নজরবন্দি ব্যুরোঃ নিয়োগের বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের পরেও ফের টেট নিয়োগ ঘিরে আইনি জটিলতা। সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশের পর ফের কলকাতা হাইকোর্টের ডিভিশন বেঞ্চে গড়াল মামলা। কিন্তু ভার্চুয়াল মাধ্যমে দীর্ঘ শুনানি সম্ভব নয়। তাই পরবর্তী শুনানি ফেব্রুয়ারি মাসে। ফের নিয়োগ ঘিরে অনিশ্চয়তা দেখা দিতে শুরু করেছে।
আরও পড়ুনঃ সপ্তাহে তিনদিন কলকাতায় নামবে দিল্লি ও মুম্বইয়ের বিমান, জানিয়ে দিল রাজ্য


‘৬টি প্রশ্ন ভুল-মামলায় ত্রুটি শোধরাবে বোর্ডই’। অভিযোগ সেল খুলে ত্রুটি শোধরানোর প্রস্তাব প্রাথমিক শিক্ষা পর্ষদের। ২০১৪-র টেটের খাতা পুনর্মূল্যায়নের ত্রুটি জানাতে পারবেন পরীক্ষার্থীরা। ১৫ দিনের মধ্যে অভিযোগের নিষ্পত্তির আশ্বাস দিয়েছিল বোর্ড। ১৫ দিনের মধ্যে ত্রুটি শোধরাবে বোর্ডই। বোর্ডের অনলাইন পোর্টালে জানানো যাবে ত্রুটি। পরে বোর্ডের তরফে জানানো হয়েছিল ‘নম্বর দেওয়া ও প্রার্থী বাছাইয়ের ক্ষেত্রে কিছু ত্রুটি থেকে গেছে’। হাইকোর্টে বিস্ফোরক স্বীকারোক্তি প্রাথমিক শিক্ষা পর্ষদের। ফলে নিয়োগ ঘিরে আবারও জটিলতা দেখা দেয়।
২০১৪ সালের টেট পরীক্ষায় ৬ টি প্রশ্ন ভুল ছিল। টেট ২০১৪ পর্বে দুটি ধাপে নিয়োগ হয়েছে। প্রথমটি হয়েছিল ২০১৬ সালে এবং পরবর্তী হয়েছিল ২০২০ সালে। নিয়োগ হলেও ছটি প্রশ্ন ভুল থাকার কারণে ২০১৭ সালে মামলা দায়ের হয়। ২০১৮ সালে ৩ অক্টোবর কলকাতা হাইকোর্টের বিচারপতি সমাপ্তি চট্টোপাধ্যায়ের এজলাসে মামলার শুনানি চলে। সেখানে বিচারপতি নির্দেশ দেন, আবেদনকারীদের ছটি প্রশ্ন ভুলের মূল্যায়ন করতে হবে। সেক্ষেত্রে যদি পাশ করে তাহলে তাঁদের চাকরী দেওয়ার কথাও বলেন তিনি।
ফের এই মামলা গড়ায় ডিভিশন বেঞ্চে। সেখানে মামলাকারীদের দাবী ছিল শুধুমাত্র আবেদেনকারীরা নয়, সকলকেই নম্বর দিতে হবে। যেহেতু প্রশ্ন ভুল ছিল তাই সকলকেই নম্বর দেওয়ার জন্য জানান তাঁরা। কিন্তু সেই সময় বিচারপতি হরিশ টন্ডন এবং সুভাশিষ দাশগুপ্তের বেঞ্চে মামলা উঠলে তা খারিজ হয়ে যায়। মামলা গড়ায় সুপ্রিম কোর্টে।



কিন্তু তারই মধ্যে বিশয়টি ঘিরে একাধিক মামলা দায়ের হয়। এরই মধ্যে বোর্ডের তরফেও জানানো হয়, তাঁরাও আলাদা করে একটি মামলা দায়ের করেছে। সুপ্রিম কোর্টে মামলা গড়ালে বিচারপতি জানান, তাহলে বোর্ডের যে আবেদন রয়েছে, বোর্ডকে উদ্যোগ নিয়ে প্রধান বিচারপতির দ্বারা সমস্ত এই সংক্রান্ত মামলা রয়েছে সমস্ত কিছু ডিভিশন বেঞ্চে শোনাতে হবে।
সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশ মেনেই বুধবার কলকাতা হাইকোর্টের বিচারপতি সুব্রত তালুকদার এবং বিচারপতি কৃষ্ণা রাওয়ের ডিভিশন বেঞ্চে চলে মামলার শুনানি। মামলার শুরুতেই বিচারপতির প্রশ্ন, এতগুলি মামলা কেন? আইনজীবী ফিরদৌস শামিম বলেন, যেহেতু সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশ রয়েছে, তাই ডিভিশন বেঞ্চে তাই এতগুলো মামলা। কিন্তু করোনার কারণে ভার্চুয়াল মাধ্যমে দীর্ঘ মামলার শুনানি সম্ভব নয়। আগামী ফেব্রুয়ারি মাসের মাসিক তালিকায় শুনানির জন্য নির্দেশ দিয়েছেন।
নিয়োগ ঘিরে অনিশ্চয়তা, ফেব্রুয়ারি মাসে মামলার শুনানি

গোটা বিষয়টিতে আইনজীবী ফিরদৌস শামিম জানিয়েছেন, “আশা করি খুব শীঘ্রই প্রশ্ন ভুল মামলায় যারা দুর্দশাগ্রস্ত খুব শীঘ্রই পরিণতি পাবে। যা এতদিন চাকরীর আশায় ছিলেন তাঁরা দ্রুত সঠিক বিচার পাবেন”।







