নজরবন্দি ব্যুরো: পঞ্চায়েত নির্বাচনের দুদিন বাকি। অন্তিম পর্বের প্রচার চলছে। রাজনৈতিক দলগুলির জোরদার লড়াই করতে ময়দানে নেমে পড়েছে। এই পরিস্থিতিতে শাসক দলে বড় ভাঙন। ভোটের মুখেই তৃণমূল ছাড়লেন প্রায় ৬০০ জন কর্মী। বুধবার মুর্শিদাবাদে ঘাসফুল ছেড়ে হাত শিবিরে যোগদান করেন তৃণমূল নেতা ও তাঁর কয়েকশো অনুগামীরা।
আরও পড়ুন: প্রচারে গিয়ে ‘চোর চোর’ শুনতে হলে আমাদের খারাপ লাগবে, সায়নীকে খোঁচা সুকান্তের!
এদিন মুর্শিদাবাদে প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি অধীর রঞ্জন চৌধুরীর হাত ধরে কংগ্রেসে যোগদান করেন ডোমকল পুরসভার প্রাক্তন উপপৌরপিতা তথা তৃণমূল নেতা প্রদীপ চাকী। তাঁর হাত ধরেই শাসক দল থেকে কংগ্রেসে আসেন ৬০০ জন কর্মী। এই যোগদান নিয়েই বেশ উজ্জীবিত কংগ্রেস নেতৃত্ব। প্রদীপ চাকি আগে কংগ্রেসেই ছিলেন। পরবর্তীকালে তিনি তৃণমূলে যান। ফের আবার দলবদল নিয়ে তিনি বলেন, অতীতে তৃণমূলের বিরুদ্ধে মুখ খুলেছিলেন। তারপর থেকেই তাঁকে কার্যত একঘরে করে দেওয়া হয়। তাই তিনি কংগ্রেসে ফিরলেন। গত দুবছর ধরে তৃণমূলের সক্রিয় রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত ছিলেন না বলেও দাবি তাঁর। আগামী দিনে সাধারণ মানুষের উন্নয়নের জন্য কাজ করতে চান প্রদীপ চাকি।

আগামী শনিবার পঞ্চায়েত নির্বাচন। আগামী বছরের লোকসভা নির্বাচনের আগে বাংলার রাজনৈতিক দলগুলি এই ভোটকে সেমিফাইনাল হিসেবেই বিবেচনা করছে। এই অবস্থায় শাসক ও বিরোধী উভয় পক্ষ একে অপরকে টেক্কা দিতে প্রস্তুত। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, মুর্শিদাবাদের আজকের এই যোগদান পঞ্চায়েত নির্বাচনে তেমন প্রভাব ফেলবে না, তবে ২৪-এর লোকসভার জন্য বেশ গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে। মুর্শিদাবাদে কংগ্রেসের হাতে একটি লোকসভা আসন। বাকি দুটি তৃণমূলের। এই অবস্থায় কংগ্রেসের সংগঠন মজবুত হলে সুবিধা হবে বলেই ধারণা।

এদিকে কলকাতা হাইকোর্টে অধীর চৌধুরীর আবেদন খারিজ হয়েছে। গত সোমবার পঞ্চায়েতে দফা বাড়িয়ে ভোট করানোর দাবিতে মামলা করেছিলেন কংগ্রেস সাংসদ। আজ শুনানিতে প্রধান বিচারপতির ডিভিশন বেঞ্চের পর্যবেক্ষণ, পর্যাপ্ত পরিমাণ কেন্দ্রীয় বাহিনী আছে। দফা বাড়ানোর প্রয়োজনীয়তা নেই। আগামী ৮ জুলাই রাজ্যে এক দফায় পঞ্চায়েত ভোট হবে।
ভোটের মুখে শাসক দলে বড় ভাঙন, অধীর গড়ে ৬০০ কর্মী সহ কংগ্রেসে তৃণমূল নেতা




