স্বপ্নভঙ্গের সিঙ্গুরে স্বপ্নপূরণের অঙ্গীকার, বার্তাবহ বিপুল জমায়েত বামেদের।

নজরবন্দি ডিজিটাল ডেস্ক

অর্ক সানাঃ স্বপ্নভঙ্গের সিঙ্গুরে স্বপ্নপূরণের অঙ্গীকার, বিপুল জমায়েতের মধ্যে কারখানার দাবিতে প্রতীকী শিলান্যাস করলেন বাম পরিষদীয় দলনেতা সুজন চক্রবর্তী। একদা হুগলীর সিঙ্গুর থেকেই বাম জমানার পতনের শুরু হয়। কৃষি আমাদের ভিত্তি শিল্প আমাদের ভবিষ্যৎ, এই স্লোগান কে সামনে রেখে ২০০৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনে বিপুল আসন জিতে বাংলার মসনদে টানা সপ্তমবারের জন্যে আসীন হয় বামফ্রন্ট। মুখ্যমন্ত্রী হন বাম্ফ্রন্টের ব্র্যাণ্ড বুদ্ধ। কে জানত তখন এই বিপুল জয় আসনে সমূলে উৎখাতের ইঙ্গিত!

আরও পড়ুনঃ মমতার ধর্মনিরপেক্ষতায় আস্থা! তৃণমূলে যোগ দিলেন মুকুল রায়ের শ্যালক

আজ সেই সিঙ্গুরেই বিপুল জনসমাগমে ঘুরে দাঁড়ানোর ডাক দিলেন সুজন চক্রবর্তী। সিঙ্গুরের সভায় বামেদের এত সমর্থক এল কোত্থেকে তা নিয়ে বেশ চিন্তায় পড়েছে গেরুয়া ব্রিগেড। বাম যুব সংগঠনের নবান্ন অভিযানের প্রস্তুতি হিসেবে শিল্পের দাবিতে এদিনের ভরাসভায় শিল্পের দাবীতে প্রতীকী শিলান্যাস করেন সুজন চক্রবর্তী।

উল্লেখ্য, তৎকালীন টাটাগোষ্ঠীর চেয়ারম্যান রতন টাটা, ভারাক্রান্ত হৃদয়ে সিঙ্গুর থেকে ন্যানো কারখানা সরিয়ে নেওয়ার আগে বলেন, মমতার জন্যেই সিঙ্গুর ছাড়লাম। সেদিন রতন টাটা বলেছিলেন, “ভেবেছিলাম মাথায় বন্দুক ঠেকালেও যাবনা, কিন্তু উনিতো ট্রিগার টিপে দিলেন!” এই সেই সিঙ্গুর, ন্যানোহীন সিঙ্গুর। যেখানে মমতা বন্দোপাধ্যায়ের আন্দোলনের সাথে তাঁর ছায়াসঙ্গী ছিলেন মুকুল রায়, লকেট চট্টোপাধ্যায়রা। মমতার অনশন ভাঙাতে সিঙ্গুরে আসেন বিজেপির সর্বভারতীয় নেতা রাজনাথ সিং।

রাজ্যের বর্তমান মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বে যখন সিঙ্গুর আন্দোলন হয়েছিল, তখন তৃণমূলে সামনের সারির নেতা তথা নাম্বার টু ছিলেন মুকুল রায়। সিঙ্গুর আর নন্দীগ্রামের আন্দোলন যে তৃণমূলের পায়ের তলায় জমি এনে সিপিআইএমের পায়ের তলার জমি কেড়ে নিয়েছিল তা বলাই বাহুল্য। কিন্তু এখন মুকুল, লকেট, শুভেন্দুরা শিবির বদলেছেন। তাঁরা এখন বিজেপি নেতা। এখন প্রায়শই তাঁদের বলতে শোনা যায় সিঙ্গুর আন্দোলন ভুল ছিল।

কদিন আগে সিঙ্গুরের বুকে দাঁড়িয়ে লকেট চট্টোপাধ্যায় কে পাশে নিয়ে মুকুল বলেন, “যেভাবে আন্দোলন করে মমতা টাটাকে তাড়িয়েছে, তাতে সারা দেশ বাংলার সম্পর্কে জেনে গেছে। তাই পাপ বোধ হয়। অন্যায় হয়েছিল। ভুল করেছিলাম। তবে লকেট সাংসদ হওয়ায় পাপ বোধ কিছুটা কমেছে।” বলা ভাল সাংসদ হিসেবে লকেট এই কেন্দ্র থেকে প্রায় ১০ হাজার ভোটে লিড পেয়েছিলেন বিজেপি-র প্রতীকে। রেডফোর্স কার্যত ঘর উজাড় করে ভোট শতাংশ বাড়িয়েছিল গেরুয়া বাহিনীর। কিন্তু লোকসভা নির্বাচন এখন অতীত, যেভাবে বামেদের সভাগুলোতে জন-সমাগম হচ্ছে তাতে যথেষ্ট চিন্তায় রয়েছে বিজেপি নেতৃত্ব। বলা যায় না ৭ শতাংশের বাম যদি টেনে টুনে ১৪ শতাংশে উঠে আসে তাহলে…

সবচেয়ে আগে সঠিক খবর, প্রতি মুহূর্তে

Google News Google News এবং Google Discover Google Discover -এ নজরবন্দি-কে Follow করে রাখুন।

সদ্য প্রকাশিত

এই ক্যাটেগরির আরও খবর