অরূপ বিশ্বাস ও স্বরূপ বিশ্বাসকে ঘিরে বিতর্কের আবহে এবার ক্ষোভের কেন্দ্রবিন্দু দক্ষিণ কলকাতার ঐতিহ্যবাহী সুরুচি সংঘ। দীর্ঘদিন ধরে দুর্গাপুজোর জন্য আন্তর্জাতিক খ্যাতি পাওয়া এই ক্লাবে তালা ভেঙে ঢুকে বিক্ষোভ দেখালেন উত্তেজিত স্থানীয় বাসিন্দাদের একাংশ। আর সেখানেই সামনে এল একাধিক চাঞ্চল্যকর দাবি।
সুরুচি সংঘের সঙ্গে বহু বছর ধরেই যুক্ত ছিল প্রাক্তন মন্ত্রী অরূপ বিশ্বাসের নাম। ক্লাব পরিচালনায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা ছিল তাঁর ভাই স্বরূপ বিশ্বাসেরও। বর্তমানে স্বরূপ পুলিশি হেফাজতে রয়েছেন। এই পরিস্থিতিতেই ক্লাব চত্বরে জমতে থাকে ক্ষোভ।


স্থানীয়দের একাংশের অভিযোগ, ক্লাবের নির্দিষ্ট কিছু অংশ সাধারণ মানুষের নাগালের বাইরে রাখা হতো। বিক্ষোভের সময় তালা ভেঙে ভিতরে ঢুকে তাঁরা এমন কিছু কক্ষ দেখতে পান, যা নিয়ে এলাকায় শুরু হয়েছে তীব্র আলোচনা।
বিক্ষোভকারীদের দাবি, ক্লাব ভবনের উপরের তলায় বিলাসবহুল থাকার ব্যবস্থা ছিল। সেখানে খাট, আসবাবপত্র এবং ব্যক্তিগত ব্যবহারের নানা সামগ্রীর উপস্থিতি দেখে তাঁরা বিস্মিত হয়েছেন। ঘটনাস্থল থেকে মোবাইল ফোন, ট্যাবলেটের খালি বাক্স এবং দামী শাড়িও দেখতে পাওয়ার দাবি করেছেন স্থানীয়রা।
এক বাসিন্দার কথায়, বাইরে থেকে এটি একটি সাধারণ ক্লাবঘর বলে মনে হলেও ভিতরে সম্পূর্ণ ভিন্ন ছবি দেখা গিয়েছে। তাঁদের অভিযোগ, এলাকার সাধারণ মানুষ দীর্ঘদিন ধরে ওই অংশে প্রবেশের সুযোগ পাননি।


আরও কয়েকজন স্থানীয় বাসিন্দার দাবি, দীর্ঘ সময় ধরে ওই কক্ষগুলি ব্যবহার করা হয়েছে। সেখানে আধুনিক সুযোগ-সুবিধাও ছিল বলে তাঁদের অভিযোগ। যদিও এই দাবিগুলির স্বাধীনভাবে কোনও সরকারি বা তদন্তকারী সংস্থার তরফে এখনও নিশ্চিতকরণ হয়নি।
ঘটনাস্থল থেকে কিছু নথিপত্রও উদ্ধার হয়েছে বলে দাবি উঠেছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, সেখানে পুরনো নির্বাচনী নথি, ভোটার তালিকা এবং পোলিং এজেন্ট সংক্রান্ত কিছু কাগজপত্র দেখা গিয়েছে। সেই নথিগুলি কীভাবে ক্লাবে এল এবং কেন সংরক্ষিত ছিল, তা নিয়েও প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে।
এছাড়াও অভিনয় জগতে সুযোগ পাওয়ার আশায় জমা দেওয়া কিছু বায়োডেটা ও আবেদনপত্রও পাওয়া গিয়েছে বলে দাবি বিক্ষোভকারীদের। তবে এই সমস্ত নথির সত্যতা এবং উৎস সম্পর্কে এখনও কোনও সরকারি বক্তব্য সামনে আসেনি।
রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, সাম্প্রতিক ঘটনাবলির জেরে সুরুচি সংঘকে ঘিরে যে ক্ষোভ তৈরি হয়েছে, তা শুধুমাত্র একটি ক্লাবকে কেন্দ্র করে নয়, বরং দীর্ঘদিনের প্রভাব ও ক্ষমতার রাজনীতির বিরুদ্ধেও জনমতের বহিঃপ্রকাশ।
তবে ক্লাবের ভিতরে কী কী পাওয়া গিয়েছে এবং সেগুলির সঙ্গে কোনও বেআইনি কর্মকাণ্ডের যোগ রয়েছে কি না, তা তদন্ত ছাড়া নিশ্চিতভাবে বলা সম্ভব নয়। প্রশাসন বা তদন্তকারী সংস্থা বিষয়টি নিয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে মুখ খুললে তবেই পুরো ছবিটা স্পষ্ট হবে।
এই মুহূর্তে দক্ষিণ কলকাতার অন্যতম পরিচিত ক্লাব সুরুচি সংঘকে ঘিরে তৈরি হওয়া বিতর্ক এবং জনরোষই রাজনৈতিক ও সামাজিক মহলের অন্যতম আলোচ্য বিষয় হয়ে উঠেছে।
সবচেয়ে আগে সঠিক খবর, প্রতি মুহূর্তে
Google News এবং Google Discover-এ নজরবন্দি-কে Follow করে রাখুন।



