থান নেয়, সেদিকেই এখন নজর রাজ্য রাজনীতির।



