এসআইআর নিয়ে ফের সুপ্রিম কোর্টে রাজ্য, ছোট অজুহাতে প্রক্রিয়া আটকে দেবেন না’

এসআইআর নিয়ে কমিশনের প্রশিক্ষণ মডিউল প্রশ্নে রাজ্যের আপত্তি খারিজ করল সুপ্রিম কোর্ট। ২৮ ফেব্রুয়ারির মধ্যে তালিকা প্রকাশের নির্দেশ বহাল।

নজরবন্দি ডিজিটাল ডেস্ক

ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সমীক্ষা (এসআইআর) নিয়ে ফের সুপ্রিম কোর্টের দ্বারস্থ হল পশ্চিমবঙ্গ সরকার। অভিযোগ—নির্বাচন কমিশন নথি যাচাইয়ের কাজে যুক্ত বিচারকদের নিজস্ব প্রশিক্ষণ মডিউল দিচ্ছে, যা আদালতের নির্দেশের পরিপন্থী। তবে শীর্ষ আদালত সেই আপত্তি সরাসরি খারিজ করে দিয়ে রাজ্যকে কার্যত ভর্ৎসনা করল। প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্ত স্পষ্ট জানিয়ে দিলেন, “পুরো প্রক্রিয়া আটকে দেওয়ার জন্য ছোটখাটো অজুহাত দেখাবেন না।”

শুক্রবার প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্তের নেতৃত্বাধীন বেঞ্চে রাজ্যের আইনজীবী কপিল সিব্বল দাবি করেন, কমিশন বিচারকদের জন্য একটি প্রশিক্ষণ কাঠামো তৈরি করেছে, যেখানে কী গ্রহণযোগ্য এবং কী নয়, তা নিয়ে নির্দেশ দেওয়া হচ্ছে। তাঁর যুক্তি, আগেই সুপ্রিম কোর্ট বলেছিল যে সংশ্লিষ্ট হাই কোর্টের প্রধান বিচারপতিই পুরো প্রক্রিয়ার রূপরেখা ঠিক করবেন।

এ প্রসঙ্গে বেঞ্চের সদস্য বিচারপতি জয়মাল্য বাগচী পাল্টা প্রশ্ন তোলেন, কমিশন প্রশিক্ষণ না দিলে বিচারকরা প্রক্রিয়াটি বুঝবেন কী ভাবে? তিনি বলেন, আদালতের নির্দেশ “দিনের আলোর মতো পরিষ্কার” এবং কমিশন কোনওভাবেই তা অগ্রাহ্য করতে পারে না।

উল্লেখ্য, গত ২৪ ফেব্রুয়ারি সুপ্রিম কোর্ট নির্দেশ দিয়েছিল, ২৮ ফেব্রুয়ারির মধ্যে এসআইআর-সংক্রান্ত তালিকা প্রকাশ করতে হবে। প্রয়োজনে ভিন্‌রাজ্য থেকে বিচারক নেওয়ারও অনুমোদন দেওয়া হয়েছিল, এমনকি সংশ্লিষ্ট হাই কোর্টের অনুমোদনে অন্য রাজ্যের বিচারক নিয়োগেও ছাড়পত্র দেওয়া হয়।

শুক্রবারের শুনানিতে রাজ্যের তরফে আরও অভিযোগ তোলা হয় যে, মহকুমাশাসকের দেওয়া ডোমিসাইল শংসাপত্র গ্রহণ না করার ইঙ্গিত দেওয়া হচ্ছে। বিচারপতি বাগচী বলেন, কমিশনের বিজ্ঞপ্তি এবং আদালতের নির্দেশে কী বলা হয়েছে, সেটাই দেখতে হবে। যদি কোনও নথি গ্রহণযোগ্য হিসেবে উল্লেখ থাকে, কমিশন তা বিবেচনা করতে বাধ্য।

প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্ত এ দিন প্রশ্ন তোলেন, কেন বারবার একই বিষয়ে আদালতের দ্বারস্থ হচ্ছে রাজ্য। তাঁর পর্যবেক্ষণ, “বিষয়টির ইতি টানতে হবে। বিচারকদের স্বাধীনভাবে কাজ করতে দিন।”

সব মিলিয়ে, এসআইআর প্রক্রিয়া নিয়ে টানাপোড়েনের মাঝে সুপ্রিম কোর্টের এই অবস্থান স্পষ্ট—সমীক্ষা প্রক্রিয়া আর বিলম্বিত করা চলবে না।

সবচেয়ে আগে সঠিক খবর, প্রতি মুহুর্তে। আমাদের ফলো করুন
Google News Google News

সদ্য প্রকাশিত