জুনিয়র চিকিৎসকদের আন্দোলনের নেপথ্যে রাজনীতি রয়েছে! বুধবার বিকেলে একটি সাংবাদিক বৈঠক করে এরকমই বলেন রাজ্যের স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী চন্দ্রিমা ভট্টাচার্য। আর তাঁর এই মন্তব্যকে কেন্দ্র করে তৈরি হয়েছে বিতর্ক। “আমাদের এই আন্দোলন সম্পূর্ণ অরাজনৈতিক”, বলে জানিয়েছেন জুনিয়ার চিকিৎসক ফ্রন্টের প্রতিনিধি অনিকেত মাহাতো।
মঙ্গলবার দুপুর ৩টে থেকে স্বাস্থ্য ভবনের সামনে অবস্থানে বসেছিলেন জুনিয়র চিকিৎসকেরা। তারপরেই নবান্নের তরফে আলোচনার আহ্বান জানিয়ে ইমেইল পাঠানো হয়েছিল আন্দোলনরত চিকিৎসকদের। কিন্তু সেই ইমেইলের ভাষা ‘অপমানজনক’ বলে দাবি করেন জুনিয়র চিকিৎসক ফ্রন্টের আন্দোলনরত চিকিৎসকেরা। যে কারণে তাঁরা আলোচনায় না গিয়ে সারারাত বসে থাকেন স্বাস্থ্য ভবনের সামনে। চলে স্লোগান ও প্রতিবাদ। পাশে দাঁড়ান সাধারণ মানুষও।
নিজেদের দাবিদাওয়া নিয়ে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে পাল্টা ইমেইল করেন আন্দোলনকারীরা। সেই ইমেইলে তাঁরা মোট পাঁচটি দাবির কথা তুলে ধরেছেন। এক, নির্যাতিতার দ্রুত বিচার। দুই, স্বাস্থ্য সচিব, স্বাস্থ্য শিক্ষা অধিকর্তা এবং স্বাস্থ্য অধিকর্তার অপসারণ। তিন, বিনীত গোয়েলকে পুলিশ কমিশনারের পর থেকে অপসারণ। ডিসি নর্থ এবং ডিসি সেন্ট্রালের বিরুদ্ধে শৃঙ্খলাভঙ্গের অভিযোগে পদক্ষেপগ্রহণ। চার, সমস্ত সরকারি হাসপাতালগুলিতে পর্যাপ্ত নিরাপত্তাব্যবস্থা সুনিশ্চিত করা। পাঁচ, হাসপাতালের কমিটিগুলোতে পড়ুয়া জুনিয়র চিকিৎসক এবং অন্যান্য চিকিৎসকদের গণতান্ত্রিক উপায়ে প্রতিনিধিত্ব করার পদ্ধতি নিয়ে আলোচনা।
নবান্নের তরফে ১০ থেকে ১৫ জনের প্রতিনিধি দলকে বৈঠকে অংশ নেওয়ার জন্য আহ্বান জানানো হয়। কিন্তু তাতে রাজি হন না আন্দোলনরত চিকিৎসকেরা। তাঁদের দাবি, ৩০ জন প্রতিনিধিকে আলোচনায় অংশ নিতে দিতে হবে এবং তা ভিডিয়ো কনফারেন্সের মাধ্যমে জনসমক্ষে আনতে হবে। কিন্তু নবান্নের তরফে এই শর্তকে কার্যত মান্যতা দেওয়া হল না।
এদিনের সাংবাদিক বৈঠকে চন্দ্রিমা ভট্টাচার্য বলেন, “আমরা খোলা মনে আলোচনা চেয়েছিলাম। গতকাল থেকে এই নিয়ে টানাটানি চলছে। সাধারণ মানুষ সবটাই দেখতে পারছেন। মুখ্যমন্ত্রী খোলা মনে আলোচনা চেয়েছিলেন। কিন্তু শর্ত চাপিয়ে দিলে খোলা মনে আলোচনা করা সম্ভব নয়। রাত ৩টে বেজে ৪৫ মিনিটে মুখ্যমন্ত্রীর দপ্তরে ইমেইল পাঠাচ্ছেন চিকিৎসকেরা। আমাদের মনে হয় এর নেপথ্যে নিশ্চয়ই রাজনীতি রয়েছে। আমরা ভেবেছিলাম সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশকে তাঁরা মান্যতা দেবেন। কিন্তু তাঁর কোনটাই হয়নি।”
পাল্টা আন্দোলনরত চিকিৎসকদের প্রতিনিধি অনিকেত মাহাতো বলেন, “প্রত্যেকের নিজস্ব একটা রাজনীতি রয়েছে। কিন্তু এই আন্দোলন সম্পূর্ণভাবে অরাজনৈতিক। কোনও রাজনৈতিক দলের তরফ থেকে আমরা সাহায্য নেইনি। কিন্তু এটা তো শুধুমাত্র আমরা কয়েকজন গিয়ে সমঝোতা করলে হবে না। মোট ২৬টা সরকারি হাসপাতাল রয়েছে। প্রত্যেক হাসপাতালের প্রতিনিধিরা আলোচনায় অংশ নেবেন সেটাই স্বাভাবিক। আমরা সমঝোতা নয়, সমাধান চাই।”



