নজরবন্দি ব্যুরোঃ অনেক চড়াই উৎরাই পেরিয়ে অবশেষে হাইকোর্টের নির্দেশে হচ্ছে গঙ্গাসাগর মেলা। তবে সেই মেলা ঘিরে রাজনৈতিক উত্তাপ এখনও কাটেনি। মেলায় সঠিকভাবে কোভিড বিধি পালন হচ্ছে কিনা তার জন্যে নজরদারি কমিটি গড়েছে হাইকোর্ট। সেই কমিটি থেকে তাঁর নাম বাদ যাওয়ার পর বুধবার সরব হলেন বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী। বললেন, ‘রাজ্য সরকার আমাকে ভয় পায়’!
আরও পড়ুনঃ করোনাকে বধ করে, আজ থেকে দাদাগিরির সেটে ফিরছেন দাদা
নিজের স্বপক্ষে যুক্তি টেনে শুভেন্দুর দাবি, তাঁকে ভয় পায় বলেই রাজ্য সরকার কমিটিতে তাঁর নাম থাকা নিয়ে আপত্তি তুলেছিল হাই কোর্টে। বুধবার স্বামী বিবেকানন্দের ১০৭ তম জন্মদিন উপলক্ষে বিবেকানন্দ রোডে স্বামীজীর মূর্তিতে মাল্যদান করেন শুভেন্দু অধিকারী। সেখান থেকেই রাজ্য সরকার তথা মমতা বন্দোপাধ্যায় কে কটাক্ষ করেন নন্দীগ্রামের বিধায়ক।

সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে রাজ্যের বিরোধী দলনেতা বলেন, ‘‘বিরোধী দলনেতাকে সরকার ভয় পায়। তাই সাগরমেলার কমিটি থেকে আমার নাম বাদ দেওয়ার জন্য এত সওয়াল করেছে আদালতে!’’ তাঁর কথায়, “আমি কমিটির সদস্য হওয়ার জন্য আদালতের দ্বারস্থ হইনি। রাজ্য় সরকারের আপত্তিতে আমাকে না রেখেছেন, তাতেও অসুবিধা নেই। প্রধান বিচারপতির সিদ্ধান্তকে সম্মান করা উচিত।”
নিজের নাম করে তিনি বলেন, “শুভেন্দু অধিকারী কোন ব্যক্তি নয়, বিরোধী দলনেতা। বিচারপতির ইচ্ছে হয়েছে যোগ করেছিলেন, আবার বাদও দিয়েছেন। এই যে বাদ দেওয়া হয়েছে, তা রাজ্য সরকারের উদ্দেশ্য প্রণোদিত।” গঙ্গাসাগর মেলা হওা উচিত না উচিত নয় তা নিয়ে শুভেন্দুর পর্যবেক্ষন, “ভারতীয় জনতা পার্টি গঙ্গাসাগর মেলা বন্ধ করার কথাও বলেনি, আবার গঙ্গাসাগর মেলা করতে হবে সেটাও বলেনি।”
রাজ্য সরকার আমাকে ভয় পায়, সাগরমেলা কমিটি নিয়ে হুঙ্কার শুভেন্দুর

উল্লেখ্য, রাজ্যে করোনা পরিস্থিতিতে এ বছর গঙ্গাসাগর মেলা বন্ধ রাখার দাবি নিয়ে কলকাতা হাই কোর্টে মামলা করেছিলেন চিকিৎসক অভিনন্দন মণ্ডল। পরে আরও পাঁচটি মামলা যুক্ত হয়। মঙ্গলবার গঙ্গাসাগর মেলায় শর্তসাপেক্ষে অনুমতি দিয়েছে আদালত। তবে গঠন করা হয়েছে নজরদারি কমিটি, যেখানে শুভেন্দু অধিকারীর নাম ছিল। পরে রাজ্য সরকারের আপত্তিতে তা বাদ দেওয়া হয়।



