অশোক সিংঘলের জন্মশতবর্ষের অনুষ্ঠানে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক ও ধর্মীয় ইস্যুতে সরকারের অবস্থান জানালেন পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। আলিপুরের ‘উত্তীর্ণ’-এ বিশ্ব হিন্দু পরিষদের আয়োজিত অনুষ্ঠানে তিনি দাবি করেন, তাঁর সরকার কোনও সন্ত-সাধু বা ধর্মপ্রচারকের অপমান বরদাস্ত করবে না। একই সঙ্গে আগামী ছ’মাসের মধ্যে রাজ্যে ইউনিফর্ম সিভিল কোড (UCC) চালুর কথা জানান তিনি।
১৯২৬ সালে জন্ম নেওয়া অশোক সিংঘলের জন্মশতবর্ষ ২০২৬ সালে পালিত হচ্ছে। বিশ্ব হিন্দু পরিষদের প্রাক্তন কার্যনির্বাহী সভাপতি এবং রাম জন্মভূমি আন্দোলনের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ মুখ হিসেবে পরিচিত ছিলেন তিনি। তাঁর জন্মশতবর্ষ উপলক্ষে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিও বিশেষ লেখা প্রকাশ করেছেন।
অনুষ্ঠানে শুভেন্দু অধিকারী বলেন, যতদিন তিনি মুখ্যমন্ত্রী থাকবেন, ততদিন কোনও সন্ত-সাধু বা ধর্মপ্রচারকের অপমান বরদাস্ত করা হবে না। তাঁর বক্তব্য, ‘গেরুয়া’ শব্দের অন্তর্নিহিত ভাব ও মর্মার্থকেও আক্রমণ করতে দেওয়া হবে না।
এর পাশাপাশি রাষ্ট্রবিরোধী বা তাঁর কথায় ‘হিন্দুস্তান-বিরোধী’ কোনও কাজ সরকার মেনে নেবে না বলেও মন্তব্য করেন মুখ্যমন্ত্রী। ধর্মীয় আবেগের প্রসঙ্গ তুলে সাধারণ মানুষকে মন খুলে গীতা পাঠ এবং মা তুলসীর আরাধনার আহ্বান জানান তিনি।
অনুষ্ঠান থেকেই রাজ্যে ইউনিফর্ম সিভিল কোড বা UCC চালুর সময়সীমা নিয়ে বড় ঘোষণা করেন শুভেন্দু। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, আগামী ছ’মাসের মধ্যে পশ্চিমবঙ্গে UCC চালু করা হবে।
UCC কার্যকর হলে ‘লাভ জিহাদ’, ‘ল্যান্ড জিহাদ’ এবং ধর্মান্তরের মতো বিষয় বন্ধ হবে বলেও দাবি করেন মুখ্যমন্ত্রী। এগুলি তাঁর রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক অবস্থান হিসেবে বক্তব্যে উঠে এসেছে।
ধর্মীয় অনুষ্ঠান নিয়েও সরকারের অবস্থান স্পষ্ট করেন তিনি। পুজোর সময় নির্ধারণের ক্ষেত্রে পঞ্জিকা মেনে চলার কথা বলেন শুভেন্দু। অর্থাৎ ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠানের সময় নির্ধারণে প্রচলিত পঞ্জিকাকেই গুরুত্ব দেওয়ার বার্তা দেন তিনি।
গঙ্গাসাগর মেলাকে আরও বড় পরিসরে নিয়ে যাওয়ার কথাও বলেন মুখ্যমন্ত্রী। তাঁর বক্তব্য, গঙ্গাসাগর মেলাকে আন্তর্জাতিক মানের করে তোলার কাজ শুরু হয়েছে।
পাশাপাশি রাজ্যে একাধিক ধর্মীয় কর্মসূচির কথাও অনুষ্ঠানে তুলে ধরেন তিনি। ১৭ নভেম্বর নেতাজি ইন্ডোর স্টেডিয়ামে ২০ হাজার মানুষের একযোগে হনুমান চালিশা পাঠের কর্মসূচির কথা জানান মুখ্যমন্ত্রী।
এরপর ২৯ ডিসেম্বর ১০ লক্ষ মানুষের অংশগ্রহণে গীতা পাঠের কর্মসূচির কথাও বলেন তিনি। ফলে অশোক সিংঘলের জন্মশতবর্ষের মঞ্চ থেকে ধর্মীয় অনুষ্ঠান, UCC এবং গঙ্গাসাগর মেলা—একাধিক বিষয়েই নিজের সরকারের অবস্থান তুলে ধরলেন শুভেন্দু।
অশোক সিংঘলের জন্মশতবর্ষ উদযাপনকে ঘিরে ইতিমধ্যেই জাতীয় স্তরেও একাধিক কর্মসূচি হচ্ছে। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর প্রকাশিত লেখায় সিংঘলের দীর্ঘ সাংগঠনিক জীবন, রাম মন্দির আন্দোলনে তাঁর ভূমিকা এবং সমাজসেবামূলক কর্মকাণ্ডের কথা তুলে ধরা হয়েছে।



