দলীয় সংকটের আবহে কালীঘাটে জরুরি বৈঠক ডাকলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। কিন্তু রাজনৈতিকভাবে তাৎপর্যপূর্ণ সেই বৈঠকে দেখা গেল না ‘বিদ্রোহী’ শিবিরের কোনও মুখ। তৃণমূল কংগ্রেসের সাংগঠনিক পুনর্গঠন, বিধানসভা ও সংসদীয় দলে ভাঙনের জল্পনা এবং একের পর এক পদত্যাগের আবহে এই বৈঠককে ঘিরে তৈরি হয়েছে নতুন রাজনৈতিক কৌতূহল।
বিধানসভা নির্বাচনে পরাজয়ের পর থেকেই তৃণমূলের অন্দরে অস্বস্তির আবহ তৈরি হয়েছে। দলীয় ও শাখা সংগঠনের সমস্ত কমিটি ভেঙে দেওয়ার সিদ্ধান্তের ৪৮ ঘণ্টার মধ্যেই কালীঘাটে ঘনিষ্ঠ নেতাদের নিয়ে বৈঠকে বসেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।


বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়, সদ্য প্রাক্তন মেয়র ফিরহাদ হাকিম, কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়, চন্দ্রিমা ভট্টাচার্য, মদন মিত্র, কুণাল ঘোষ-সহ দলের একাধিক পরিচিত মুখ। রাজনৈতিক মহলের মতে, উপস্থিত অধিকাংশ নেতাই দীর্ঘদিনের মমতা-ঘনিষ্ঠ এবং দলের ‘আদি’ শিবিরের প্রতিনিধি।
তবে নজর কেড়েছে অন্য একটি বিষয়। সাম্প্রতিক সময়ে দলের বিরুদ্ধে সরব হওয়া কিংবা ভিন্ন অবস্থান নেওয়া কোনও বিধায়ক বা নেতাকে এদিনের বৈঠকে দেখা যায়নি। ফলে দলীয় ঐক্য পুনরুদ্ধারের প্রচেষ্টায় কতটা সাফল্য মিলবে, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে।
বিধানসভায় বিরোধী দলনেতা নির্বাচনকে কেন্দ্র করে যে মতভেদ প্রকাশ্যে এসেছে, তা ইতিমধ্যেই তৃণমূলের অন্দরের বিভাজনকে সামনে এনেছে। দলীয় সিদ্ধান্তের বাইরে গিয়ে কিছু বিধায়কের পদক্ষেপ রাজনৈতিক পরিস্থিতিকে আরও জটিল করেছে।


সূত্রের দাবি, বৈঠকের আগে কয়েকজন ভিন্নমতাবলম্বী বিধায়কের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা হয়েছিল। এমনকি তাঁদের মধ্যে কেউ কেউ এখনও মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে নিজের নেত্রী বলেই উল্লেখ করেছেন। সেই কারণেই বৈঠকে তাঁদের উপস্থিতি নিয়ে জল্পনা তৈরি হয়েছিল।
কিন্তু শেষ পর্যন্ত সেই সম্ভাবনা বাস্তবায়িত হয়নি। ফলে কালীঘাটের বৈঠক মূলত দলীয় অনুগত শিবিরকেই কেন্দ্র করে সীমাবদ্ধ থাকল বলে মনে করছেন পর্যবেক্ষকরা।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এই মুহূর্তে তৃণমূলের সামনে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ সাংগঠনিক ঐক্য বজায় রাখা। বিধানসভার পাশাপাশি লোকসভা এবং অন্যান্য সাংগঠনিক স্তরেও ভাঙনের জল্পনা ঘুরপাক খাচ্ছে।
এমন পরিস্থিতিতে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের এই বৈঠককে অনেকেই ‘ড্যামেজ কন্ট্রোল’ প্রচেষ্টা হিসেবে দেখছেন। দলের পুরনো নেতৃত্বকে এক ছাতার তলায় এনে ভবিষ্যৎ কৌশল নির্ধারণই ছিল বৈঠকের মূল লক্ষ্য বলে মনে করা হচ্ছে।
তবে রাজনৈতিক বাস্তবতা বলছে, শুধুমাত্র অনুগতদের নিয়ে বৈঠক করলেই সংকট কাটবে না। ভিন্নমতাবলম্বীদের কতটা ফেরানো যায় এবং সাংগঠনিক নিয়ন্ত্রণ কতটা পুনর্গঠন করা সম্ভব হয়, তার উপরই নির্ভর করবে দলের আগামী দিনের পথচলা।
সব মিলিয়ে, কালীঘাটের বৈঠক তৃণমূলের অভ্যন্তরীণ সংকটের সমাধান করেছে কি না, তার উত্তর এখনও স্পষ্ট নয়। তবে এটুকু পরিষ্কার, দলীয় ঐক্য ও নেতৃত্বের গ্রহণযোগ্যতা এখন তৃণমূলের সবচেয়ে বড় রাজনৈতিক পরীক্ষার মুখে।
সবচেয়ে আগে সঠিক খবর, প্রতি মুহূর্তে
Google News এবং Google Discover-এ নজরবন্দি-কে Follow করে রাখুন।



