টেট পরীক্ষা ইস্যুতে ফের সরব হলেন রাজ্যের প্রাথমিক শিক্ষক-শিক্ষিকারা। বাধ্যতামূলক টেট পরীক্ষার শর্ত থেকে অব্যাহতির দাবিতে বুধবার বিকাশ ভবনের সামনে অবস্থান-বিক্ষোভে সামিল হলেন কয়েক হাজার কর্মরত শিক্ষক ও শিক্ষিকা। আন্দোলনের নেতৃত্বে ছিল পশ্চিমবঙ্গ প্রাথমিক শিক্ষক সমিতি।
সংগঠনের দাবি, সুপ্রিম কোর্টের টেট সংক্রান্ত রায়ের ফলে বিশেষ করে ২০১১ সালের আগে কর্মরত বহু শিক্ষক-শিক্ষিকার চাকরি ও ভবিষ্যৎ নিয়ে নতুন করে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। সেই কারণেই অবিলম্বে রাজ্য ও কেন্দ্রীয় সরকারের হস্তক্ষেপে সমস্যার স্থায়ী সমাধান চাওয়া হয়েছে।
বুধবারের এই কর্মসূচিতে শুধু কলকাতা নয়, রাজ্যের বিভিন্ন জেলা সদর, মহকুমা শহর, ব্লক এবং প্রত্যন্ত অঞ্চল থেকেও শিক্ষক-শিক্ষিকারা যোগ দেন। আন্দোলনকারীদের দাবি, দীর্ঘদিন ধরে স্কুলে পাঠদান করে আসা শিক্ষকদের নতুন করে টেট পরীক্ষার আওতায় আনা হলে তা তাঁদের পেশাগত নিরাপত্তার উপর প্রভাব ফেলতে পারে।
শিক্ষক সংগঠনের বক্তব্য, ২০২৫ সালের ১ সেপ্টেম্বর সুপ্রিম কোর্ট যে রায় দেয়, তার প্রভাব সবচেয়ে বেশি পড়েছে সেইসব শিক্ষকদের উপর, যাঁরা টেট চালু হওয়ার আগেই নিয়োগপ্রাপ্ত হয়েছিলেন। তাঁদের মতে, বহু বছর ধরে সফলভাবে শিক্ষাদানের দায়িত্ব পালন করার পর নতুন করে যোগ্যতার প্রমাণ দেওয়ার প্রশ্ন উঠছে, যা উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
বিক্ষোভ মঞ্চ থেকে দাবি জানানো হয়, কর্মরত শিক্ষক-শিক্ষিকাদের ক্ষেত্রে বিশেষ নীতি গ্রহণ করে সমস্যার সমাধান করতে হবে। একইসঙ্গে কেন্দ্র ও রাজ্য সরকারকে দ্রুত আলোচনায় বসে বিষয়টির একটি গ্রহণযোগ্য সমাধান বের করার আহ্বান জানানো হয়।
আন্দোলনকারীদের অভিযোগ, বিষয়টি নিয়ে এখনও পর্যন্ত স্পষ্ট কোনও রূপরেখা সামনে আসেনি। ফলে শিক্ষকদের মধ্যে বিভ্রান্তি এবং উদ্বেগ ক্রমশ বাড়ছে। তাঁদের আশঙ্কা, দ্রুত সমাধান না হলে শিক্ষা ব্যবস্থার উপরও তার প্রভাব পড়তে পারে।
শিক্ষক সংগঠনের নেতারা জানিয়েছেন, দাবিগুলি মেনে নেওয়া না হলে আগামী দিনে বৃহত্তর আন্দোলনের পথেও হাঁটতে পারেন তাঁরা। তবে প্রথম পর্যায়ে তাঁরা আলোচনার মাধ্যমে সমস্যার সমাধান চান বলেই জানিয়েছেন।
টেট সংক্রান্ত এই জটিলতা ঘিরে রাজ্যের শিক্ষা মহলে ইতিমধ্যেই ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়েছে। এখন নজর রাজ্য সরকার এবং কেন্দ্রীয় কর্তৃপক্ষের পরবর্তী পদক্ষেপের দিকে। কর্মরত শিক্ষক-শিক্ষিকাদের ভবিষ্যৎ নিয়ে যে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে, তার সমাধান কীভাবে হয়, সেটাই দেখার।









