নজরবন্দি ব্যুরোঃ শুনানি চলছে নন্দীগ্রাম মামলার, গত ১৮ তারিখে মামলার শুনানি থাকলেও তা পিছিয়ে গিয়ে ডেট পড়েছিল ২৪ তারিখ, অর্থাৎ আজকে। সেই মতো শুরু হয়েছে নন্দীগ্রাম মামলার শুনানি। ভার্চুয়ালি যোগ দিয়েছেন রাজ্যের বর্তমান মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ও। তাঁর হয়ে আদালতে সওয়াল করছেন আইনজীবী অভিষেক মনু সিঙ্ঘভি। যিনি এর আগেই নারইদ মামলায় হেভিওয়েটদের হয়ে লড়েছিলেন।
আরও পড়ুনঃ ভোট পরবর্তী হিংসা বাংলায়, রিপোর্ট তৈরিতে রাজ্যে এল জাতীয় মানবাধিকার কমিশনের কমিটি
রাজ্যে এবারের বিধানসভা নির্বাচনে গোটা দেশের নজর ছিল নন্দীগ্রামে। যেখানে মুখোমুখি যুদ্ধে নেমেছিলেন দুই হেভিওয়েট মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ও শুভেন্দু অধিকারী। গোটা রাজ্যে সিংহভাগ আসন জিতে তৃতীয়বারের জন্য ক্ষমতায় ফিরলেও নন্দীগ্রামে হেরে যান মুখ্যমন্ত্রী মমতা। ২রা মে সকালবেলা গননা শুরুর পর থেকেই সাপলুডোর খেলা চলতে থাকে সেখানে। একবার শুভেন্দু এগিয়ে যাচ্ছেন তো একবার তৃনমূল সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।
শুভেন্দু অধিকারীকে জয়ী ঘোষণা করেন রিটার্নিং অফিসার। গোটা বিষয়টি নিয়ে কারচুপির অভিযোগ তোলে তৃণমূল। আর তা নিয়েই হাইকোর্টের দ্বারস্থ হন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। সবাই ভেবেছিল নন্দীগ্রামের মহা সংগ্রাম শেষ হয়েছে। কিন্তু মুখ্যমন্ত্রীর করা মামলা বুঝিয়ে দিল এক ইঞ্চি জমিও ছাড়তে নারাজ তিনি।
গত ১৮ তারিখ বিচারপতি কৌশিক চন্দের এজলাসে হওয়ার কথা ছিল সেই মামলার শুনানি। তবে তা পিছিয়ে দেওয়া হয়েছিল। নির্ধারিত দিন অনুযায়ী আজ হচ্ছে অই মামলার শুনানি। ১৯৫১ সালের জনপ্রতিনিধিত্ব আইনের ৮০, ৮০এ, ৮১, ১০০ এবং ১২৩ ধারায় মামলা করা হয়েছে ৷ কিন্তু ঠিক কোন যুক্তিতে এই মামলা? তৃণমূলের পয়েন্ট, ১) গণনার সময় কেন্দ্রে আচমকাই দুঘণ্টার জন্য সার্ভার চলে গিয়েছিল। যার ফলে ফলাফল আপডেট হচ্ছিল না। ২) প্রথমে ১২০০ ভোটে জয়ী ঘোষণার পরও নতুন করে গণনায় শুভেন্দুকে জয়ী ঘোষণা করা হয়। কেন?
৩) পোস্টাল ব্যালটের ভোট যদি মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় একটিও না পান সেক্ষেত্রেও তাঁর ৮০০ ভোটে জয়ী হওয়ার কথা। কারণ নন্দীগ্রামে পোস্টাল ব্যালট ছিল মাত্র ৪০০ টি!! ৪) প্রথমে মমতা এবং পরে শুভেন্দুকে জয়ী ঘোষণা করার পর রাজনৈতিক চাঞ্চল্য তৈরী হয়। আবার গণনার দাবি জানায় তৃণমূল। কিন্তু সেই আবেদনে কর্ণপাত করেনি কমিশন। রিটার্নিং অফিসারের ভূমিকা নিয়েও মামলায় প্রশ্ন তোলা হয়েছে।
শুনানি চলছে নন্দীগ্রাম মামলার, বিচারপরি কোশিক চন্দের এজলাসে উঠেছে এই মামলা। তাতে আগে থেকেই আপত্তি তুলেছিল শাসক দল, কিন্তু তা খারিজ করে তাঁর এজলাসেই হচ্ছে এই মামলার শুনানি। শুনানির শুরুতেই অভিষেক জানিয়েন পুনরায় গণনায় মত দেওয়া হয়নি বলেই আদালতে এই মামলা করা হয়েছে শাসক দলের পক্ষ থেকে। এবং তিনি যে মামলার শুনানি চালিয়ে যেতে চান তাও স্পষ্ট করে জানান তিনি। তার পরেই শুনানিতে ভার্চুয়ালি যোগ দেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।








