দুর্গাপুজোর প্রস্তুতিতে অনিশ্চয়তা! সরকারি সার্কুলারের অপেক্ষায় কলকাতার পুজো কমিটিগুলি, থমকে মণ্ডপের কাজ

রথযাত্রার পরেও শুরু হয়নি দুর্গাপুজোর জোর প্রস্তুতি। সরকারি সার্কুলারের অপেক্ষায় কলকাতার অধিকাংশ পুজো কমিটি ও মণ্ডপশিল্পীরা।

নজরবন্দি ডিজিটাল ডেস্ক

দুর্গাপুজো ২০২৬ (Durga Puja 2026) সামনে থাকলেও কলকাতা (Kolkata) ও শহরতলির অধিকাংশ পুজো কমিটিতে এখনও শুরু হয়নি স্বাভাবিক প্রস্তুতি। কারণ একটাই—সরকারি সার্কুলারের অপেক্ষা। প্রতি বছর রথযাত্রার পর থেকেই যেখানে মণ্ডপ নির্মাণের কাজ জোরকদমে শুরু হয়ে যায়, সেখানে এ বছর প্রশাসনের আনুষ্ঠানিক নির্দেশ না আসায় ‘ধীরে চলো’ নীতিতেই এগোচ্ছেন উদ্যোক্তারা। ফলে মণ্ডপ, স্পনসরশিপ থেকে শুরু করে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত আপাতত ঝুলে রয়েছে।

পুজো উদ্যোক্তাদের দাবি, এখনও পর্যন্ত সরকার বা স্থানীয় প্রশাসনের তরফে এ বছরের পুজো সংক্রান্ত কোনও নির্দেশিকা প্রকাশ করা হয়নি। এমনকি গত বছরের নিয়মই বহাল থাকবে কি না, সেই বিষয়েও স্পষ্ট কোনও বার্তা মেলেনি। ফলে প্রস্তুতি শুরু করতে গিয়ে একাধিক বাস্তব সমস্যার মুখে পড়তে হচ্ছে।

ফোরাম ফর দুর্গোৎসব (Forum for Durgotsav)-এর সাধারণ সম্পাদক অঞ্জন উকিল বলেন, পুজোর পরিকল্পনা এগিয়ে নিয়ে যেতে হলে অন্তত প্রশাসনের লিখিত নির্দেশ প্রয়োজন। মণ্ডপের আকার, রাস্তা ব্যবহারের নিয়ম, নিরাপত্তা সংক্রান্ত শর্ত বা অনুমতির বিষয়—সব ক্ষেত্রেই কমিটিগুলি স্পষ্টতা চাইছে। সরকারি নির্দেশ না থাকায় কোনও সিদ্ধান্তই চূড়ান্ত করা যাচ্ছে না।

একশোরও বেশি বছরের ঐতিহ্যবাহী Tala Barowari-র প্রতিনিধি অভিষেক ভট্টাচার্যের বক্তব্য, রাজনৈতিক পরিবর্তনের পর আগের সুবিধাগুলি বহাল থাকবে কি না, তা নিয়েও অনিশ্চয়তা রয়েছে। আগে মহালয়া থেকে লক্ষ্মীপুজো পর্যন্ত বিজ্ঞাপনের হোর্ডিংয়ের ক্ষেত্রে পুরসভার কর ছাড় এবং পুজোর বিদ্যুতের বিলেও নির্দিষ্ট রেয়াত মিলত। এ বছর সেই নীতিতে কোনও পরিবর্তন হবে কি না, তা এখনও স্পষ্ট নয়। এই অনিশ্চয়তার জেরে স্পনসররাও চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিতে পারছেন না।

উদ্বেগে রয়েছেন মণ্ডপশিল্পীরাও। বিশিষ্ট শিল্পী সুশান্ত পাল জানান, রাজনৈতিক পালাবদলের পর অনেক পুজো কমিটির কাঠামো ও সিদ্ধান্ত বদলেছে। বছরের শুরুতে কয়েকটি বড় পুজোর কাজের দায়িত্ব নিয়ে আলোচনা হলেও পরে কিছু কমিটি সেই পরিকল্পনা থেকে সরে এসেছে। তাঁর মতে, এমন অভিজ্ঞতা এ বছর একাধিক শিল্পীরই হয়েছে।

আরও এক মণ্ডপশিল্পী ভবতোষ সুতারও একই উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। তাঁর কথায়, প্রতি বছর জুলাই থেকেই যে কাজ শুরু হয়ে যেত, তা যদি অগস্টে শুরু হয়, তাহলে সময়ের চাপ অনেক বেড়ে যাবে। তাড়াহুড়ো করে মণ্ডপ নির্মাণ করলে কাজের মানের উপরও প্রভাব পড়তে পারে।

তবে পুজো উদ্যোক্তারা এখনও আশাবাদী। তাঁদের আশা, উল্টোরথের পরই সরকার দুর্গাপুজো সংক্রান্ত প্রয়োজনীয় নির্দেশিকা প্রকাশ করবে। সেই সার্কুলার প্রকাশের পরই কলকাতা ও জেলার বিভিন্ন পুজো কমিটিতে পূর্ণমাত্রায় প্রস্তুতি শুরু হবে বলে মনে করছেন উদ্যোক্তাদের একাংশ।

সবচেয়ে আগে সঠিক খবর, প্রতি মুহূর্তে

Google News Google News এবং Google Discover Google Discover -এ নজরবন্দি-কে Follow করে রাখুন।

আরও পড়ুন