ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগ থেকে নারী সংরক্ষণ, ৫ দফা দাবিতে কেন্দ্রকে চাপে ‘ককরোচ জনতা পার্টি’

যন্তর মন্তরে বিক্ষোভ দেখিয়ে শিক্ষা দুর্নীতি, বিচারব্যবস্থা, নির্বাচন কমিশন, নারী সংরক্ষণ ও দলবদল রুখতে ৫ দফা দাবি তুলল ককরোচ জনতা পার্টি।

নজরবন্দি ডিজিটাল ডেস্ক

সোশ্যাল মিডিয়ার গণ্ডি পেরিয়ে এবার সরাসরি রাজপথে নামল ‘ককরোচ জনতা পার্টি’ (সিজেপি)। নিট-সহ শিক্ষা ব্যবস্থার বিভিন্ন অনিয়মের বিরুদ্ধে দিল্লির যন্তর মন্তরে বিক্ষোভ দেখিয়ে কেন্দ্রীয় সরকারকে ৫ দফা দাবি জানাল সংগঠনটি। শুধু শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগ নয়, বিচারব্যবস্থা, নির্বাচন প্রক্রিয়া, সংবাদমাধ্যম এবং নারী প্রতিনিধিত্ব নিয়েও একাধিক সংস্কারের দাবি তুলেছে আন্দোলনকারীরা।

শনিবারের বিক্ষোভ কর্মসূচিতে দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে বহু যুবক-যুবতী অংশ নেন। সংগঠনের দাবি, শিক্ষা ক্ষেত্রে দুর্নীতি ও স্বচ্ছতার অভাবের বিরুদ্ধে সাধারণ মানুষের ক্ষোভই এই আন্দোলনের মূল শক্তি। তাদের হুঁশিয়ারি, আগামী সাত দিনের মধ্যে কেন্দ্র কোনও পদক্ষেপ না করলে দেশজুড়ে বৃহত্তর আন্দোলনের পথে হাঁটবে তারা।

সিজেপির প্রথম দাবি বিচার বিভাগীয় সংস্কার। সংগঠনের মতে, অবসরপ্রাপ্ত প্রধান বিচারপতিদের রাজ্যসভা বা সরকারি পদে নিয়োগ বিচারব্যবস্থার নিরপেক্ষতা নিয়ে প্রশ্ন তোলে। তাই অবসরের পর কোনও প্রধান বিচারপতিকে রাজনৈতিক বা সরকারি পদে নিয়োগ না করার দাবি জানিয়েছে তারা।

দ্বিতীয় দাবি নির্বাচনী জবাবদিহি নিয়ে। ভোটার তালিকা থেকে বৈধ নাগরিকদের নাম বাদ পড়ার অভিযোগ তুলে নির্বাচন কমিশনের দায়বদ্ধতা আরও কঠোর করার পক্ষে সওয়াল করেছে সংগঠন। নির্বাচন প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করার দাবিও তোলা হয়েছে।

মহিলাদের রাজনৈতিক প্রতিনিধিত্ব বাড়ানোর দাবিও রয়েছে সিজেপির এজেন্ডায়। লোকসভা, রাজ্যসভা এবং কেন্দ্রীয় মন্ত্রিসভায় ৫০ শতাংশ নারী সংরক্ষণ বাধ্যতামূলক করার দাবি জানিয়েছে সংগঠনটি। তাদের মতে, সিদ্ধান্ত গ্রহণের স্তরে মহিলাদের সমান অংশগ্রহণ নিশ্চিত করা জরুরি।

সংবাদমাধ্যম নিয়েও সরব হয়েছে সংগঠন। গণমাধ্যমের স্বাধীনতা ও মালিকানার কাঠামো নিয়ে প্রশ্ন তুলে সংবাদমাধ্যমের উপর আরও নিরপেক্ষ নজরদারি এবং বিতর্কিত অভিযোগগুলির নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানিয়েছে তারা।

রাজনীতিতে দলবদলের প্রবণতা রুখতেও কড়া আইন প্রণয়নের দাবি তুলেছে সিজেপি। সংগঠনের মতে, নির্বাচিত জনপ্রতিনিধিরা দল পরিবর্তন করলে ভোটারদের রায়ের প্রতি অসম্মান দেখানো হয়। তাই দলত্যাগের ক্ষেত্রে কঠোর বিধিনিষেধ আরোপের পক্ষে মত দিয়েছে তারা।

বিক্ষোভ মঞ্চ থেকে সংগঠনের প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দীপক জানান, আন্দোলন এখনই থামছে না। আগামী দিনগুলিতে দেশজুড়ে এই কর্মসূচি আরও বিস্তৃত করা হবে। তাঁর দাবি, হাজার হাজার যুবক এই আন্দোলনের সঙ্গে যুক্ত হয়েছেন এবং শিক্ষাব্যবস্থা ও প্রশাসনিক স্বচ্ছতার প্রশ্নে তাঁরা আপস করতে রাজি নন। উল্লেখযোগ্যভাবে, এই আন্দোলনে পরিবেশকর্মী সোনাম ওয়াংচুকও সমর্থন জানিয়েছেন।

সবচেয়ে আগে সঠিক খবর, প্রতি মুহূর্তে

Google News Google News এবং Google Discover Google Discover -এ নজরবন্দি-কে Follow করে রাখুন।

আরও পড়ুন