বিশাল কাইথের জোড়া সেভে শিল্ড ফাইনালে মোহনবাগান

নির্ধারিত সময় ও অতিরিক্ত সময়ে গোল হয়নি। শেষ পর্যন্ত টাইব্রেকারে ৪-৩ জিতে পাঞ্জাব এফসিকে হারিয়ে আইএফএ শিল্ডের ফাইনালে মোহনবাগান।

নজরবন্দি ডিজিটাল ডেস্ক

ব্রাজিলের বিরুদ্ধে ভারতের সাম্প্রতিক লড়াই নিয়ে যখন গর্বিত দেশের ফুটবল মহল, ঠিক তখনই ঘরোয়া ফুটবলে আরও একবার নজর কাড়লেন বিশাল কাইথ। জাতীয় দলে এখন ব্রাত্য এই গোলকিপারই টাইব্রেকারে জোড়া শট বাঁচিয়ে মোহনবাগানকে আইএফএ শিল্ডের ফাইনালে তুলে দিলেন। পাঞ্জাব এফসির বিরুদ্ধে নির্ধারিত সময় ও অতিরিক্ত সময় মিলিয়েও গোলশূন্য ড্রয়ের পর টাইব্রেকারে ৪-৩ ব্যবধানে জেতে সবুজ-মেরুন।

তবে ম্যাচের ফল মোহনবাগান সমর্থকদের স্বস্তি দিলেও দলের পারফরম্যান্স নিয়ে সন্তুষ্ট হওয়ার মতো খুব বেশি কিছু ছিল না। দুই দলই দীর্ঘ সময় ধরে এমন একঘেয়ে ও ছন্দহীন ফুটবল খেলেছে যে ম্যাচের বড় আকর্ষণ হয়ে দাঁড়ায় শেষ পর্যন্ত টাইব্রেকার।

প্রথমার্ধে ছন্নছাড়া ফুটবল

ম্যাচের শুরু থেকেই দু’দলের খেলায় তাগিদের অভাব চোখে পড়ে। মাঝমাঠে পাসের ধারাবাহিকতা ছিল না, আক্রমণও বারবার থেমে যাচ্ছিল বক্সের আশপাশে। ফলে প্রথম ৪৫ মিনিটে গোলের সুযোগ তৈরি হওয়ার চেয়ে ভুল পাস ও অসংগঠিত আক্রমণের সংখ্যাই বেশি ছিল।

এর মধ্যেও ছাংতের একটি সাইড ভলি বিপজ্জনক হয়ে উঠেছিল। তবে পাঞ্জাব এফসির গোলকিপার কোনও রকমে সেই চেষ্টা আটকে দেন। অন্যদিকে মোহনবাগানও বিপদের মুখে পড়লে একাধিকবার দলকে রক্ষা করেন বিশাল কাইথ।

লিস্টনকে নিয়ে প্রশ্ন

চোটের কারণে মোহনবাগানের আক্রমণে জেমি ম্যাকলারেন ছিলেন না। সেই পরিস্থিতিতে লিস্টন কোলাসোর পারফরম্যান্সও প্রত্যাশা পূরণ করতে পারেনি বলে মনে হয়েছে। লিগ পর্ব থেকেই তাঁর পারফরম্যান্স নিয়ে প্রশ্ন উঠছিল।

রিজার্ভ বেঞ্চে সায়ন বন্দ্যোপাধ্যায়ের মতো তরুণ ও গতিশীল উইঙ্গার থাকা সত্ত্বেও লিস্টনকে নিয়মিত সুযোগ দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। কোচ প্যানাজিওটিস দিলেমপেরিসের পরিকল্পনায় কেন লিস্টন এতটা গুরুত্বপূর্ণ, তা নিয়েও আলোচনা তৈরি হয়েছে।

শুভাশিস বোসের পারফরম্যান্স নিয়েও নতুন করে ভাবার প্রয়োজন রয়েছে বলে মনে হয়েছে। সব মিলিয়ে আক্রমণ থেকে রক্ষণ—মোহনবাগানের খেলায় ধারাবাহিকতার অভাব ছিল।

দ্বিতীয়ার্ধেও বদলাল না ছবিটা

বিরতির পর লিস্টন কোলাসোর জায়গায় মিগুয়েলকে নামানো হয়। আক্রমণে লি আরউইনের সঙ্গে নতুন সঙ্গী পান তিনি। এর ফলে কিছুটা বলের দখল বাড়লেও গোলের সামনে সেই অর্থে ধারালো হয়ে উঠতে পারেনি মোহনবাগান।

পাঞ্জাব এফসিও একই সমস্যায় ভুগেছে। বক্সের কাছাকাছি পৌঁছনোর পর শেষ পাস বা ফিনিশিং—কোনও ক্ষেত্রেই ধারাবাহিকতা দেখা যায়নি। কয়েকটি দূরপাল্লার শট ছাড়া দু’দলের আক্রমণ থেকে উল্লেখযোগ্য কিছু তৈরি হয়নি।

পাঞ্জাবের হয়ে মেসি বৌলিও এ দিন বিশেষ প্রভাব ফেলতে পারেননি।

শুভাশিসের গোল বাতিল

ম্যাচের ৮৫ মিনিটে মোহনবাগান সমর্থকদের উৎসবের সুযোগ তৈরি হয়েছিল। মিগুয়েলের ফ্রি কিক থেকে শুভাশিস বোস বল জালে পাঠালেও লাইন্সম্যান অফসাইডের সংকেত দেন। ফলে গোলটি বাতিল হয়ে যায়।

নির্ধারিত ৯০ মিনিটেও কোনও দল গোল করতে না পারায় ম্যাচ গড়ায় অতিরিক্ত সময়ে। সেখানেও পরিস্থিতির কোনও পরিবর্তন হয়নি। শেষ পর্যন্ত গোলশূন্য অবস্থাতেই শেষ হয় অতিরিক্ত সময়।

টাইব্রেকারে নায়ক বিশাল

ম্যাচের ভাগ্য নির্ধারণ করতে হয় টাইব্রেকারে। সেখানে মোহনবাগান ৪-৩ ব্যবধানে জয় তুলে নেয়। সবুজ-মেরুনের জয়ের অন্যতম প্রধান কারিগর অবশ্যই বিশাল কাইথ।

টাইব্রেকারে দু’টি শট বাঁচিয়ে দলকে ফাইনালের টিকিট এনে দেন তিনি। জাতীয় দলের বাইরে থাকা এই গোলকিপারের পারফরম্যান্স তাই ম্যাচের শেষে নতুন করে আলোচনায় এল।

ভারত-ব্রাজিল ম্যাচে গুরপ্রীত সিং সান্ধুর ভুল নিয়ে যখন আলোচনা চলছে, সেই সময়ই ঘরোয়া ফুটবলে নিজের পারফরম্যান্স দিয়ে বিশাল কাইথ বুঝিয়ে দিলেন, গোলপোস্টের সামনে তাঁর দক্ষতা এখনও উপেক্ষা করার মতো নয়। তবে মোহনবাগান ফাইনালে উঠলেও শিল্ড জিততে হলে দলের সামগ্রিক পারফরম্যান্সে অনেকটাই উন্নতি প্রয়োজন—এই ম্যাচ সেই বার্তাই দিয়ে গেল।

সবচেয়ে আগে সঠিক খবর, প্রতি মুহূর্তে

Google News Google News এবং Google Discover Google Discover -এ নজরবন্দি-কে Follow করে রাখুন।

আরও পড়ুন