ক্ষমতায় আসার পর প্রশাসনের বিভিন্ন স্তরে দুর্নীতির চিহ্ন মিলছে বলে দাবি করলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। রবিবার নিউ টাউনের কনভেনশন সেন্টারে বিজেপির এক প্রশিক্ষণ শিবিরে বক্তব্য রাখতে গিয়ে তিনি পূর্বতন তৃণমূল সরকারের বিরুদ্ধে তীব্র আক্রমণ শানান। তাঁর দাবি, সরকারি প্রকল্প থেকে প্রশাসনিক ব্যবস্থাপনা— সর্বত্র অনিয়মের প্রমাণ মিলছে। এমন পরিস্থিতিতে কটাক্ষ করে তিনি বলেন, “যেখানেই হাত দিচ্ছি, পচা-দুর্গন্ধ বেরোচ্ছে। এ বার ব্রিগেড প্যারেড গ্রাউন্ডেই জেল বানাতে হবে।”
দুর্নীতির প্রসঙ্গ টেনে মুখ্যমন্ত্রী বিশেষভাবে লক্ষ্মীর ভান্ডার প্রকল্পের কথা উল্লেখ করেন। তাঁর দাবি, প্রকল্পের উপভোক্তাদের তালিকা যাচাই করতে গিয়ে বহু অসঙ্গতি ধরা পড়েছে। শুভেন্দুর বক্তব্য, সরকারের নথিতে এমন বহু নাম পাওয়া গিয়েছে, যাদের ভোটার তালিকায় অস্তিত্ব নেই। পাশাপাশি কিছু পুরুষের নামও প্রকল্পের সুবিধাভোগীদের তালিকায় রয়েছে বলে অভিযোগ করেন তিনি।


বিজেপি সরকারের চালু করা অন্নপূর্ণা যোজনার প্রসঙ্গও তুলে ধরেন মুখ্যমন্ত্রী। তাঁর মতে, সরকারি অর্থের সঠিক ব্যবহার নিশ্চিত করতেই নতুন নীতিগত পরিবর্তন আনা হয়েছে। স্বচ্ছতার ভিত্তিতে প্রশাসন পরিচালনা করলে আগামী কয়েক দশক ধরে তার সুফল রাজ্যের মানুষ পাবেন বলেও দাবি করেন তিনি।
তবে শুধু বিরোধীদের সমালোচনা নয়, দলের কর্মীদের উদ্দেশেও গুরুত্বপূর্ণ বার্তা দেন শুভেন্দু। ক্ষমতায় আসার পর কোনও ধরনের অহংকার বা আত্মতুষ্টিতে ভুগলে চলবে না বলে সতর্ক করেন তিনি। তাঁর কথায়, মানুষের বিপুল প্রত্যাশা পূরণ করতে হলে দল ও সরকারের মধ্যে সমন্বয় বজায় রেখে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করতে হবে।
সভা থেকে বিজেপির নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নের বিষয়েও একাধিক ঘোষণা করেন মুখ্যমন্ত্রী। তিনি জানান, ভোট-পরবর্তী রাজনৈতিক হিংসায় নিহত ৩১৫ জন বিজেপি কর্মীর পরিবারের পাশে দাঁড়ানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। প্রত্যেক পরিবারের একজন সদস্যকে চাকরি এবং মুখ্যমন্ত্রী ত্রাণ তহবিল থেকে ৫ লক্ষ টাকা করে আর্থিক সহায়তা দেওয়া হবে।


সীমান্ত নিরাপত্তা ও নাগরিকত্ব সংক্রান্ত বিষয়েও বক্তব্য রাখেন শুভেন্দু। তাঁর দাবি, সীমান্ত এলাকায় বিএসএফের জন্য জমি হস্তান্তরের কাজ দ্রুত এগোচ্ছে। পাশাপাশি অবৈধ অনুপ্রবেশকারীদের চিহ্নিত করে প্রয়োজনীয় আইনি প্রক্রিয়া অনুসরণ করা হচ্ছে বলেও জানান তিনি।
এছাড়া আসন্ন জনগণনা ও জাতিগত জনগণনা প্রসঙ্গেও তথ্য দেন মুখ্যমন্ত্রী। তাঁর বক্তব্য, আগামী আগস্ট মাস থেকে ধাপে ধাপে সমীক্ষার কাজ শুরু হবে এবং পরবর্তী প্রশাসনিক পরিকল্পনার ক্ষেত্রে এই তথ্য গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে।
রাজনৈতিক মহলের মতে, প্রশাসনিক স্বচ্ছতা, দুর্নীতিবিরোধী অবস্থান এবং নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নের বার্তা দিতেই এই সভাকে ব্যবহার করেছেন শুভেন্দু অধিকারী। তবে তাঁর একাধিক দাবি ও অভিযোগ নিয়ে আগামী দিনে রাজনৈতিক তরজা আরও তীব্র হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
সবচেয়ে আগে সঠিক খবর, প্রতি মুহূর্তে
Google News এবং Google Discover-এ নজরবন্দি-কে Follow করে রাখুন।



