দিল্লিতে ইন্ডিয়া জোটের বৈঠকের দিনই তৃণমূল কংগ্রেসে সম্ভাব্য ভাঙন নিয়ে রাজনৈতিক মহলে তীব্র জল্পনা শুরু হয়েছে। ৮ জুন রাজধানীতে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ বৈঠককে কেন্দ্র করে লোকসভা ও রাজ্যসভায় দলের অবস্থান নিয়ে নতুন সমীকরণ তৈরি হতে পারে বলে বিভিন্ন মহলে আলোচনা চলছে। যদিও দলীয় নেতৃত্ব বা সংশ্লিষ্ট সাংসদদের তরফে এখনও পর্যন্ত কোনও আনুষ্ঠানিক ঘোষণা হয়নি।
রাজনৈতিক সূত্রের দাবি, সপ্তাহান্তে কয়েকজন তৃণমূল সাংসদের সঙ্গে গুরুত্বপূর্ণ স্তরে আলোচনা হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। সেই বৈঠকগুলির পর লোকসভায় সাংগঠনিক পরিবর্তনের উদ্যোগ নেওয়া হতে পারে বলেও জল্পনা ছড়িয়েছে। এমনকি নতুন দলনেতা নির্বাচনের সম্ভাবনা নিয়েও আলোচনা শুরু হয়েছে রাজনৈতিক মহলে।


এই আবহে সম্ভাব্য নতুন মুখ হিসেবে কাকলি ঘোষ দস্তিদারের নাম সামনে এলেও তিনি নিজে সেই জল্পনা উড়িয়ে দিয়েছেন। তাঁর বক্তব্য, দলের ভিতরে মতপার্থক্য বা অসন্তোষ থাকতেই পারে, তবে যে ধরনের রাজনৈতিক সমীকরণের কথা বলা হচ্ছে, সে বিষয়ে তাঁর কাছে কোনও নির্দিষ্ট তথ্য নেই।
অন্যদিকে রাজ্যসভাতেও তৃণমূলের ভবিষ্যৎ অবস্থান নিয়ে প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে। প্রবীণ সাংসদ সুখেন্দুশেখর রায়ের সাম্প্রতিক মন্তব্য সেই জল্পনাকে আরও উসকে দিয়েছে। তিনি জানিয়েছেন, মানসিকভাবে তিনি দলের সঙ্গে আর একাত্ম নন, যদিও আনুষ্ঠানিকভাবে এখনও সদস্যপদ বজায় রয়েছে।
সুখেন্দুশেখর স্পষ্ট করেছেন, তাঁর সামনে বর্তমানে তিনটি সম্ভাব্য পথ খোলা রয়েছে— বর্তমান অবস্থায় থাকা, দল ছেড়ে দেওয়া অথবা সক্রিয় রাজনীতি থেকে সরে দাঁড়ানো। পরিস্থিতি এবং সময় বিবেচনা করেই তিনি ভবিষ্যতের সিদ্ধান্ত নেবেন বলে জানিয়েছেন।


এদিকে দলের অভ্যন্তরীণ বিতর্কে নতুন মাত্রা যোগ করেছেন রাজ্যসভার সাংসদ বাবুল সুপ্রিয়। সমাজমাধ্যমে তিনি ইঙ্গিতপূর্ণ বার্তায় জানিয়েছেন, কোনও নেতা বা জনপ্রতিনিধি যদি প্রকাশ্যে দলের অবস্থানের বিরুদ্ধে যান, তাহলে নৈতিকতার খাতিরে তাঁর নির্বাচিত পদ থেকেও সরে দাঁড়ানো উচিত।
অন্যদিকে তৃণমূল নেতৃত্বের পাশে দৃঢ়ভাবে দাঁড়িয়েছেন লোকসভার সাংসদ মহুয়া মৈত্র। তিনি জানিয়েছেন, দলের সর্বোচ্চ নেতৃত্বের উপর আস্থা রেখেই সংগঠন এগিয়ে যাবে। ব্যক্তিগত স্বার্থে দলবিরোধী অবস্থান গ্রহণকারীদের বিষয়ে শেষ কথা বলবেন জনগণই।
রাজনৈতিকভাবে ঘটনাচক্র আরও তাৎপর্যপূর্ণ হয়ে উঠেছে কারণ একই সময়ে দিল্লিতে উপস্থিত থাকার কথা রয়েছে প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়, তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় এবং পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীরও। ফলে জাতীয় রাজনীতির পাশাপাশি বাংলার রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ নিয়েও ৮ জুনের দিল্লি বিশেষ গুরুত্ব পেতে চলেছে।
তবে এখনও পর্যন্ত তৃণমূলে কোনও আনুষ্ঠানিক ভাঙনের ঘোষণা হয়নি। ফলে রাজনৈতিক মহলে জল্পনা যতই বাড়ুক না কেন, বাস্তবে কী ঘটতে চলেছে তা স্পষ্ট হবে আগামী কয়েক দিনের ঘটনাপ্রবাহেই। আপাতত ৮ জুনের দিল্লির দিকেই নজর রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের।
সবচেয়ে আগে সঠিক খবর, প্রতি মুহূর্তে
Google News এবং Google Discover-এ নজরবন্দি-কে Follow করে রাখুন।



