নাম না করে দিব্যেন্দু-শুভেন্দুদের তীব্র কটাক্ষ সুকান্তর, ‘মানুষ হচ্ছে জলের মত’ কেন বললেন?

"মানুষ হচ্ছে জলের মতো, যে পাত্রে রাখবেন সেই পাত্রের আকার ধারণ করবে। নেতারাও তাই, নেতারাও তো মানুষই।"

নজরবন্দি ডিজিটাল ডেস্ক

প্রাথমিক শিক্ষক নিয়োগ দুর্নীতির তালিকায় বিজেপি নেতা দিব্যেন্দু অধিকারীর নাম জড়িয়েছে। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে বিজেপির অভ্যন্তরে ব্যাপক অচলাবস্থা তৈরি হয়েছে। রাজ্য বিজেপির সাধারণ সম্পাদক জগন্নাথ চট্টোপাধ্যায়ের একটি ফেসবুক পোস্ট এই বিতর্ককে আরও উসকে দিয়েছে। তাঁর পোস্টে বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারীর ভাই এবং বিজেপি নেতা দিব্যেন্দু অধিকারীকে স্কুল সার্ভিস কমিশন (এসএসসি) নিয়োগে সুপারিশ করার কথা উল্লেখ করা হয়েছে। (আরও পড়ুনঃ নিয়োগ দুর্নীতিতে বিদ্ধ শুভেন্দুর ভাই, গৃহযুদ্ধের পরিস্থিতি বঙ্গ বিজেপিতে! বিপাকে জগন্নাথ)

জগন্নাথ চট্টোপাধ্যায়ের পোস্টে রাজ্যের বিভিন্ন নেতা কতজনকে চাকরির সুপারিশ করেছেন, তার একটি তালিকা শেয়ার করা হয়। এই তালিকায় প্রথমেই ছিল দিব্যেন্দু অধিকারীর নাম। এছাড়াও প্রাক্তন আইপিএস অফিসার ও বর্তমান বিজেপি নেত্রী ভারতী ঘোষের নামও উল্লেখ করা হয়। ভারতী ঘোষ বিজেপির জাতীয় মুখপাত্রের তালিকায়ও রয়েছেন।

নাম না করে দিব্যেন্দু-শুভেন্দুদের তীব্র কটাক্ষ সুকান্তর, ‘মানুষ হচ্ছে জলের মত’ কেন বললেন?

নাম না করে দিব্যেন্দু-শুভেন্দুদের তীব্র কটাক্ষ সুকান্তর, 'মানুষ হচ্ছে জলের মত' কেন বললেন?
নাম না করে দিব্যেন্দু-শুভেন্দুদের তীব্র কটাক্ষ সুকান্তর, ‘মানুষ হচ্ছে জলের মত’ কেন বললেন?

জগন্নাথ তাঁর পোস্টে লিখেছিলেন, “কোনও সেটিং নেই, কেউ ছাড় পাবেন না। একটু সময় লাগতে পারে!” এই মন্তব্যে বিজেপির অভ্যন্তরে তীব্র প্রতিক্রিয়া দেখা দেয়। বিশেষ করে, দলেরই একজন নেতা বিরোধী দলনেতার ভাইকে সরাসরি টার্গেট করায় বিতর্ক ছড়িয়ে পড়ে।

বিজেপির অভ্যন্তরীণ বিতর্ক:
জগন্নাথ চট্টোপাধ্যায়ের এই পোস্ট বিজেপির অন্দরমহলে ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি করেছে। অনেকেই প্রশ্ন তুলেছেন, দিব্যেন্দু অধিকারী এবং ভারতী ঘোষ উভয়েই এখন বিজেপিতে রয়েছেন। একজন দলীয় নেতার কি তাদের এভাবে টার্গেট করা উচিত? বিশেষ করে, “কেউ ছাড় পাবেন না” এই ধরনের মন্তব্য করা কি যথাযথ?

বিজেপির রাজ্য সভাপতি সুকান্ত মজুমদার এই বিষয়ে সতর্ক মন্তব্য করেছেন। তিনি বলেন, “মানুষ হচ্ছে জলের মতো, যে পাত্রে রাখবেন সেই পাত্রের আকার ধারণ করবে। নেতারাও তাই, নেতারাও তো মানুষই। তৃণমূলে থাকলে তাঁদের তৃণমূলের পলিসি অনুসারে কাজ করতে হয়। তাই লিস্ট দিয়েছিলেন তাঁরা।” সুকান্তের এই মন্তব্যে তীব্র কটাক্ষ ও ইঙ্গিত পাওয়া যায়। পর্যবেক্ষকদের মতে, তাঁর বক্তব্যে এটাই ইঙ্গিত করা হয়েছে যে তৃণমূলের ‘চোর’ বিজেপিতে যোগ দিয়ে ‘সাধু’ হয়ে গিয়েছে।

দিব্যেন্দু অধিকারী ও বিজেপির সম্পর্ক:
দিব্যেন্দু অধিকারী একদা তৃণমূল কংগ্রেসের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। ২০১৬ সালে তিনি তমলুক লোকসভা আসন থেকে সাংসদ নির্বাচিত হন। ২০১৯ সালে তিনি আবার তৃণমূলের টিকিটে জয়লাভ করেন। তবে ২০২০ সালে তাঁর ভাই শুভেন্দু অধিকারী বিজেপিতে যোগ দেওয়ার পর দিব্যেন্দু তৃণমূলের সঙ্গে দূরত্ব বাড়ান। ২০২৪ সালের লোকসভা নির্বাচনের আগে তিনি আনুষ্ঠানিকভাবে বিজেপিতে যোগ দেন।

নিয়োগ দুর্নীতির পটভূমি:
২০১৪ সালের প্রাথমিক টেট পরীক্ষার পর ২০১৬ সালে শিক্ষক নিয়োগ প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়। এই নিয়োগ প্রক্রিয়ায় দুর্নীতির অভিযোগ ওঠে এবং সিবিআই তদন্ত শুরু করে। গত বছর জুন মাসে সিবিআই বিকাশ ভবনের ওয়্যারহাউসে তল্লাশি চালিয়ে একটি তালিকা উদ্ধার করে, যেখানে বেশ কয়েকজন বিশিষ্ট ব্যক্তির নাম ছিল। এই তালিকায় দিব্যেন্দু অধিকারী, ভারতী ঘোষ, তৃণমূলের মুখ্যসচেতক নির্মল ঘোষ, প্রাক্তন মন্ত্রী শ্যামল সাঁতরা, বিধায়ক শওকত মোল্লা এবং বীণা মণ্ডলদের নাম উল্লেখ ছিল।

সবচেয়ে আগে সঠিক খবর, প্রতি মুহুর্তে। আমাদের ফলো করুন
Google News Google News

সদ্য প্রকাশিত