টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ যত এগিয়ে আসছে, ততই ঘনীভূত হচ্ছে সংঘাত। একদিকে International Cricket Council, অন্যদিকে Bangladesh Cricket Board—দু’পক্ষই নিজেদের অবস্থানে অনড়। নিরাপত্তাজনিত কারণ দেখিয়ে বাংলাদেশ এখনও স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে, তারা কোনওভাবেই ভারতে খেলতে আসবে না। আবার আইসিসিও পুরো টুর্নামেন্টের সূচি ও কাঠামো বদলাতে রাজি নয়। ফলে প্রশ্ন উঠছে—বাংলাদেশ না খেললে বিশ্বকাপের ছবিটা ঠিক কেমন হতে পারে?
সমাধান হিসেবে বিসিবি প্রথমে প্রস্তাব দিয়েছিল গ্রুপ বদলের। বর্তমানে বাংলাদেশ রয়েছে গ্রুপ সি-তে, যেখানে ইংল্যান্ড, ওয়েস্ট ইন্ডিজ, নেপাল ও ইতালি আছে। বাংলাদেশের প্রস্তাব ছিল—তাদের গ্রুপ বি-তে আয়ারল্যান্ডের জায়গায় পাঠানো হোক এবং আয়ারল্যান্ডকে গ্রুপ সি-তে আনা হোক। কিন্তু এই প্রস্তাবে এখনও পর্যন্ত আইসিসির কোনও সরকারি সম্মতি মেলেনি।


আইসিসি সূত্রে খবর, এই রদবদল কার্যত অসম্ভব। কারণ, এতে অন্তত আরও সাতটি দলের সম্মতি দরকার হবে। শুধু তাই নয়, যে আয়ারল্যান্ডের সঙ্গে বাংলাদেশ গ্রুপ বদলাতে চাইছে, তারাও এই প্রস্তাবে রাজি নয়। আইসিসির আশঙ্কা, গ্রুপ বদল মানেই বড়সড় লজিস্টিক্যাল জটিলতা।
বাংলাদেশ না খেললে কী বিকল্প?
পরিস্থিতি যদি এখানেই আটকে থাকে এবং বিসিবি শেষ পর্যন্ত অনড় থাকে, তবে আইসিসির সামনে দু’টি কঠিন বিকল্প থাকবে।
প্রথম বিকল্প:
বাংলাদেশকে বাদ দিয়েই বিশ্বকাপ আয়োজন। সেক্ষেত্রে ২০ দলের বদলে ১৯ দল নিয়ে টুর্নামেন্ট হবে। বাংলাদেশকে সব ম্যাচে ‘ওয়াকওভার’ দিয়েছে বলে ধরা হবে, ফলে প্রতিপক্ষ দলগুলি পূর্ণ পয়েন্ট পাবে। তবে এতে প্রতিযোগিতার ভারসাম্য ও আকর্ষণ দুই-ই প্রশ্নের মুখে পড়বে।


দ্বিতীয় বিকল্প:
বাংলাদেশের বদলে অন্য কোনও দেশকে সুযোগ দেওয়া। কিন্তু এখানেই সমস্যা—বাংলাদেশ যোগ্যতা অর্জন করেই বিশ্বকাপে খেলার অধিকার পেয়েছিল। ফলে তাদের জায়গায় যে দলকেই আনা হোক, তারা হবে ‘অযোগ্য’ বা কোয়ালিফাই না করা দল।
বিশেষ পরিস্থিতিতে অবশ্য আইসিসি ব্যতিক্রমী সিদ্ধান্ত নিতে পারে। অতীতেও এমন নজির আছে। ২০০৯ সালে রাজনৈতিক কারণে জিম্বাবোয়ে ইংল্যান্ডে দল পাঠাতে না পারায়, আইসিসি স্কটল্যান্ডকে চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফিতে সুযোগ দিয়েছিল।
কারা হতে পারে বাংলাদেশের বিকল্প?
ক্রিকেট মহলে জোর জল্পনা—বাংলাদেশ না খেললে আইসিসির প্রথম পছন্দ হতে পারে স্কটল্যান্ড। ইউরোপীয় ক্রিকেট সার্কিটে ধারাবাহিক উন্নতির জন্য তারা যথেষ্ট সমীহ আদায় করেছে এবং আইসিসির অ্যাসোসিয়েট সদস্য হিসেবেও ভালো পারফরম্যান্স রয়েছে।
স্কটল্যান্ডের পাশাপাশি আলোচনায় রয়েছে জার্সি। ইউরোপ অঞ্চলের বাছাই পর্বে জার্সি ফাইনালে উঠেছিল, ফলে নিয়মের দিক থেকেও তাদের দাবি তুলনামূলক শক্ত।
এই দু’টির বাইরে প্রয়োজনে হংকং, পাপুয়া নিউগিনি বা বারমুডার মতো দেশগুলিকেও ভাবা হতে পারে—যাদের অতীতে বড় টুর্নামেন্ট খেলার অভিজ্ঞতা রয়েছে।
আইসিসির দুশ্চিন্তা কোথায়?
বাস্তবতা হল—বাংলাদেশের বিকল্প যেই হোক, তারা কোনওভাবেই বাংলাদেশের সমমানের দল হবে না। উপরন্তু, বাংলাদেশের বিশাল ফ্যানবেস রয়েছে। তাদের অনুপস্থিতিতে টুর্নামেন্টের জৌলুস যেমন কমবে, তেমনই আর্থিক দিক থেকেও ক্ষতির মুখে পড়তে পারে আইসিসি।
তাই আন্তর্জাতিক ক্রিকেটের নিয়ামক সংস্থা শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত চাইছে—যেভাবেই হোক বাংলাদেশকে রাজি করাতে। কিন্তু বিসিবি যদি অবস্থান না বদলায়, তাহলে বিশ্বকাপের ইতিহাসে আরেকটি নজিরবিহীন সিদ্ধান্তের পথে হাঁটতেই হতে পারে আইসিসিকে।







