নজরবন্দি ব্যুরোঃ শুভেন্দুর ঈর্শনীয় জনপ্রিয়তায় শঙ্কিত মমতা? ব্যানার যুদ্ধ শুরু পূর্ব মেদিনীপুরে। কিছুদিন ধরেই শুভেন্দু অধিকারীকে নিয়ে বেশ সমস্যা চলছে তৃণমূলের অন্দরে। বস্তুত মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের পর তৃণমূলের মধ্যে যে শুভেন্দু অধিকারী তা বিলক্ষন জানেন সমর্থক রাও। কলকাতায় মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের আশে পাশে বিচরন করে সমর্থক দের মনে যে জায়গা পাননি একদা শোভন চট্টোপাধ্যায়, বর্তমানে পার্থ চ্যাটার্জী, অরুপ বিশ্বাস বা ফিরহাদ হাকিমের মত নেতারা সেই যায়গা শুভেন্দু অধিকারী অর্জন করেছেন। শুভেন্দু তুমুল জনপ্রিয় উত্তরবঙ্গেও। বলা বাহুল্য তিনি শিশির অধিকারীর পুত্র বলে এই জায়গা পেয়েছেন তা নয়, সমর্থকদের উচ্ছ্বাস প্রমান করে তিনি তা অর্জন করেছেন।
আরও পড়ুনঃ করোনা টিকা কবে পাবেন সবাই, কিভাবে? ঘোষণা করলেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী হর্ষ বর্ধন।
কিন্তু শুভেন্দু-র এহেন উত্থান খুব একটা ভাল চোখে দেখেন নি তৃণমূলের শীর্ষ নেতারা। কদিন আগে খবরের দুনিয়ায় গুঞ্জন ওঠে শুভেন্দু অধিকারী দলবদল করে বিজেপি-তে যোগ দেবেন। কিন্তু বাস্তবে তা হয়নি। বরং তিনি নজর কেড়েছে আমফানের ত্রান বিলি থেকে পরিযায়ী শ্রমিকদের বাড়ি ফেরান স ক্ষেত্রেই। এত কিছুর মধ্যেও ধিরে ধিরে কোন অজানা কারনে ক্ষর্ব করা হতে থাকে শুভেন্দুর হাতে থাকা ক্ষমতা। প্রথমে তাঁকে তৃণমূল যুব সভাপতির পদ থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়। তাঁর স্থানে বসান হয় মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ভাইপো তথা ডায়মণ্ড হারবারের সাংসদ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় কে।
পাশাপাশি সংগঠনের গুরুত্বপূর্ণ পদ থেকে সরিয়ে তাঁকে যায়গা দেওয়া হয়েছে শুধুমাত্র ৭ জনের কোর কমিটিতে। এমনকি তৃণমূলের সরকারি কর্মচারী সংগঠনের শীর্ষপদ থেকেও তাঁকে সম্প্রতি সরিয়ে দেওয়া হয়েছে। শুভেন্দু অধিকারীর গত বেশ কয়েকদিন ধরেই একাধিক দলীয় গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকে অনুপস্থিত থেকে জ্বল্পনা বাড়িয়েছেন। উল্লেখ্য বিষয় হল গতবছর ঢেলে সাজানো হয়েছিল তৃণমূলের পশ্চিমবঙ্গ রাজ্য সরকারি কর্মচারী ফেডারেশনের সাংগঠনিক কাঠামো। সংগঠনের মেন্টর পদে দায়িত্ব দেওয়া হয় শুভেন্দু অধিকারীকে। কিন্তু বছর ঘুরতে না ঘুরতেই পদ থেকে সরিয়ে দেওয়া হল শুভেন্দু অধিকারী কে। সিদ্ধান্ত নেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।
অন্যদিকে পূর্ব মেদিনীপুর তৃণমূলের জেলা সংগঠনেও রদবদল করা হয়েছে। শুভেন্দু ঘনিষ্ঠকে সরিয়ে জেলা যুব সভাপতির পদে বসানো হয়েছে অভিষেক ঘনিষ্ঠ পার্থ সারথী মাইতি কে। আর পদে বসার পরেই তমলুক শহর জুড়ে ব্যানার লাগিয়েছেন পার্থ। সেই ব্যানারে কোথাও নেই শুভেন্দু, শুধু আছেন অভিষেক এবং মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। অন্যদিকে পাল্টা ব্যানার পড়েছে শুভেন্দু অধিকারীর নামে। তবে তা তৃণমূল নেতা বা মন্ত্রী হিসেবে নয়। একজন সমাজসেবি হিসেবে।
শুভেন্দুর ঈর্শনীয় জনপ্রিয়তায় শঙ্কিত মমতা? শুভেন্দু অধিকারীর সমর্থন ছাড়া পূর্ব মেদিনীপুরে ১ টি আসন ধরে রাখাও যে তৃণমূলের পক্ষে বড় চ্যালেঞ্জ তা বিলক্ষন জানেন তৃণমূল সুপ্রিমো। সেই কারনেই ভোটের প্রায় ৮ মাস আগে থেকেই পূর্ব মেদিনীপুরে শুভেন্দুর যায়গায় অভিষেকের জনপ্রিয়তা বাড়ানোর চেষ্টা চলছে বলে মত ওয়াকেবহাল মহলের। যদিও এই ব্যানার যুদ্ধ কি ইঙ্গিত দিচ্ছে তা স্পষ্ট করেনি কোন শিবির। কিন্তু শুভেন্দুর ঈর্শনীয় জনপ্রিয়তা যে আগামীদিনের মুখ্যমন্ত্রী পদপ্রার্থী অভিষেকের পথের কাঁটা হয়ে উঠছে সে ব্যাপারে নিশ্চিত রাজনৈতিক মহল।



