কালীপুজো ও ছটপুজোকে কেন্দ্র করে বাজি পোড়ানো এবং শব্দদূষণ নিয়ন্ত্রণে একগুচ্ছ নির্দেশিকা জারি করেছে পশ্চিমবঙ্গ প্রশাসন। নবান্নের বৈঠকে উৎসবের সময়সীমা, বাজির ধরন, শব্দের মাত্রা এবং নিষিদ্ধ এলাকা নিয়ে একাধিক বিধিনিষেধের কথা জানানো হয়েছে। নির্দেশিকা অনুযায়ী, কালীপুজোয় রাত ৮টা থেকে ১০টা এবং ছটপুজোয় সকাল ৬টা থেকে ৮টা পর্যন্ত বাজি পোড়ানোর অনুমতি থাকবে বলে জানানো হয়েছে। পাশাপাশি হাসপাতাল ও বৃদ্ধাশ্রমের ১০০ মিটারের মধ্যে বাজি পোড়ানো নিষিদ্ধ রাখার কথাও বলা হয়েছে।
প্রশাসনের লক্ষ্য, উৎসবের আনন্দ বজায় রেখেই শব্দদূষণ, বায়ুদূষণ ও অগ্নিকাণ্ডের ঝুঁকি কমানো। নবান্নের সভা থেকে কলকাতার পুলিশ কমিশনার অজয় নন্দা এবং স্বরাষ্ট্রসচিব সঙ্ঘমিত্রা ঘোষ এই সংক্রান্ত নির্দেশিকা ও নজরদারির বিষয়ে আলোচনা করেন বলে দেওয়া তথ্যে উল্লেখ রয়েছে। তবে নির্দেশিকার সুনির্দিষ্ট শর্ত এবং শব্দসীমা কার্যকর করার ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট সরকারি বিজ্ঞপ্তির সঙ্গে মিলিয়ে দেখা জরুরি।
প্রশাসনের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, কালীপুজোর দিন রাত ৮টা থেকে ১০টা পর্যন্ত বাজি পোড়ানো যাবে। ছটপুজোর ক্ষেত্রে সময় নির্ধারণ করা হয়েছে সকাল ৬টা থেকে ৮টা পর্যন্ত। নির্ধারিত সময়ের বাইরে বাজি পোড়ালে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হতে পারে।
বাজির শব্দের মাত্রা নিয়েও নির্দেশিকায় বিধিনিষেধের কথা বলা হয়েছে। দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, নির্দিষ্ট শ্রেণির শব্দবাজির ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ ১২৫ ডেসিবেল এবং অন্যান্য ক্ষেত্রে ৯০ ডেসিবেলের সীমার কথা উল্লেখ করা হয়েছে। তবে এই সীমা কোন ধরনের বাজি, কোন পরিমাপ-পদ্ধতি এবং কী দূরত্বের ভিত্তিতে প্রযোজ্য, তা সরকারি বিজ্ঞপ্তি দেখে নিশ্চিত করা প্রয়োজন।
পরিবেশদূষণ কমাতে কালীপুজো ও ছটপুজোয় পরিবেশবান্ধব গ্রিন ক্র্যাকার্স ব্যবহারের উপর জোর দিয়েছে প্রশাসন। নিষিদ্ধ বাজির ব্যবহার রুখতে নজরদারি চালানোর পাশাপাশি বহুতল আবাসনগুলিতে বাজি পোড়ানোর সময় ধোঁয়া ও নিরাপত্তার বিষয়েও সতর্ক থাকতে বলা হয়েছে।
শুধু শব্দদূষণ নয়, বাজি থেকে আগুন লাগার ঝুঁকিও প্রশাসনের উদ্বেগের অন্যতম কারণ। ফানুস ওড়ানোর ক্ষেত্রে দমকল বিভাগের অনুমতি বা লাইসেন্স নেওয়ার বাধ্যবাধকতার কথাও দেওয়া তথ্যে উল্লেখ রয়েছে। উৎসবের সময়ে অগ্নিকাণ্ড এড়াতে নির্ধারিত নিরাপত্তাবিধি মেনে চলার উপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।
হাসপাতাল ও বৃদ্ধাশ্রমের ১০০ মিটারের মধ্যে বাজি পোড়ানো নিষিদ্ধ রাখার কথা জানানো হয়েছে। অসুস্থ রোগী, প্রবীণ নাগরিক এবং শব্দের প্রতি সংবেদনশীল মানুষের কথা মাথায় রেখেই এই ধরনের বিধিনিষেধ গুরুত্বপূর্ণ।
এ ছাড়া, লোকালয় থেকে দূরে প্রশাসনের নির্ধারিত নিয়ম মেনে বাজির বাজার বসানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে বলে সূত্রের দেওয়া তথ্যে উল্লেখ রয়েছে। বাজির বাজারগুলিতে নজরদারি চালানোর পাশাপাশি নিষিদ্ধ বাজি বিক্রি হচ্ছে কি না, সে দিকেও নজর রাখা হবে।
নিষিদ্ধ বাজির বিরুদ্ধে অভিযান চালানোর কথাও জানিয়েছে প্রশাসন। দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, ইতিমধ্যে বড়বাজার এলাকা থেকে ১১০ কেজি নিষিদ্ধ বাজি উদ্ধার করা হয়েছে। এই ঘটনায় সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার কথা জানানো হয়েছে।
প্রশাসনের তরফে আরও জানানো হয়েছে, নিয়ম ভাঙলে আইন অনুযায়ী পদক্ষেপ করা হবে। সাধারণ মানুষ যাতে নিষিদ্ধ বাজি বিক্রি, বেআইনি বাজির বাজার অথবা নির্ধারিত সময়ের বাইরে বাজি পোড়ানোর অভিযোগ জানাতে পারেন, তার জন্য হেল্পলাইন চালুর কথাও বলা হয়েছে। তবে সেই হেল্পলাইনের নম্বর প্রকাশ্যে এলে তবেই তা নিশ্চিতভাবে জানানো সম্ভব।
স্বরাষ্ট্রসচিবের বার্তা, নিজের উৎসবের আনন্দ যেন অন্যের অসুবিধা বা ক্ষতির কারণ না হয়। তাই কালীপুজো ও ছটপুজোয় বাজি পোড়ানোর আগে নির্ধারিত সময়, অনুমোদিত বাজির ধরন এবং নিরাপত্তাবিধি সম্পর্কে সচেতন থাকা জরুরি।



