হালিশহরে প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের (Mamata Banerjee) কনভয় ঘিরে বিক্ষোভের ঘটনায় এবার মুখ খুললেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী (Suvendu Adhikari)। মমতার উদ্দেশে তীব্র কটাক্ষ করে তিনি বলেন, ‘‘এত চুরি করেছেন, চোর তো শুনতেই হবে।’’ একইসঙ্গে হালিশহরের ঘটনাকে ‘প্রবল জনরোষ’ বলে দাবি করেছেন তিনি। তাঁর বক্তব্য, এই বিক্ষোভের সঙ্গে বিজেপির কোনও যোগ নেই।
রবিবার ৯ অগস্ট, ‘অভয়া’র মৃত্যুবার্ষিকীর দিন হালিশহরে নিহত তৃণমূল কর্মী বিরজু কুমারের পরিবারের সঙ্গে দেখা করতে গিয়েছিলেন মমতা। সেই সময়ই তাঁর গাড়ি ঘিরে বিক্ষোভ শুরু হয়। স্থানীয় বাসিন্দাদের একাংশের বিরুদ্ধে গাড়ি লক্ষ্য করে জল, কাদা এবং জুতো ছোড়ার অভিযোগ ওঠে। পাশাপাশি মমতাকে উদ্দেশ করে ‘চোর’ এবং ‘ডাকাতরানি’ স্লোগানও দেওয়া হয় বলে জানা যায়।
এই ঘটনার প্রসঙ্গেই শুভেন্দু প্রশ্ন তোলেন, অভয়ার মৃত্যুবার্ষিকীতে মমতা কেন পানিহাটিতে তাঁর বাড়িতে গেলেন না। মুখ্যমন্ত্রীর দাবি, সেখানে গিয়ে পরিবারের কাছে ক্ষমা চাইলেও পরিস্থিতি অন্যরকম হতে পারত। তিনি বলেন, ‘‘আপনি তো আজ অভয়ার বাড়িতে যেতে পারতেন! গলায় গামছা নিয়ে রত্না দেবনাথের কাছে ক্ষমা চাইতে পারতেন।’’
এরপরই মমতাকে আরও তীব্র ভাষায় আক্রমণ করেন শুভেন্দু। তাঁর বক্তব্য, আরজি কর কাণ্ডের সময় প্রমাণ লোপাট এবং টাকা দিয়ে বিষয়টি মিটিয়ে দেওয়ার চেষ্টা হয়েছিল বলে যে অভিযোগ রয়েছে, তার রাজনৈতিক দায় তৎকালীন সরকারের উপরই বর্তায়। সেই প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, ‘‘আপনার গাড়িতে কাদা মাখাবে না তো কি ফুল ছুড়বে?’’
হালিশহরের ঘটনাকে বিজেপির পরিকল্পিত কর্মসূচি বলে যে অভিযোগ উঠতে পারে, তা সরাসরি খারিজ করেন মুখ্যমন্ত্রী। তাঁর দাবি, এটি কোনও দলীয় কর্মসূচির ফল নয়, বরং দীর্ঘদিনের ক্ষোভ থেকে তৈরি হওয়া ‘প্রবল জনরোষ’। তবে স্থানীয় স্তরে কারা বিক্ষোভে অংশ নিয়েছিলেন, তা নিয়ে প্রশাসনিক ভাবে কী তদন্ত হচ্ছে, সেই বিষয়ে বিস্তারিত কিছু জানাননি তিনি।
হালিশহরে মমতার সফরের নেপথ্যে ছিল বিরজু কুমারের মৃত্যু। পুলিশ সূত্রে জানা যায়, শুক্রবার রাতে কাঁচরাপাড়ার ২৪ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা বিরজু কুমারকে গ্রেপ্তার করা হয়েছিল। তাঁর বিরুদ্ধে তোলাবাজি ও মারামারির অভিযোগ ছিল বলে তদন্তকারীদের দাবি। পরিবারের অবশ্য অভিযোগ, গ্রেপ্তারের পর তাঁর শরীরে একাধিক আঘাতের চিহ্ন ছিল।
পরিবারের দাবি, গ্রেপ্তারের পর বিরজুর মেডিক্যাল পরীক্ষা হয়েছিল এবং সন্ধ্যায় তাঁর স্ত্রী জেলে গিয়ে তাঁর সঙ্গে দেখা করেন। তখন তিনি সুস্থ ছিলেন বলেই পরিবারের তরফে দাবি করা হয়েছে। পরে হালিশহর থানার পুলিশের বক্তব্য, ভোররাতে লকআপে তাঁকে অসুস্থ অবস্থায় পাওয়া যায়।
এরপর তাঁকে কল্যাণীর জহরলাল নেহরু হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলে চিকিৎসকেরা মৃত ঘোষণা করেন। পরিবারের তরফে তাঁর শরীরের বিভিন্ন জায়গায় আঘাতের চিহ্ন থাকার অভিযোগও করা হয়েছে। ঘটনার তদন্ত এবং মৃত্যুর প্রকৃত কারণ নিয়ে ইতিমধ্যেই প্রশ্ন উঠেছে।
এই পরিস্থিতিতে রবিবার বিরজুর পরিবারের সঙ্গে দেখা করতে হালিশহরে যান মমতা। প্রবল বিক্ষোভের মধ্যেও তিনি নিহত তৃণমূল কর্মীর স্ত্রীর সঙ্গে কথা বলেন। পরে গাড়িতে কাদা ও জুতো ছোড়ার ঘটনায় ক্ষোভ প্রকাশ করে মমতা দাবি করেন, বাংলার পরিস্থিতি ‘গুন্ডাদের হাতে’ চলে যাচ্ছে।
অন্যদিকে, সেই ঘটনাকেই ‘জনরোষ’ হিসেবে তুলে ধরে মমতার পুরনো শাসনকালের বিভিন্ন অভিযোগ সামনে আনলেন শুভেন্দু। ফলে হালিশহরের স্থানীয় একটি ঘটনাকে কেন্দ্র করে রাজ্যের শাসক ও বিরোধী শিবিরের রাজনৈতিক সংঘাত আরও তীব্র হল। পাশাপাশি বিরজু কুমারের মৃত্যুর প্রকৃত কারণ এবং তার তদন্তের দিকেও এখন নজর থাকবে।



