উত্তর দিনাজপুরের রায়গঞ্জে প্রশাসনিক সভা থেকে চোপড়ার বিধায়ক হামিদুল রহমানের বিরুদ্ধে কড়া বার্তা দিলেন পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী (Suvendu Adhikari)। বিধায়কের বিরুদ্ধে থাকা মামলাগুলি নতুন করে খতিয়ে দেখে পুনরায় খোলার নির্দেশ দিয়েছেন বলে দাবি করেন তিনি। ২০২১ সালের বিধানসভা নির্বাচনের পর যাঁদের বিরুদ্ধে অত্যাচারের অভিযোগ উঠেছিল, তাঁদের বিরুদ্ধেও নতুন করে এফআইআর করার কথা বলেন মুখ্যমন্ত্রী। একই সঙ্গে জমি দখলের অভিযোগের তদন্ত এবং দখল হয়ে থাকা জমি উদ্ধারের নির্দেশও দেন তিনি।
বৃহস্পতিবারের সভায় পুলিশ ও প্রশাসনের আধিকারিকদের উদ্দেশে শুভেন্দুর এই বার্তা ঘিরে রাজনৈতিক মহলে আলোচনা শুরু হয়েছে। চোপড়ায় পরবর্তী সভা করার কথাও জানিয়েছেন তিনি। অন্যদিকে, মুখ্যমন্ত্রীর মন্তব্যের জবাবে হামিদুল রহমান বলেছেন, মুখ্যমন্ত্রী ফাইল খোলার নির্দেশ দিতেই পারেন। তবে কে মাফিয়াগিরি করেছেন, তা মানুষ জানেন বলেই দাবি তাঁর।
জমি উদ্ধারের আশ্বাস, সিএএ শংসাপত্র দেওয়ার প্রতিশ্রুতি
রায়গঞ্জের প্রশাসনিক সভা থেকে একাধিক উন্নয়নমূলক প্রতিশ্রুতিও দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। হাসপাতাল ও স্কুলের পরিকাঠামো উন্নয়নের পাশাপাশি নাগরিকত্ব সংশোধনী আইন (Citizenship Amendment Act বা CAA)-এর অধীনে শংসাপত্র দেওয়ার আশ্বাস দেন তিনি। একই সঙ্গে ধর্মীয় পরিচয়ের ভিত্তিতে জমি দখলের অভিযোগ তুলে সেই জমি উদ্ধারের কথাও বলেন শুভেন্দু।
মুখ্যমন্ত্রীর বক্তব্য, উত্তর দিনাজপুরের বিভিন্ন এলাকায় যাঁদের জমি দখল করা হয়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে, সেগুলি চিহ্নিত করে উদ্ধারের ব্যবস্থা করতে হবে। প্রশাসনিক সভার মঞ্চ থেকেই পুলিশ ও প্রশাসনের শীর্ষ আধিকারিকদের এ বিষয়ে পদক্ষেপ করার নির্দেশ দিয়েছেন বলে জানান তিনি।
হামিদুলের বিরুদ্ধে কী বললেন মুখ্যমন্ত্রী?
চোপড়ার বিধায়ককে নিশানা করে শুভেন্দু বলেন, পুলিশ সুপার, ডিআইজি এবং আইজিকে তাঁর বিরুদ্ধে থাকা মামলাগুলি পুনরায় খোলার নির্দেশ দিয়েছেন। ২০২১ সালের বিধানসভা নির্বাচনের পর যাঁদের বিরুদ্ধে হিংসা ও অত্যাচারের অভিযোগ উঠেছিল, তাঁদের বিরুদ্ধেও নতুন করে এফআইআর করার কথা বলেন তিনি।
মুখ্যমন্ত্রীর বক্তব্য, অভিযোগগুলির তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনি পদক্ষেপ করতে হবে। তবে কোন কোন মামলা পুনরায় খোলা হবে, সেগুলির বর্তমান অবস্থা কী এবং সংশ্লিষ্ট তদন্তকারী সংস্থা কী পদক্ষেপ করেছে, সে বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ্যে আসেনি। অভিযোগের ভিত্তিতে কোনও ব্যক্তিকে দোষী সাব্যস্ত করা যায় না; তার জন্য আইনি প্রক্রিয়া প্রয়োজন।
মুখ্যমন্ত্রীর বক্তব্যের পর কী বললেন হামিদুল রহমান?
শুভেন্দুর বক্তব্যের পর পাল্টা প্রতিক্রিয়া দিয়েছেন চোপড়ার বিধায়ক হামিদুল রহমান। তাঁর বক্তব্য, মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে শুভেন্দু অধিকারী মামলা খোলার নির্দেশ দিতেই পারেন। তবে তাঁর বিরুদ্ধে মাফিয়াগিরির যে অভিযোগ তোলা হচ্ছে, তা নিয়ে পাল্টা প্রশ্ন তুলেছেন তিনি।
হামিদুলের কথায়, কে মাফিয়াগিরি করেছেন, তা এলাকার মানুষ জানেন। মুখ্যমন্ত্রীর মন্তব্যের জবাবে তিনি নিজের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগকে স্বীকার করেননি। ফলে রাজনৈতিক বক্তব্যের পাশাপাশি এই ঘটনায় প্রশাসনিকভাবে কী পদক্ষেপ করা হয়, তা গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।
হামিদুল রহমান চোপড়ার রাজনৈতিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ মুখ। সাম্প্রতিক সময়ে তাঁর রাজনৈতিক অবস্থান নিয়েও আলোচনা হয়েছে। সূত্রের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে তিনি মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের শিবিরেই থাকার কথা জানিয়েছিলেন। সেই প্রেক্ষাপটে মুখ্যমন্ত্রীর প্রকাশ্য হুঁশিয়ারি উত্তর দিনাজপুরের রাজনীতিতে নতুন করে গুরুত্ব পেয়েছে।
তবে রাজনৈতিক অবস্থান বা প্রকাশ্য বক্তব্যের সঙ্গে ফৌজদারি মামলার আইনি প্রক্রিয়াকে আলাদা করে দেখা জরুরি। হামিদুলের বিরুদ্ধে কোন মামলাগুলি পুনরায় খোলা হচ্ছে, তদন্তে কী তথ্য উঠে আসছে এবং জমি দখলের অভিযোগে প্রশাসন কী পদক্ষেপ করছে, তার উপরই পরবর্তী পরিস্থিতি নির্ভর করবে।



