নজরবন্দি ব্যুরোঃ বিপর্যস্ত ভারত, করনার দ্বিতীয় ঢেউ যেভাবে আছড়ে পড়েছে গোটা দেশে তাতে পরিস্থিতি সামাল দিতে হিমসিম খাচ্ছে সকলে। দিনে দিনে বাড়ছে আক্রান্তের সংখ্যা। দেশ জুড়ে হাহাকার অক্সিজেনের, শেষ হয়ে আসছে হাসপাতালের বেড। আর পাল্লাদিয়ে বাড়ছে সক্রমিতের সংখ্যা। রাস্তায় অক্সিজেন সিলিণ্ডার লাগিয়ে শুয়ে আছেন যুবক এই দৃশ্য পুরনো হয়ে গেলো, গণচিতার ছবি আর হাহাকার মানুষের সঙ্গী।
আরও পড়ুনঃ করোনার খালি শয্যা থেকে ভর্তি, সব আপডেট নিয়ে অনলাইন পরিষেবা চালু রাজ্যে


পরিস্থিতি ক্রমশই ভয়ঙ্কর থেকে আরও ভয়ঙ্কর হচ্ছে ৷ দেশে বেড়েই চলেছে করোনা আক্রান্তের সংখ্যা ৷ বাড়ছে মৃত্যু মিছিলও। কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্যমন্ত্রকের রিপোর্ট অনুযায়ী, গত ২৪ ঘণ্টায় ভারতে কোভিডে আক্রান্ত ৩,৭৯,২৫৭ জন ৷ মৃত্যু হয়েছে ৩৬৪৫ জনের ৷ দেশের এই ভয়ানক পরিস্থিতির জন্য সু্পার স্প্রেডার হিসেবে নরেন্দ্র মোদিকেই দায়ী করলেন ইন্ডিয়ান মেডিক্যাল অ্যাসোসিয়েশনের ভাইস প্রেসিডেন্ট ডা. নভজ্যোত দাহিয়া। কারন হিসেবে তিনি দেশের এই সংকটময় পরিস্থতিতে প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক কার্যাবলী এবং মিটিং মিছিল সভার কথা তুলে ধরেছেন।
নভজ্যোত দাহিয়ার মতে এই কঠিন পরিস্থিতিতে দেশের চিকিৎসক মহল নিজেদের প্রাণ দিয়ে চেষ্টা করছেন সকলকে সুস্থ করার, তখন দেশের প্রধানমন্ত্রী হয়ে কোন রকম দায়ীত্ব পালন না করে রাজনৈতিক মিছিল করে সংক্রমণ বাড়িয়ে তুলছেন তিনি। তাঁর অভিযোগ, “করোনায় সুরক্ষাবিধি সম্পর্কে সাধারণ মানুষকে সচেতন করতে ঝাঁপিয়ে পড়েছেন চিকিৎসকরা। অথচ কোনওরকম দ্বিধা না করে সমস্ত কোভিডবিধি ভেঙে রাজনৈতিক সমাবেশ করেছেন প্রধানমন্ত্রী।”
সঙ্গে তিনি এও বলেন দেশের স্বাস্থ্য পরিকাঠামো তৈরিতে প্রধানমন্ত্রী ‘ব্যর্থ’ হয়েছেন। উদাহরন হিসেবে কোভিডের প্রথম ঢেউয়ের সময় এবং তার এক বছর পরেও দেশের স্বাস্থ্য কাঠামোর কোন উন্নতি না করাকেও কটাক্ষ করেছেন। IMA প্রেসিডেন্টের মতে, ‘২০২০ সালে দেশে যখন প্রথম করোনা আক্রান্তের হদিশ মিলেছিল তখন প্রধানমন্ত্রী মার্কিন প্রেসিডেন্টের অনুষ্ঠানের ব্যস্ত ছিলেন। গত এক বছর ধরে দেশের স্বাস্থ্য পরিকাঠামো তৈরি করতেও কোনও উদ্যোগ নেয়নি কেন্দ্র।’


বিপর্যস্ত ভারত, করোনার সুপার স্প্রেডার হিসেবে মোদিকেই দায়ী করলেন IMA প্রেসিডেন্ট। তিনি আরও অভিযোগ করেছেন, দেশের অক্সিজেন প্ল্যান্ট তৈরির কাজও আটকে রয়েছে কেন্দ্রের অনুমতি না মেলায়। প্রসঙ্গত করোনার প্রকপের মধ্যেই চলছে বাংলার ২১ এর নির্বাচন। আজ তার শেষ দিন। কিন্তু এতোদিন যাবত রাজ্য জুড়ে চলেছে মিটিং মিছিল সভা। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে শেষ মুহুর্তে এসবে বাধা এনেছিল নির্বাচন কমিশন। তার আগে কেন্দ্র থেকে একাধিক নেতা-মন্ত্রী নিয়ম করে বাংলায় এসে সভা মিছিল করে গেছেন। রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী এই বিষয়ে এর আগেও একাধিক বার অভিযোগ করেছিলেন এভাবে বাইরের থেকে নেতা মন্ত্রী আসায় রাজ্যে ছড়াচ্ছে কোভিড। তিনি বাংলার এই করোনার বাড়বাড়ন্তকে ‘মোদি মেড’ বলেও আখ্যা দিয়েছিলেন।







