স্বরূপ বিশ্বাসের গ্রেফতারির পর প্রথমবার মুখ খুললেন সাংসদ-অভিনেতা দেব। আর সেই প্রতিক্রিয়ায় উঠে এল টলিউডের অন্দরের বহু বিতর্কিত অধ্যায়ের কথা। স্বরূপ বিশ্বাসের বিরুদ্ধে সরাসরি ক্ষোভ উগরে দিয়ে দেব দাবি করেছেন, তৎকালীন পরিস্থিতি চলতে থাকলে তাঁকেও ‘ব্যান’-এর মুখে পড়তে হতে পারত। এমনকি প্রকাশ্যে ক্ষমা চাইতে চাপ দেওয়া হয়েছিল বলেও অভিযোগ তাঁর।
তোলাবাজি ও শ্লীলতাহানির অভিযোগে স্বরূপ বিশ্বাস গ্রেফতার হওয়ার পর থেকেই টলিপাড়ায় নানা প্রতিক্রিয়া সামনে আসছে। দীর্ঘদিন ধরে টেকনিশিয়ান, শিল্পী এবং প্রযোজকদের একাংশের মধ্যে জমে থাকা ক্ষোভও প্রকাশ্যে এসেছে। সেই আবহেই নিজের অভিজ্ঞতার কথা তুলে ধরলেন দেব।


অভিনেতার বক্তব্য, কোনও ব্যক্তির খারাপ সময়ে ব্যক্তিগত আক্রমণ করা তাঁর স্বভাবে নেই। তবে তিনি মনে করেন, প্রত্যেক মানুষকেই নিজের কাজের ফল ভোগ করতে হয়। দেবের দাবি, স্বরূপ বিশ্বাসের সময়কালে বহু শিল্পী ও টেকনিশিয়ান নানা সমস্যার মুখে পড়েছিলেন।
দেব জানিয়েছেন, তাঁকেও একসময় সামাজিক মাধ্যমে প্রকাশ্যে ক্ষমা চাইতে বলা হয়েছিল। সেই নির্দেশ না মানলে ভবিষ্যতে কাজ করতে দেওয়া হবে না বলেও ইঙ্গিত দেওয়া হয়েছিল বলে তাঁর অভিযোগ। যদিও সেই চাপের কাছে তিনি নতি স্বীকার করেননি।
শুধু শিল্পীরাই নন, বহু টেকনিশিয়ানও কাজ হারানোর ভয় নিয়ে দিন কাটিয়েছেন বলে দাবি করেছেন দেব। তাঁর মতে, ফিল্ম ইন্ডাস্ট্রির সঙ্গে যুক্ত বহু মানুষের জীবিকা অনিশ্চিত হয়ে পড়েছিল। অনেকেই মানসিক চাপে ভুগেছেন বলেও উল্লেখ করেন তিনি।


টলিউডে বহুল আলোচিত ‘ব্যান কালচার’ নিয়েও সরব হয়েছেন অভিনেতা। তাঁর অভিযোগ, শিল্পীদের কাজের সুযোগ থেকে বঞ্চিত করার সংস্কৃতি ইন্ডাস্ট্রির পক্ষে অত্যন্ত ক্ষতিকর ছিল। এই পরিস্থিতির বিরুদ্ধে অতীতে তিনি বিভিন্ন স্তরে আপত্তি জানিয়েছিলেন বলেও দাবি করেন।
বিশেষ করে নতুন ছবি এবং শিল্পী নির্বাচনের ক্ষেত্রে নানা ধরনের চাপ ও বাধার মুখে পড়তে হয়েছিল বলে জানান দেব। তাঁর কথায়, কোনও শিল্পীকে শুধুমাত্র মতপার্থক্যের কারণে কাজ থেকে দূরে রাখা উচিত নয়।
অভিনেতা অনির্বাণ ভট্টাচার্যের প্রসঙ্গও টেনে আনেন তিনি। দেব জানান, প্রতিকূল পরিস্থিতি সত্ত্বেও যোগ্য শিল্পীদের পাশে দাঁড়ানোর চেষ্টা করেছেন। প্রতিভার মূল্যায়ন হওয়া উচিত, ব্যক্তিগত সম্পর্ক বা ক্ষমতার ভিত্তিতে সিদ্ধান্ত নয়— এমন বার্তাও দেন তিনি।
তবে এত কিছুর পরেও প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের প্রতি তাঁর শ্রদ্ধা অটুট বলেই জানিয়েছেন দেব। তাঁর মতে, কোনও দায়িত্বপ্রাপ্ত ব্যক্তি কীভাবে সেই ক্ষমতা ব্যবহার করছেন, তা সবসময় নেতৃত্বের পক্ষে জানা সম্ভব হয় না।
একইসঙ্গে নতুন সরকারের প্রতিও আস্থা প্রকাশ করেছেন অভিনেতা-সাংসদ। তাঁর বক্তব্য, প্রশাসন বদলের পর পরিস্থিতি স্বাভাবিক করতে কিছুটা সময় প্রয়োজন। টলিউডের পরিবেশ আরও স্বচ্ছ ও মুক্ত হবে বলেও তিনি আশাবাদী।
সব মিলিয়ে, স্বরূপ বিশ্বাসের গ্রেফতারির পর দেবের এই বিস্ফোরক মন্তব্য টলিউডের অন্দরের বহু পুরনো বিতর্ককে আবার সামনে নিয়ে এসেছে। শিল্পীদের স্বাধীনতা, ‘ব্যান কালচার’ এবং ক্ষমতার ব্যবহার নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে বিনোদন মহলে।
সবচেয়ে আগে সঠিক খবর, প্রতি মুহূর্তে
Google News এবং Google Discover-এ নজরবন্দি-কে Follow করে রাখুন।



