২৬০০০ চাকরি বাতিল: শুনানি শেষ, রায় স্থগিত সুপ্রিম কোর্টে, ১২% সুদ-সহ বেতন ফেরত বলেছিল হাই কোর্ট

মেয়াদোত্তীর্ণ প্যানেলে চাকরি পাওয়া প্রার্থীদের বেতন ফেরত দিতে হবে। ১২% সুদ-সহ চার সপ্তাহের মধ্যে বেতন ফেরত দিতে হবে। নির্দেশ দিয়েছিল হাই কোর্ট

নজরবন্দি ডিজিটাল ডেস্ক

পশ্চিমবঙ্গে ২৬ হাজার চাকরি বাতিল মামলায় জটিলতা ক্রমশ বাড়ছে। সোমবার সুপ্রিম কোর্টের প্রধান বিচারপতি সঞ্জীব খন্না জানান, আসল তথ্য জানা প্রায় অসম্ভব হয়ে দাঁড়িয়েছে। শুনানি শেষে রায়দান স্থগিত রেখেছে শীর্ষ আদালত। সিবিআই, এসএসসি ও রাজ্য সরকারের বিভিন্ন মতামতের মধ্যেও কোনও চূড়ান্ত সমাধান বের হয়নি।

সুপ্রিম কোর্টের পর্যবেক্ষণ: সোমবার দুপুর ২টায় প্রধান বিচারপতির এজলাসে শুনানি শুরু হয়, যা প্রায় দু’ঘণ্টা ধরে চলে। সুপ্রিম কোর্ট বিভিন্ন পক্ষের বক্তব্য শুনে জানায়, এই মামলায় আসল ওএমআর শিট নেই, ফলে প্রকৃত তথ্য পাওয়া কঠিন হয়ে দাঁড়িয়েছে।

সুপ্রিম কোর্টের মূল পর্যবেক্ষণ:
সিবিআইয়ের দাবি: ২৬ হাজার চাকরি বাতিলের রায় বহাল রাখা হোক।
এসএসসির বক্তব্য: ‘র‌্যাঙ্ক জাম্প’ এবং প্যানেল বহির্ভূত নিয়োগের তথ্য রয়েছে, কিন্তু ওএমআর শিট কারচুপির তথ্য নেই।
রাজ্য সরকারের আপত্তি: এত চাকরি বাতিল হলে শিক্ষাব্যবস্থা ভেঙে পড়তে পারে।

প্রধান বিচারপতি খন্না মন্তব্য করেন, “সমস্যা এখানেই। এসএসসি বলতে পারছে না কোনটি আসল তথ্য।”

চাকরি বাতিল মামলায় সিবিআইয়ের অবস্থান: সিবিআইয়ের আইনজীবী জানান, “নিয়োগে ব্যাপক দুর্নীতি হয়েছে। সাদা খাতা জমা দিয়েও চাকরি হয়েছে।” সিবিআই মনে করে, হাইকোর্টের রায় সঠিক এবং তা বহাল থাকা উচিত। অন্যদিকে, এসএসসি জানিয়েছে, তাদের কাছে কিছু তথ্য থাকলেও, ওএমআর শিটের কারচুপির তথ্য নেই। এতে সুপ্রিম কোর্টের সন্দেহ আরও বেড়েছে।

রাজ্য সরকারের আশঙ্কা: রাজ্য সরকার আদালতে জানায়, ২৬ হাজার শিক্ষককে ছাঁটাই করা হলে রাজ্যের শিক্ষাব্যবস্থা ভয়ঙ্করভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হবে। তারা সুপ্রিম কোর্টে আবেদন করে, যেন পুরো প্যানেল বাতিল না করে যোগ্য-অযোগ্যদের আলাদা করা হয়।

হাইকোর্টের রায়: কী হয়েছিল আগে? ২০২৪ সালের ২২ এপ্রিল কলকাতা হাইকোর্ট ২০১৬ সালের নিয়োগ বাতিল ঘোষণা করে। এতে ২৫,৭৫৩ জন চাকরিপ্রাপ্ত ব্যক্তি চাকরি হারান

হাইকোর্টের নির্দেশ: মেয়াদোত্তীর্ণ প্যানেলে চাকরি পাওয়া প্রার্থীদের বেতন ফেরত দিতে হবে। ১২% সুদ-সহ চার সপ্তাহের মধ্যে বেতন ফেরত দিতে হবে। রাজ্য সরকার ও এসএসসি এই রায়ের বিরুদ্ধে সুপ্রিম কোর্টে আপিল করে

সুপ্রিম কোর্টের সিদ্ধান্ত কী হতে পারে? সুপ্রিম কোর্ট এখন ভাবছে, নতুন পরীক্ষা নেওয়া সম্ভব কি না। প্রধান বিচারপতি খন্না জানতে চান, আসল ওএমআর শিট ছাড়া কীভাবে যোগ্য ও অযোগ্য বাছাই করা সম্ভব? গ্রুপ C ও গ্রুপ D চাকরিপ্রাপ্তদের আইনজীবী অভিষেক মনু সিঙ্ঘভি অবশ্য আশাবাদী, যোগ্যদের আলাদা করা সম্ভব।

চাকরিজীবীদের ভবিষ্যৎ অনিশ্চিত- সুপ্রিম কোর্টের পরবর্তী রায়ের দিকেই তাকিয়ে আছেন ২৬ হাজার চাকরি হারানো কর্মী। এই রায় রাজ্যের শিক্ষা ও চাকরি ব্যবস্থায় বড় প্রভাব ফেলতে পারে।

সবচেয়ে আগে সঠিক খবর, প্রতি মুহুর্তে। আমাদের ফলো করুন
Google News Google News

সদ্য প্রকাশিত