“সংসদকে পার্টি অফিস বানাবেন না”, স্পিকারের বিরুদ্ধে অনাস্থা বিতর্কে রাহুলের পাশে তৃণমূল

লোকসভায় স্পিকার ওম বিড়লার বিরুদ্ধে অনাস্থা প্রস্তাব নিয়ে তীব্র বিতর্কে রাহুল গান্ধীর অভিযোগ—বিরোধীদের কথা বলতে দেওয়া হচ্ছে না, তৃণমূল সাংসদ সায়নী ঘোষের কড়া আক্রমণ

নজরবন্দি ডিজিটাল ডেস্ক

লোকসভায় স্পিকার ওম বিড়লার বিরুদ্ধে বিরোধীদের আনা অনাস্থা প্রস্তাব নিয়ে বুধবার তীব্র রাজনৈতিক উত্তাপ ছড়াল। বিতর্কের মাঝেই বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধীর অভিযোগ—বিরোধীদের কথা বলতে দেওয়া হচ্ছে না। আর সেই সুরেই সরব হল তৃণমূল কংগ্রেস। তৃণমূল সাংসদ সায়নী ঘোষ সরাসরি সরকারপক্ষকে আক্রমণ করে বলেন, “সংসদকে পার্টি অফিস বানিয়ে ফেলবেন না।” বিরোধী শিবিরের এই সম্মিলিত আক্রমণে সংসদের পরিবেশ আরও উত্তপ্ত হয়ে ওঠে।

লোকসভায় স্পিকারের বিরুদ্ধে বিরোধীদের অনাস্থা প্রস্তাব ঘিরে দ্বিতীয় দিনের বিতর্কে রাজনৈতিক সংঘাত আরও তীব্র হয়। বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধী অভিযোগ করেন, সংসদে বিরোধী সদস্যদের বক্তব্য রাখতে গেলে বারবার বাধা দেওয়া হচ্ছে। তাঁর কথায়, “লোকসভা কোনও এক দলের সম্পত্তি নয়, এটি সমগ্র দেশের সংসদ। কিন্তু আমরা যখনই দাঁড়িয়ে কথা বলতে যাই, আমাদের থামিয়ে দেওয়া হয়।”

এই প্রসঙ্গেই তৃণমূল কংগ্রেসের সাংসদ সায়নী ঘোষ আরও কড়া ভাষায় কেন্দ্রীয় সরকার ও স্পিকারের ভূমিকার সমালোচনা করেন। যাদবপুরের সাংসদ বলেন, সংসদে কার্যত গণতান্ত্রিক পরিবেশ ক্রমশ সংকুচিত হচ্ছে। বিরোধী সদস্যদের কণ্ঠরোধ করা হলে সাধারণ মানুষের সমস্যার কথা কী ভাবে সংসদে তুলে ধরা সম্ভব—সেই প্রশ্নও তোলেন তিনি।

সায়নী অভিযোগ করেন, সংসদ ধীরে ধীরে নীতি নির্ধারণের মঞ্চ থেকে সরে গিয়ে যেন “বিজ্ঞাপনী মঞ্চে” পরিণত হচ্ছে। সরকারপক্ষের উদ্দেশে তাঁর মন্তব্য, “সংসদকে পার্টি অফিস বানিয়ে ফেলবেন না।”

অন্যদিকে বিজেপি নেতা রবিশঙ্কর প্রসাদ স্পিকারের বিরুদ্ধে অনাস্থা প্রস্তাবকে “বেদনাদায়ক” বলে উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, স্পিকারের পদকে কোনও রাজনৈতিক অহঙ্কার তৃপ্তির হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করা উচিত নয়। একই সঙ্গে তিনি বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধীকে জাতীয় নিরাপত্তার মতো স্পর্শকাতর বিষয়ে সংযত ভাষায় কথা বলার পরামর্শ দেন।

এর জবাবে রাহুল গান্ধী বলেন, সংসদে বিরোধীদের কণ্ঠস্বর দমিয়ে রাখা হলে গণতন্ত্রেরই ক্ষতি হয়। তাঁর অভিযোগ, বিরোধীদের বক্তব্য বারবার থামিয়ে দেওয়া হচ্ছে।

বিতর্কের সময় সায়নী ঘোষ বিশেষ করে রাহুল গান্ধী এবং সমাজবাদী পার্টির নেতা অখিলেশ যাদবের বক্তব্যে বাধা দেওয়ার প্রসঙ্গ তুলে ধরেন। তাঁর দাবি, সংসদে বিরোধী নেতাদের বক্তব্য রাখতে গেলে নানা বিধিনিষেধ আরোপ করা হচ্ছে।

তিনি আরও বলেন, বাজেট প্রক্রিয়াতেও বহু পরিবর্তন হয়েছে—রেল বাজেট বন্ধ করা হয়েছে, গুরুত্বপূর্ণ বিল গভীর রাতে পেশ করা হচ্ছে। পাশাপাশি তিনি অভিযোগ করেন, কিছু ক্ষেত্রে নিয়মের ভিন্ন প্রয়োগ দেখা যাচ্ছে।

প্রসঙ্গত, চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে বাজেট অধিবেশনের সময় প্রাক্তন সেনাপ্রধান মনোজ নরবণের একটি অপ্রকাশিত বই থেকে উদ্ধৃতি দিতে গেলে রাহুল গান্ধীকে বাধা দেন স্পিকার ওম বিড়লা। সংসদীয় বিধির কথা উল্লেখ করে তিনি জানান, বই বা সংবাদপত্র থেকে উদ্ধৃতি দেওয়া যাবে না।

কিন্তু বিরোধীদের অভিযোগ, পরে বিজেপি সাংসদ নিশিকান্ত দুবে তাঁর বক্তব্যে একাধিক বই থেকে উদ্ধৃতি দিলেও সেখানে স্পিকারের পক্ষ থেকে কোনও বাধা আসেনি। এই ঘটনাকেই কেন্দ্র করে স্পিকারের নিরপেক্ষতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে বিরোধী শিবির।

সবচেয়ে আগে সঠিক খবর, প্রতি মুহুর্তে। আমাদের ফলো করুন
Google News Google News

সদ্য প্রকাশিত