কর্মরত শিক্ষকরা টেট না পাশ করলে চাকরি যাবে? সুপ্রিম কোর্টে আজ গুরুত্বপূর্ণ শুনানি

টেট বাধ্যতামূলক নিয়ে সুপ্রিম কোর্টে আজ শুনানি—২৫-৩০ বছরের অভিজ্ঞ শিক্ষকদের ভবিষ্যৎ অনিশ্চিত, পুনর্বিবেচনার দাবিতে শিক্ষক সংগঠনগুলির জোর সওয়াল।

নজরবন্দি ডিজিটাল ডেস্ক

আজ, মঙ্গলবার দেশের লক্ষ লক্ষ প্রাথমিক ও উচ্চ প্রাথমিক শিক্ষকের ভবিষ্যৎ নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ দিন। টিচার এলিজিবিলিটি টেস্ট (TET) বাধ্যতামূলক কি না—এই প্রশ্নে সুপ্রিম কোর্টে আজ হতে চলেছে তাৎপর্যপূর্ণ শুনানি, যার দিকে তাকিয়ে পশ্চিমবঙ্গ-সহ একাধিক রাজ্যের শিক্ষক সমাজ।

২০২৫ সালের ১ সেপ্টেম্বরের এক ঐতিহাসিক রায়ে শীর্ষ আদালত স্পষ্ট জানিয়ে দেয়, প্রাথমিক ও উচ্চ প্রাথমিক স্তরের শিক্ষকদের জন্য টেট বাধ্যতামূলক। যাঁদের এই যোগ্যতা নেই, তাঁদের দু’বছরের মধ্যে পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হতে হবে। তা না হলে চাকরি ছাড়তে হবে অথবা বাধ্যতামূলক অবসরে যেতে হবে—এমনই কড়া অবস্থান নেয় আদালত। তবে যাঁদের অবসরের আর পাঁচ বছর বা তার কম সময় বাকি, তাঁদের ক্ষেত্রে কিছুটা ছাড় দেওয়া হয়েছিল।

এই রায়ের বিরুদ্ধে পুনর্বিবেচনার আবেদন জানিয়ে একাধিক রাজ্য সরকার ও শিক্ষক সংগঠন ফের আদালতের দ্বারস্থ হয়েছে। মামলাকারীদের যুক্তি, ২০১১ সালের আগে নিয়োগপ্রাপ্ত বহু শিক্ষক রয়েছেন, যাঁদের নিয়োগের সময় টেট বাধ্যতামূলক ছিল না। ফলে দীর্ঘ ২৫–৩০ বছরের অভিজ্ঞতা থাকা সত্ত্বেও এখন তাঁদের পরীক্ষায় বসতে বাধ্য করা হচ্ছে—যা বাস্তব পরিস্থিতির সঙ্গে অসঙ্গত।

উল্লেখযোগ্যভাবে, শিক্ষার অধিকার আইন বা Right of Children to Free and Compulsory Education Act (আরটিই) ২০০৯ এবং National Council for Teacher Education-এর ২০১০ সালের নির্দেশিকায় স্পষ্ট বলা হয়েছে, প্রথম থেকে অষ্টম শ্রেণি পর্যন্ত শিক্ষকতার জন্য টেট বাধ্যতামূলক। কিন্তু পশ্চিমবঙ্গে টেট চালু হয় ২০১১ সালের জুলাইয়ে। ফলে তার আগে নিযুক্ত বিপুল সংখ্যক শিক্ষক এই পরীক্ষার আওতার বাইরে ছিলেন।

শিক্ষক সংগঠনগুলির বক্তব্য, অতীতের নিয়ম অনুযায়ী নিয়োগপ্রাপ্তদের ক্ষেত্রে নতুন নিয়ম প্রযোজ্য করা হলে তা ন্যায়সংগত হবে না। নিখিলবঙ্গ প্রাথমিক শিক্ষক সমিতির সাধারণ সম্পাদক ধ্রুবশেখর মণ্ডল জানিয়েছেন, তাঁরা বিচারপতিদের চেম্বারে নয়, খোলা আদালতে পূর্ণাঙ্গ শুনানির আবেদন জানাবেন। অন্যদিকে শিক্ষক নেতা ভীমসেন বিশওয়াল মনে করিয়ে দিয়েছেন, ২০১৭ সালে কেন্দ্রীয় সরকারের হলফনামাতেই টেট বাধ্যতামূলক বলা হয়েছিল—তবে পুরনো নিয়োগপ্রাপ্তদের ক্ষেত্রে ছাড়ের দাবিই তাঁদের মূল অবস্থান।

দেশজুড়ে প্রায় ৩৩ লক্ষ শিক্ষকের টেট যোগ্যতা নেই বলে দাবি করা হচ্ছে। ফলে আজকের শুনানির রায় শুধু আইনি দিক থেকেই নয়, সামাজিক ও প্রশাসনিক ক্ষেত্রেও বড় প্রভাব ফেলতে পারে। এখন দেখার, শীর্ষ আদালত আগের অবস্থানেই অনড় থাকে, নাকি অভিজ্ঞ শিক্ষকদের জন্য কিছুটা স্বস্তির পথ খুলে দেয়।

সবচেয়ে আগে সঠিক খবর, প্রতি মুহুর্তে। আমাদের ফলো করুন
Google News Google News

সদ্য প্রকাশিত