সুপ্রিম কোর্টে বড় ধাক্কা খেল মোদি সরকার। পশ্চিমবঙ্গে ১০০ দিনের কাজ প্রকল্প বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নিয়ে কেন্দ্র সরকারের আপিল আজ খারিজ করে দিয়েছে দেশের সর্বোচ্চ আদালত। আদালত স্পষ্ট জানিয়েছে, রাজ্যে অবিলম্বে MGNREGA প্রকল্প পুনরায় শুরু করতে হবে এবং প্রয়োজনীয় অর্থ মঞ্জুর করতে হবে। এই রায়ের ফলে কেন্দ্রের বিরুদ্ধে দীর্ঘদিন ধরে লড়া রাজ্যের দাবিতে জোরদার আইনি সাফল্য পেল তৃণমূল সরকার।
এই ঐতিহাসিক রায়ের পরেই প্রতিক্রিয়া দিতে দেরি করেননি তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। নিজের এক্স (X) হ্যান্ডেলে তিনি লেখেন,
“Another crushing defeat for the Bohiragoto Bangla-Birodhi Zamindars. আজ সুপ্রিম কোর্ট কেন্দ্রের আপিল খারিজ করেছে। এই রায় বাংলার মানুষের ঐক্যের জয়, অন্যায়ের বিরুদ্ধে সংগ্রামের জয়।”



অভিষেক আরও লেখেন, “যখন রাজনৈতিকভাবে আমাদের হারাতে পারেনি, তখন বিজেপি বাংলাকে বঞ্চনার অস্ত্রে আঘাত করেছে। কেন্দ্র অর্থ বন্ধ করে বাংলার দরিদ্র মানুষকে শাস্তি দিয়েছে। কিন্তু বাংলা নত হয়নি, হার মানেনি।”
তিনি স্পষ্ট বার্তা দেন, “আজকের রায় বিজেপির ঔদ্ধত্যের মুখে গণতান্ত্রিক চপেটাঘাত। তারা ক্ষমতা চায়, কিন্তু দায় স্বীকার করতে চায় না। বাংলার প্রাপ্য তারা কেড়ে নিয়েছিল, কিন্তু আজ সেই ঋণই ফেরত দিতে হচ্ছে।”
অভিষেকের পোস্টের শেষ লাইনই যেন বাংলার রাজনীতিতে নতুন স্লোগানের জন্ম দিয়েছে —
“চলবে না অন্যায়, টিকবে না ফন্দি, জনগণের আদালতে হতে হবে বন্দি! জয় বাংলা!”


রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, এই রায় শুধুমাত্র একটি প্রকল্পের বিষয় নয়, বরং কেন্দ্র-রাজ্য সম্পর্কের ক্ষেত্রে এক গুরুত্বপূর্ণ মোড়। ১০০ দিনের কাজ প্রকল্প (MGNREGA in West Bengal) নিয়ে কেন্দ্র ও রাজ্যের টানাপোড়েন দীর্ঘদিনের। রাজ্য সরকারের অভিযোগ, রাজনৈতিক প্রতিহিংসার কারণে কেন্দ্র অর্থ বন্ধ রেখেছিল।
এই রায়ের পর রাজ্যের শ্রমিকদের মুখে ফের হাসি ফিরবে বলে মনে করছেন তৃণমূল নেতৃত্ব। একাধিক জেলার প্রশাসনিক আধিকারিক ইতিমধ্যেই জানিয়েছেন, প্রকল্প পুনরায় চালু হলে প্রায় ২ কোটি শ্রমিক উপকৃত হবেন।
অন্যদিকে, বিজেপির পক্ষ থেকে এখনও পর্যন্ত কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া মেলেনি। তবে রাজনৈতিক মহলে জল্পনা, সুপ্রিম কোর্টের এই সিদ্ধান্ত ২০২৬ বিধানসভা নির্বাচনের আগেই কেন্দ্রের ভাবমূর্তিতে বড় আঘাত হানতে পারে।
অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের বক্তব্যে স্পষ্ট হয়েছে, তৃণমূল এই রায়কে শুধু আইনি জয়ের নিদর্শন নয়, “জনগণের আদালতের রায়” হিসেবেই তুলে ধরতে চাইছে। তাঁর ভাষায়, “বাংলা মাথা নত করে না, বাংলা লড়ে — আজকের রায় সেই সংগ্রামের প্রমাণ।”







