লোকসভা স্পিকারের বিরুদ্ধে অনাস্থা প্রস্তাব ঘিরে বিরোধী রাজনীতিতে নতুন সমীকরণ। কংগ্রেসের ডাকে তড়িঘড়ি সই নয়—স্পষ্ট শর্ত বেঁধে দিল তৃণমূল। লোকসভায় দলের নেতা অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় জানিয়ে দিলেন, কংগ্রেস যদি নির্দিষ্ট প্রক্রিয়া মেনে এগোয়, তবেই তৃণমূল সাংসদরা স্পিকার ওম বিড়লা-র বিরুদ্ধে অনাস্থা প্রস্তাবে সই করবেন।
মঙ্গলবার সংসদ চত্বরে অভিষেক স্পষ্ট করেন, কংগ্রেসের উদ্যোগে আপত্তি নেই। তবে আগে INDIA bloc-ভুক্ত সব দলের যৌথ অবস্থান লিখিতভাবে জানাতে হবে। তাঁর প্রস্তাব—বিরোধীরা চার দফা দাবিতে একটি যৌথ চিঠি স্পিকারকে দেবেন। সেই চিঠির জবাব দিতে তাঁকে তিন দিনের সময় দেওয়া হোক। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে সদুত্তর না মিললে, তবেই শুক্রবার অনাস্থা প্রস্তাব আনা হোক।
অভিষেক বলেন, “স্পিকারের বিরুদ্ধে অনাস্থা প্রস্তাবে সই করতে আপত্তি নেই। কিন্তু আগে লিখিতভাবে চারটি বিষয় জানাতে হবে। তিন দিন সময় দিয়ে জবাব চাইতে হবে। তার পরেই অনাস্থা প্রস্তাব।” একই সঙ্গে তিনি ইঙ্গিত দেন, কংগ্রেস যদি মঙ্গলবারই তাড়াহুড়ো করে প্রস্তাব আনে, তৃণমূল তাতে সই করবে না।
বাজেট অধিবেশনে কক্ষ-সমন্বয় প্রশ্নে জাতীয় কংগ্রেস ও তৃনমূল -এর মধ্যে যে দূরত্ব তৈরি হয়েছে, তার প্রতিফলনই কি এই শর্ত? প্রশ্ন উঠতেই অভিষেক বলেন, “কংগ্রেস যেভাবে বলবে, তৃণমূল সেভাবে চলবে না। আমাদের স্বাধীন অবস্থান আছে।” উদাহরণ হিসেবে তিনি উল্লেখ করেন, কংগ্রেসের আট জন সাংসদকে স্পিকার যে নিলম্বিত করেছেন, সেই সিদ্ধান্ত প্রত্যাহারের দাবিতে আগে চিঠি দেওয়া হোক। তিন দিনের সুযোগ দেওয়া হোক—না মানলে তবেই অনাস্থা প্রস্তাব আনা উচিত। তাঁর কথায়, “এটাই নরেন্দ্র মোদীর সঙ্গে আমাদের পার্থক্য। ভুল করলে সংশোধনের সুযোগ দিতে হয়।”
রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, এই শর্তারোপ জাতীয় রাজনীতিতে তাৎপর্যপূর্ণ। কারণ, বাজেট অধিবেশনে তৃণমূল দেশের মুখ্য নির্বাচন কমিশনারের বিরুদ্ধে ইমপিচমেন্ট প্রস্তাব আনার বিষয়ে সক্রিয় হলেও, কংগ্রেস—বিশেষত রাহুল গান্ধী—সে বিষয়ে তেমন উৎসাহ দেখায়নি। সেই প্রেক্ষিতেই লোকসভা স্পিকারের বিরুদ্ধে কংগ্রেসের উদ্যোগে তৃণমূল শর্ত জুড়ে দিল এবং একই সঙ্গে INDIA জোটের সব দলকে যুক্ত করার কৌশল নিল—এমনটাই মত রাজনৈতিক মহলের একাংশের।










