তোলাবাজির অভিযোগে নাম জড়ানোর পর থেকেই কার্যত উধাও কলকাতার ১০৮ নম্বর ওয়ার্ডের তৃণমূল কাউন্সিলর সুশান্ত ঘোষ। ফোন বন্ধ, এলাকায় দেখা নেই তাঁর। এরই মধ্যে ওড়িশা সীমান্তের কাছে পুলিশের নাকা তল্লাশিতে ধরা পড়ল তাঁর ব্যবহৃত গাড়ি। গাড়িতে ছিলেন পরিবারের সদস্যরা, আর চালককে ঘিরেই এখন তদন্তে নতুন সূত্র খুঁজছে পুলিশ।
সুশান্ত ঘোষের বিরুদ্ধে ইতিমধ্যেই ফেরার নোটিস জারি করেছে আনন্দপুর থানা। অভিযোগ, বাজারে দোকান বরাদ্দ ও নির্মাণকে কেন্দ্র করে কয়েক লক্ষ টাকা করে আদায় করা হয়েছিল ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে। সেই অভিযোগের ভিত্তিতেই শুরু হয়েছে তদন্ত।


পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, গত ১ জুন একাধিক হকার ও ব্যবসায়ী আনন্দপুর থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন। অভিযোগে বলা হয়, ২০২২ থেকে ২০২৩ সালের মধ্যে বাজার এলাকায় নতুন টিন ও শাটারের দোকান তৈরির সময় ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে নির্দিষ্ট হারে টাকা নেওয়া হয়েছিল।
অভিযোগকারীদের দাবি, দোকানের আয়তন অনুযায়ী একটি ‘রেট চার্ট’ তৈরি করা হয়েছিল। সেই তালিকা মেনে অর্থ দিতে বাধ্য করা হয় ব্যবসায়ীদের। শুধু তাই নয়, বাজারের একাধিক দোকান কয়েক লক্ষ টাকার বিনিময়ে বিক্রিও করা হয়েছিল বলে অভিযোগ।
মামলা দায়ের হওয়ার পর থেকেই সুশান্ত ঘোষের খোঁজে তল্লাশি শুরু করে পুলিশ। বিভিন্ন নাকা চেকিং পয়েন্টে নজরদারিও বাড়ানো হয়। সেই তল্লাশির মধ্যেই শুক্রবার বেলদা সংলগ্ন ওড়িশা সীমান্তের কাছে একটি গাড়ি আটক করা হয়।


তদন্তকারীদের দাবি, আটক হওয়া গাড়িটি সুশান্ত ঘোষের ব্যবহৃত গাড়ি। যদিও সেখানে কাউন্সিলরকে পাওয়া যায়নি। গাড়িতে তাঁর পরিবারের সদস্যরা ছিলেন বলে জানা গিয়েছে।
সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়, গাড়ির চালককে আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ শুরু করেছে পুলিশ। তদন্তকারীদের সন্দেহ, সুশান্ত ঘোষের বর্তমান অবস্থান সম্পর্কে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য তাঁর কাছ থেকে পাওয়া যেতে পারে।
পুলিশের দাবি, চালকের বিরুদ্ধেও তোলাবাজি সংক্রান্ত অভিযোগ রয়েছে। ফলে তাঁকে ঘিরে তদন্তের গুরুত্ব আরও বেড়েছে। এখন দেখার, জিজ্ঞাসাবাদ থেকে কোনও নতুন তথ্য সামনে আসে কি না এবং তার ভিত্তিতে সুশান্ত ঘোষের অবস্থান সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়া যায় কি না।
রাজ্যে রাজনৈতিক পালাবদলের পর একাধিক পুর প্রতিনিধি ও স্থানীয় নেতার বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগের তদন্তে গতি এসেছে। সেই প্রেক্ষাপটে সুশান্ত ঘোষকে ঘিরে এই তদন্তও রাজনৈতিকভাবে তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করছেন পর্যবেক্ষকরা।
ফেরার নোটিস জারির পরও সুশান্ত ঘোষের হদিশ না মেলায় তদন্তকারীরা একাধিক সম্ভাবনা খতিয়ে দেখছেন। তবে ওড়িশা সীমান্তে তাঁর গাড়ি ধরা পড়ার ঘটনায় তদন্তে নতুন মোড় এসেছে বলেই মনে করা হচ্ছে।
সবচেয়ে আগে সঠিক খবর, প্রতি মুহূর্তে
Google News এবং Google Discover-এ নজরবন্দি-কে Follow করে রাখুন।



