নজরবন্দি ব্যুরোঃ চূড়ান্ত সাফল্যের শেষ ধাপে কোভ্যাক্সিন। ইতিহাসের দোরগোড়ায় ভারত। প্রথম এবং দ্বিতীয় ধাপ সাফল্যের সাথে উতরে যাওয়ার পর চূড়ান্ত পর্যায়ের দিনক্ষন স্থির হয়ে গেল। আগামী ১৫ই অক্টোবর শুরু হবে দেশি টিকা কোভ্যাক্সিনের চূড়ান্ত পর্যায়ের ট্রায়াল। জানিয়ে দিল আইসিএমআর। পাঞ্জাবের ৩ টি মেডিক্যাল কলেজ কে ট্রায়াল চালানোর অনুমতি দিয়েছে আইসিএমআর।
আরও পড়ুনঃ মধ্যবিত্তের জন্যে সুখবর। কোভিড আবহে এই প্রথম এতটা কমল সোনার দাম।
কদিন আগে সংবাদ সংস্থা পিটিআই সূত্রে খবর পাওয়া গেছিল ভার্গব জানিয়েছেন, ভারতে তৈরি দুটি করোনা প্রতিষেধকের দ্বিতীয় ধাপের ক্লিনিক্যাল ট্রায়াল প্রায় শেষ। কেন্দ্রীয় সরকার চাইলে এখনই তাঁদের ছাড়পত্র দিতে পারে। অর্থাত্ ভ্যাকসিন প্রস্তুত চাইলে তা মানবজাতীর কল্যানে ব্যাবহার করা যেতে পারে।
কিছুদিন আগে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকের সংসদীয় স্থায়ী কমিটির বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন ICMR এর ডিজি বলরাম ভার্গব। ওই বৈঠকে হাজির থাকা এক সাংসদ পিটিআই কে জানিয়েছেন, ভার্গবকে বৈঠকে প্রশ্ন করা হয়েছিল, কত দিন করোনা ভাইরাসে ভয় মাথায় নিয়ে থাকতে হবে মানুষকে? জবাবে ভার্গব জানান, দেশে তৈরি দু’টি করোনা প্রতিষেধকের দ্বিতীয় পর্যায়ের ক্লিনিক্যাল ট্রায়াল শেষের পথে। তাই কেন্দ্রীয় সরকার চাইলে এখনই টিকা গুলিকে অনুমোদন দিতে পারে।
চূড়ান্ত সাফল্যের শেষ ধাপে কোভ্যাক্সিন। এই দুটি প্রতিষেধক হল ভারত বায়োটেক এবং জাইডাস ক্যাডিলার ভ্যাকসিন। পাশাপাশি অক্সফোর্ডের টিকার চূড়ান্ত অর্থাত্ তৃতীয় পর্যায়ের ট্রায়াল করছে সিরাম ইনস্টিটিউট। ভারতের করোনা টিকা কোভ্যাক্সিন নিরাপদ বলে আগেই সুখবর দিয়েছে ভারত বায়োটেক। জানা গিয়েছে করোনা ভাইরাসের টিকায় নজিরবিহীন সাফল্য পেতে চলেছে ভারত। আইসিএমআর ও ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব ভাইরোলজির সাহায্য নিয়ে এই টিকা তৈরি করেছে হায়দরাবাদের ওষুধ প্রস্তুতকারী সংস্থা ভারত বায়োটেক। টিকার নাম দেওয়া হয়েছে কোভ্যাক্সিন।
যদিও পরীক্ষামূলক প্রয়োগের সম্পূর্ণ ফল এখনও আসেনি। তবুও প্রথম পর্যায়ের ক্লিনিক্যাল ট্রায়াল সফল এবং এই টিকা নিরাপদ বলে দাবি করেছেন গবেষকরা। প্রথম ধাপে কোভ্যাক্সিনের পরীক্ষামূলক প্রয়োগ করা হয়েছে দেশের ১২ টি যায়গায়। মোট ৩৭৫ জন স্বেচ্ছাসেবক কোভ্যাক্সিনের ডোজ নিয়েছেন। এই ৩৭৫ জন স্বেচ্ছাসেবককে টিকার দুটি ডোজ করে ডোজ প্রয়োগ করা হয়। দুবারই কোভ্যাক্সিনের .৫ এমএল ডোজ প্রয়োগ করা হয়।
টিকা প্রকল্পের দায়িত্বে থাকা অন্যতম চিকিত্সক সবিতা বর্মা জানিয়েছেন, এই টিকা নিরাপদ। তাঁর কথায় “যে সব স্বেচ্ছাসেবক টিকা নিয়েছেন, তাঁদের মধ্যে এখনও পর্যন্ত আমরা কোনও বিরূপ প্রতিক্রিয়া পাইনি।”



