দেশজুড়ে পথকুকুরের কামড় ও তার জেরে মৃত্যুর ঘটনা বাড়তে থাকায় এবার কার্যত অসন্তোষ উগরে দিল সুপ্রিম কোর্ট। মঙ্গলবার পথকুকুর সংক্রান্ত মামলার শুনানিতে রাজ্য সরকারগুলির ভূমিকা নিয়ে কড়া ভর্ৎসনা করে আদালত। শীর্ষ আদালতের স্পষ্ট পর্যবেক্ষণ—“রাজ্য সরকারগুলি কার্যত কিছুই করছে না।”
এ দিনের শুনানিতে সুপ্রিম কোর্ট হুঁশিয়ারি দিয়ে জানায়, আগামী দিনে কুকুরের কামড়ে কোনও শিশু বা প্রবীণের মৃত্যু হলে, অথবা গুরুতর আহত হলে, সংশ্লিষ্ট রাজ্য সরকারকেই আর্থিক ক্ষতিপূরণ দিতে হবে। প্রয়োজনে রাজ্যের উপর মোটা অঙ্কের জরিমানা চাপানো হবে বলেও সাফ জানিয়ে দেয় আদালত।
কুকুরপ্রেমীদের দিকেও আঙুল
শুধু রাজ্য সরকার নয়, পথকুকুরদের খাবার দেওয়ার পক্ষে যাঁরা সওয়াল করেন—তাঁদেরও দায় এড়ানোর সুযোগ নেই বলে স্পষ্ট করেছে আদালত। শুনানিতে আইনজীবী মেনকা গুরুস্বামী মন্তব্য করেন,
“এই বিষয়টা আসলে ভালোবাসার। কুকুর অনেকের আবেগের জায়গা।”
এই মন্তব্যে তীব্র প্রতিক্রিয়া দেন বিচারপতি বিক্রম নাথ। তিনি বলেন,
“পথকুকুর কারও একার নয়। কিন্তু যাঁরা কুকুরকে খাওয়ানোর কথা বলছেন, তাঁদেরও জবাবদিহি করতে হবে। কোনও দুর্ঘটনা ঘটলে দায় তাঁদের কাঁধেই বর্তাবে।”
আরও একধাপ এগিয়ে বিচারপতি নাথ কুকুরপ্রেমীদের উদ্দেশে বলেন,
“একটা কাজ করুন—যাঁরা বলছেন, তাঁরা কুকুরগুলোকে নিজের বাড়িতে নিয়ে যান। কুকুর কেন রাস্তায় ময়লা করবে? কেন কামড়াবে? কেন মানুষকে ভয় দেখাবে?”
এমনকী আইনজীবী গুরুস্বামীকে প্রশ্ন করে শীর্ষ আদালত বলে,
“আবেগ কি শুধুই কুকুরদের জন্য?”
পাল্টা সাফাইয়ে তিনি জানান, কুকুরপ্রেমীরা মানুষের নিরাপত্তা নিয়েও সমানভাবে উদ্বিগ্ন।
আগের নির্দেশ কী বলেছিল আদালত?
উল্লেখ্য, দেশে কুকুরের কামড়ের ঘটনা আশঙ্কাজনক হারে বাড়ায়, সুপ্রিম কোর্ট স্বতঃপ্রণোদিত মামলা নেয়। গত বছরের ৭ নভেম্বর, আদালত নির্দেশ দেয়—
স্কুল, কলেজ, বিশ্ববিদ্যালয়, হাসপাতাল, আদালত চত্বর, বাসস্ট্যান্ড, রেল স্টেশন ও স্পোর্টস কমপ্লেক্সের মতো জনবহুল এলাকা থেকে পথকুকুর সরিয়ে নিতে হবে। একই সঙ্গে জানানো হয়, একবার তুলে নিয়ে যাওয়ার পর সেখানেই যেন কুকুরদের ফেরানো না হয়।
তবে পরে, ৮ জানুয়ারি, তিন বিচারপতির ডিভিশন বেঞ্চ সেই নির্দেশের ব্যাখ্যা দিয়ে জানায়—
সব রাস্তাঘাট থেকে প্রতিটি বেওয়ারিশ কুকুর সরানোর নির্দেশ দেওয়া হয়নি। শুধুমাত্র শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও সংবেদনশীল জনসমাগমপূর্ণ এলাকার আশপাশ থেকে পথকুকুর সরানোর কথাই বলা হয়েছিল।
রাজ্যগুলির উপর চাপ বাড়ল
সব মিলিয়ে, পথকুকুর সমস্যা সামলাতে রাজ্য সরকারগুলির গাফিলতিতে যে সুপ্রিম কোর্ট একেবারেই সন্তুষ্ট নয়, তা এ দিনের শুনানিতে স্পষ্ট। ক্ষতিপূরণ ও জরিমানার হুঁশিয়ারির পর রাজ্য সরকারগুলি এখন কী পদক্ষেপ নেয়, সেদিকেই নজর দেশের।



