পশ্চিমবঙ্গের ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন (SIR) ঘিরে বড় ধাক্কা খেল নির্বাচন কমিশন। আধার কার্ড এবং মাধ্যমিক পরীক্ষার অ্যাডমিট কার্ড— দু’টিকেই বৈধ পরিচয়পত্র হিসেবে গ্রহণ করতে হবে বলে স্পষ্ট নির্দেশ দিল সুপ্রিম কোর্ট। একই সঙ্গে কমিশনের একতরফা সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষমতা নিয়েও প্রশ্ন তুলে শীর্ষ আদালত জানিয়ে দিল, শেষ কথা বলার অধিকার বিচারবিভাগীয় কর্তৃপক্ষেরই।
মঙ্গলবার সুপ্রিম কোর্টে এসআইআর সংক্রান্ত জনস্বার্থ মামলার শুনানিতে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ নির্দেশিকা জারি হয়। আদালত জানায়, বিহারে এসআইআর সংক্রান্ত আগের নির্দেশ অনুসারেই আধার কার্ড পরিচয়ের প্রমাণ হিসেবে গ্রহণযোগ্য। পাশাপাশি মাধ্যমিকের অ্যাডমিট কার্ডকেও বৈধ নথি হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়ার নির্দেশ পুনর্ব্যক্ত করা হয়। উল্লেখ্য, চলতি বছরের ১৯ জানুয়ারির রায়েও আদালত এই নথিকে গ্রহণযোগ্য বলে ঘোষণা করেছিল।
শুধু তাই নয়, গত বছরের ২৭ অক্টোবর নির্বাচন কমিশন যে বিজ্ঞপ্তিতে ১২ ধরনের নথির কথা উল্লেখ করেছিল, সেগুলিও বিবেচনায় রাখতে হবে বলে নির্দেশ দিয়েছে আদালত। অর্থাৎ ভোটার যাচাইয়ের ক্ষেত্রে নথির পরিসর আরও বিস্তৃত রাখতে হবে— এমনটাই স্পষ্ট বার্তা শীর্ষ আদালতের।
আদালত আরও জানিয়েছে, আগামী ২৮ ফেব্রুয়ারির মধ্যে প্রথম চূড়ান্ত ভোটার তালিকা প্রকাশ করতেই হবে। তার পর প্রকাশিত সাপ্লিমেন্টারি তালিকাগুলিকেও চূড়ান্ত তালিকার অংশ হিসেবে গণ্য করতে হবে। ফলে ধাপে ধাপে প্রকাশিত তালিকাও সমানভাবে বৈধ থাকবে।
শুনানিতে নির্বাচন কমিশনের আইনজীবী দাবি করেন, কমিশনের নিজস্ব ক্ষমতা রয়েছে সার্কুলার ও নির্দেশিকা জারি করার। তবে সেই যুক্তি মানেনি সুপ্রিম কোর্ট। আদালত স্পষ্ট জানায়, বিচারবিভাগীয় আধিকারিকরাই এই প্রক্রিয়ার চূড়ান্ত কর্তৃপক্ষ এবং অন্য কোনও সংস্থা স্বাধীনভাবে নির্দেশ জারি করতে পারে না।
সময়ের মধ্যে কাজ শেষ করতে প্রয়োজনে ভিনরাজ্যের বিচারবিভাগীয় আধিকারিক নিয়োগের পরামর্শও দিয়েছে আদালত। ঝাড়খণ্ড ও ওড়িশা থেকে অফিসার আনার কথাও উল্লেখ করেন বিচারপতিরা। যদিও রাজ্যের তরফে আইনজীবী তথা তৃণমূল সাংসদ কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় আপত্তি জানিয়ে বলেন, বাইরের অফিসারদের ভাষাগত সমস্যা হতে পারে। জবাবে প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্ত মন্তব্য করেন, পূর্ব ভারতের বহু অঞ্চলে বাংলা ভাষার প্রচলন রয়েছে, তাই কাজের ক্ষেত্রে সমস্যা হওয়ার কথা নয়।
এই নির্দেশকে রাজনৈতিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ বলে দাবি করেছে তৃণমূল কংগ্রেস। দলের বক্তব্য, আদালত কার্যত তাদের উত্থাপিত দাবিগুলিকেই মান্যতা দিয়েছে এবং নির্বাচন কমিশনের ত্রুটি স্পষ্ট হয়েছে।
এসআইআর প্রক্রিয়া এবং ভোটার তালিকা সংশোধন নিয়ে চলা বিতর্কের মাঝেই সুপ্রিম কোর্টের এই নির্দেশ আগামী বিধানসভা নির্বাচনের আগে প্রশাসনিক ও রাজনৈতিক সমীকরণে বড় প্রভাব ফেলতে পারে বলেই মনে করছে রাজনৈতিক মহল।



