RBI-র সতর্কবার্তা! বাড়তে পারে মূল্যস্ফীতি, কোন পণ্যের দাম বাড়ার আশঙ্কা?

RBI মূল্যস্ফীতির পূর্বাভাস বাড়িয়ে ৫.১ শতাংশ করল। জ্বালানি, খাদ্যপণ্য, ইলেকট্রনিক্স, গাড়ি এবং নির্মাণ সামগ্রীর দামে বাড়তি চাপের আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।

নজরবন্দি ডিজিটাল ডেস্ক

মূল্যস্ফীতি নিয়ে নতুন সতর্কবার্তা দিল রিজার্ভ ব্যাঙ্ক অফ ইন্ডিয়া (RBI)। আগামী অর্থবর্ষে খরচের চাপ আরও বাড়তে পারে বলে ইঙ্গিত দিয়েছে কেন্দ্রীয় ব্যাঙ্ক। CPI ভিত্তিক মূল্যস্ফীতির পূর্বাভাস বাড়িয়ে ৫.১ শতাংশ করায় জ্বালানি থেকে শুরু করে খাদ্যপণ্য, গাড়ি এবং বাড়ি নির্মাণ— একাধিক ক্ষেত্রে মূল্যবৃদ্ধির আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।

তিন দিনের মুদ্রানীতি বৈঠক শেষে RBI গভর্নর সঞ্জয় মালহোত্রা জানান, আন্তর্জাতিক বাজারে কাঁচামালের দাম বৃদ্ধি এবং বৈশ্বিক অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তা আগামী দিনে মূল্যস্ফীতির উপর চাপ তৈরি করতে পারে। সেই কারণেই আগের তুলনায় মূল্যস্ফীতির পূর্বাভাস সংশোধন করেছে কেন্দ্রীয় ব্যাঙ্ক।

RBI-এর হিসাব অনুযায়ী, চলতি অর্থবর্ষে কোর ইনফ্লেশনও ৪.৭ শতাংশের আশেপাশে থাকতে পারে। বিশেষ করে বছরের দ্বিতীয়ার্ধে মূল্যবৃদ্ধির চাপ বেশি দেখা যেতে পারে বলে অনুমান করা হচ্ছে।

মুদ্রানীতি কমিটির পূর্বাভাস অনুযায়ী, প্রথম ত্রৈমাসিকে মূল্যস্ফীতি ৪.২ শতাংশ থাকলেও দ্বিতীয় ত্রৈমাসিকে তা বেড়ে ৫.১ শতাংশ হতে পারে। তৃতীয় ও চতুর্থ ত্রৈমাসিকে মূল্যস্ফীতির হার ৫.৯ শতাংশে পৌঁছানোর আশঙ্কা রয়েছে। উৎসবের মরশুমে চাহিদা বৃদ্ধিও এই প্রবণতাকে আরও উস্কে দিতে পারে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, মূল্যস্ফীতি বাড়লে প্রথম ধাক্কা আসতে পারে জ্বালানি খাতে। আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম বাড়লে পেট্রোল, ডিজেল এবং রান্নার গ্যাসের দাম বৃদ্ধির সম্ভাবনা তৈরি হবে। এর সরাসরি প্রভাব পড়বে সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন খরচে।

জ্বালানির মূল্যবৃদ্ধির প্রভাব পরিবহণ খরচেও পড়তে পারে। ফলে ফল, সবজি, শস্য এবং অন্যান্য নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের বাজারদর বেড়ে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। খাদ্যদ্রব্যের মূল্যবৃদ্ধি মধ্যবিত্ত ও নিম্নবিত্ত পরিবারের বাজেটে অতিরিক্ত চাপ তৈরি করতে পারে।

রেস্তোরাঁ এবং হোটেল শিল্পও মূল্যবৃদ্ধির চাপে পড়তে পারে। বাণিজ্যিক গ্যাসের দাম বাড়লে খাবার প্রস্তুতের খরচ বাড়বে, যার প্রভাব শেষ পর্যন্ত গ্রাহকদের বিলের উপর পড়তে পারে।

এছাড়া লোহা, তামা ও অ্যালুমিনিয়ামের মতো বেস মেটালের দাম বৃদ্ধি পেলে ইলেকট্রনিক পণ্য, গাড়ি এবং বিভিন্ন ভোগ্যপণ্যের উৎপাদন খরচ বেড়ে যেতে পারে। ফলে বাজারে এই ধরনের পণ্যের দামও ঊর্ধ্বমুখী হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

নির্মাণ শিল্পেও এর প্রভাব পড়তে পারে। সিমেন্ট, স্টিল ও অন্যান্য নির্মাণ সামগ্রীর দাম বাড়লে বাড়ি নির্মাণ, ফ্ল্যাট কেনা কিংবা সংস্কারের খরচও উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পেতে পারে।

তবে RBI স্পষ্ট করেছে, বর্তমানে আতঙ্কিত হওয়ার মতো পরিস্থিতি তৈরি হয়নি। কেন্দ্রীয় ব্যাঙ্কের মতে, মূল্যস্ফীতি সংক্রান্ত ঝুঁকি এখনও নিয়ন্ত্রণের মধ্যেই রয়েছে এবং সরকার ও RBI যৌথভাবে পরিস্থিতির উপর নজর রাখছে।

সব মিলিয়ে, মূল্যস্ফীতির পূর্বাভাস বৃদ্ধি সাধারণ মানুষের খরচের উপর বাড়তি চাপের ইঙ্গিত দিলেও পরিস্থিতি এখনও নিয়ন্ত্রণের বাইরে নয়। আগামী কয়েক মাসে আন্তর্জাতিক বাজার, জ্বালানির দাম এবং চাহিদা-সরবরাহের ভারসাম্যের উপরই নির্ভর করবে মূল্যবৃদ্ধির প্রকৃত চিত্র।

সবচেয়ে আগে সঠিক খবর, প্রতি মুহূর্তে

Google News Google News এবং Google Discover Google Discover -এ নজরবন্দি-কে Follow করে রাখুন।

সদ্য প্রকাশিত

এই ক্যাটেগরির আরও খবর