বীরভূমের দুবরাজপুরে সকাল থেকেই অন্য ছবি। পাড়ায় পাড়ায় ঘুরে নিজেই জানালেন, আর তৃণমূলের সঙ্গে কোনও সম্পর্ক নেই তাঁর। চোখে জল নিয়েই কাউন্সিলর পদ ও যুব তৃণমূল সভাপতির পদ থেকে ইস্তফার ঘোষণা করলেন সাগর কুন্ডু। ঘটনাকে ঘিরে জোর চর্চা শুরু হয়েছে রাজনৈতিক মহলে।
দুবরাজপুর পুরসভার ১২ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর ছিলেন সাগর কুন্ডু। মঙ্গলবার সকালেই তিনি এলাকায় গিয়ে সাধারণ মানুষকে জানান, তিনি আর কাউন্সিলর নন। একই সঙ্গে শহর যুব তৃণমূল কংগ্রেসের সভাপতির পদ থেকেও সরে দাঁড়িয়েছেন।
সাগরের বক্তব্য, এই সিদ্ধান্ত নেওয়া তাঁর জন্য সহজ ছিল না। কথা বলতে গিয়েও বারবার গলা ধরে আসছিল তাঁর। আবেগঘন কণ্ঠেই তিনি বলেন, তৃণমূলের সঙ্গে সমস্ত সম্পর্ক ছিন্ন করছেন। তবে রাজনৈতিক পদ ছাড়লেও মানুষের পাশে থাকার কাজ চালিয়ে যাবেন বলেও আশ্বাস দিয়েছেন।
রাজ্যে সাম্প্রতিক রাজনৈতিক পালাবদলের পর থেকেই বিভিন্ন পুরসভায় ভাঙনের ছবি সামনে আসছে। একাধিক জায়গায় তৃণমূল কাউন্সিলরদের পদত্যাগ ঘিরে অস্বস্তি বাড়ছে শাসকদলের অন্দরে। দুবরাজপুরের ঘটনাও সেই তালিকায় নতুন সংযোজন বলেই মনে করছে রাজনৈতিক মহল।
যদিও সাগর কুন্ডু সরাসরি রাজনৈতিক পরিবর্তনকে দায়ী করতে চাননি। তাঁর কথায়, “মানুষের রায়ই শেষ কথা।” তবে তাঁর মন্তব্যে স্পষ্ট, বর্তমান পরিস্থিতি তাঁকে কঠিন সিদ্ধান্ত নিতে বাধ্য করেছে।
এই আকস্মিক পদত্যাগ নিয়ে আপাতত সতর্ক অবস্থান নিয়েছে স্থানীয় তৃণমূল নেতৃত্ব। দুবরাজপুরের তৃণমূল বিধায়ক অনুপকুমার সাহা জানিয়েছেন, সরকারি ভাবে ইস্তফাপত্র জমা পড়ার পর বিষয়টি নিয়ে সিদ্ধান্ত হবে। পাশাপাশি পুরসভার কাজকর্ম নিয়েও নজরদারির কথা জানিয়েছেন তিনি।
বিধায়কের দাবি, পুরসভার বিভিন্ন কাজের নিরিখে প্রত্যেক কাউন্সিলরের ভূমিকা খতিয়ে দেখা হবে। কোথাও দুর্নীতির অভিযোগ প্রমাণিত হলে কাউকে রেয়াত করা হবে না বলেও স্পষ্ট বার্তা দিয়েছেন তিনি।
অন্যদিকে, এই ঘটনাকে হাতিয়ার করে তৃণমূলকে কটাক্ষ করতে শুরু করেছে বিজেপি। স্থানীয় বিজেপি নেতৃত্বের দাবি, রাজ্যে তৃণমূলের ভিত ক্রমশ দুর্বল হচ্ছে বলেই একের পর এক নেতা ও জনপ্রতিনিধি দল ছাড়ছেন।
দুবরাজপুরের এই ঘটনা এখন শুধু একটি পদত্যাগ নয়, বরং রাজ্যের বদলে যাওয়া রাজনৈতিক আবহের প্রতীক হিসেবেও দেখা হচ্ছে। আগামী দিনে আরও কেউ একই পথে হাঁটেন কি না, সেদিকেই এখন নজর রাজনৈতিক মহলের।



