সরকারি চিকিৎসকদের প্রাইভেট প্র্যাকটিস নিয়ে দীর্ঘদিনের বিতর্কের মাঝেই গুরুত্বপূর্ণ বার্তা দিল সুপ্রিম কোর্ট। সরকারি চাকরিতে থেকে হাসপাতালের নির্ধারিত দায়িত্ব পালনের সময়ে ব্যক্তিগত চিকিৎসা পরিষেবা বা প্রাইভেট প্র্যাকটিসে জড়ানো উচিত নয় বলে স্পষ্ট মন্তব্য করেছে দেশের সর্বোচ্চ আদালত। একইসঙ্গে উত্তরপ্রদেশের একটি মেডিক্যাল কলেজের চিকিৎসকদের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগের তদন্তে হস্তক্ষেপ করতেও অস্বীকার করেছে শীর্ষ আদালত।
বিষয়টি ঘিরে মামলার শুনানি হয় বিচারপতি বিভি নাগরত্ন এবং বিচারপতি জয়মাল্য বাগচী-র বেঞ্চে। উত্তরপ্রদেশের মতিলাল নেহরু মেডিক্যাল কলেজ-এর সার্জারি বিভাগের এক অ্যাসোসিয়েট প্রফেসর এলাহাবাদ হাইকোর্টের নির্দেশকে চ্যালেঞ্জ করে স্পেশাল লিভ পিটিশন (এসএলপি) দায়ের করেছিলেন।
শুনানির সময় সুপ্রিম কোর্ট জানিয়ে দেয়, সরকারি চিকিৎসকদের বেসরকারি প্র্যাকটিসে জড়িয়ে পড়ার অভিযোগ অত্যন্ত গুরুতর। আদালত স্পষ্ট করে দেয় যে, এই ধরনের অভিযোগের তদন্তে হস্তক্ষেপ করার কোনও কারণ তারা দেখছে না। আদালতের অবস্থান স্পষ্ট হওয়ার পর আবেদনকারী নিজের মামলাটি প্রত্যাহার করে নেন।
ঘটনার সূত্রপাত একটি জনস্বার্থ মামলাকে কেন্দ্র করে। অভিযোগ ওঠে, প্রয়াগরাজের মতিলাল নেহরু মেডিক্যাল কলেজ এবং তার অধীনস্থ স্বরূপরানি নেহরু হাসপাতাল-এর কয়েকজন চিকিৎসক সরকারি দায়িত্ব পালনের সময় বেসরকারি নার্সিংহোমে চিকিৎসা পরিষেবা দিচ্ছেন।
শুধু তাই নয়, সরকারি হাসপাতালের রোগীদের নির্দিষ্ট বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে পাঠিয়ে অস্ত্রোপচার ও চিকিৎসা করানোর অভিযোগও সামনে আসে। এই অভিযোগকে অত্যন্ত উদ্বেগজনক বলে উল্লেখ করে এলাহাবাদ হাইকোর্ট উত্তরপ্রদেশের মুখ্যসচিবের নেতৃত্বে উচ্চপর্যায়ের তদন্তের নির্দেশ দেয়।
স্বাস্থ্য মহলের একাংশের মতে, সরকারি চিকিৎসকদের ব্যক্তিগত প্র্যাকটিস নিয়ে দেশজুড়ে দীর্ঘদিন ধরেই প্রশ্ন উঠছে। বিশেষ করে যাঁরা নন-প্র্যাকটিসিং পদে কর্মরত অথবা নন-প্র্যাকটিসিং অ্যালাওয়েন্স গ্রহণ করেন, তাঁদের বিরুদ্ধে বেসরকারি চিকিৎসা পরিষেবায় যুক্ত থাকার অভিযোগ প্রায়শই সামনে আসে।
আইন বিশেষজ্ঞদের মতে, সুপ্রিম কোর্টের এই পর্যবেক্ষণ শুধু একটি মামলার মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। এটি সরকারি স্বাস্থ্যব্যবস্থায় দায়বদ্ধতা, স্বচ্ছতা এবং রোগী পরিষেবার মান বজায় রাখার ক্ষেত্রেও গুরুত্বপূর্ণ বার্তা বহন করছে। সরকারি হাসপাতালের চিকিৎসকদের দায়িত্ব পালনে কোনও ধরনের গাফিলতি বা স্বার্থের সংঘাত যাতে না তৈরি হয়, সে বিষয়েই আদালত কঠোর অবস্থান নিয়েছে বলে মনে করা হচ্ছে।
সরকারি স্বাস্থ্য পরিষেবার উপর সাধারণ মানুষের নির্ভরতা যখন ক্রমশ বাড়ছে, তখন চিকিৎসকদের পেশাগত নৈতিকতা এবং সরকারি দায়িত্ব পালনের বিষয়ে সুপ্রিম কোর্টের এই মন্তব্য ভবিষ্যতে নীতি নির্ধারণের ক্ষেত্রেও গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলতে পারে।









