নজরবন্দি ব্যুরো: যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়তে এসে নদিয়ার হাঁসখালি বগুলার ছেলে স্বপ্নদীপ কুণ্ডুর মৃত্যু হল। মর্মান্তিক এই ঘটনায় র্যাগিংয়ের অভিযোগ তুলেছে স্বপ্নদীপের পরিবার। আবাসিকদের বিরুদ্ধে খুনের অভিযোগও দায়ের করেছেন বাবা রমাপ্রসাদ কুণ্ডু। এবার স্বপ্নদীপের মৃত্যু প্রসঙ্গে মুখ খুললেন বিজেপি রাজ্য সভাপতি সুকান্ত মজুমদার। তাঁর মতে, প্রশাসনিক মদতেই বিশ্ববিদ্যালয়ে র্যাগিং চলছে। একই সঙ্গে স্বপ্নদীপের পরিবারকে আইনি সহযোগিতার আশ্বাসও দিয়েছেন সুকান্ত।
আরও পড়ুন: অসংসদীয় আচরণের অভিযোগে লোকসভা থেকে সাসপেন্ড অধীর, আজ স্ট্র্যাটেজি বৈঠকে কংগ্রেস


সুকান্ত মজুমদার ট্যুইটে লিখেছেন, “প্রশাসনিক মদত ছাড়া বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে TMCP, SFI, DSF–এর মত ছাত্র সংগঠনগুলো কোনদিন র্যাগিংয়ের মতো ঘৃণ্য অপরাধ চালাতে পারে না। স্বপ্নদীপকে নিজের প্রাণ দিয়ে তার মূল্য দিতে হল। আমি তার পরিবারকে সকল প্রকার আইনী সহায়তার আশ্বাস দিচ্ছি, এই দুঃখের মুহূর্তে তাঁদের পাশে আছি”। এর পাশাপাশি, তিনি মুখ্যমন্ত্রীকে ধিক্কারও জানিয়েছেন।
প্রশাসনিক মদত ছাড়া বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে TMCP, SFI, DSF এর মত ছাত্র সংগঠনগুলো কোনোদিন র্যাগিং এর মত ঘৃণ্য অপরাধ চালাতে পারে না, স্বপ্নদীপকে নিজের প্রাণ দিয়ে তার মূল্য দিতে হলো…আমি তার পরিবারকে সকল প্রকার আইনী সহায়তার প্রতিশ্রুতি দিচ্ছি..এই দুঃখের মুহূর্তে তাদের পাশে আছি pic.twitter.com/EYc10Fdak4
— Dr. Sukanta Majumdar (@DrSukantaBJP) August 11, 2023
প্রসঙ্গত, উচ্চমাধ্যমিকে বিজ্ঞান নিয়ে পড়লেও বাংলাকে ভালোবেসে সাহিত্য নিয়ে যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়তে এসেছিল স্বপ্নদীপ কুণ্ডু। রবিবারই সে হোস্টেলে থাকতে আসে। তবে কোনও ঘর তাঁর নামে নির্দিষ্ট করা ছিল না। ৬৮ নম্বর ঘরে অর্থনীতি বিভাগের দ্বিতীয় বর্ষের এক ছাত্রের অতিথি হিসাবে থাকছিলেন তিনি। ওই ঘরে ছিলেন চার ছাত্র। গত তিন দিন ধরে বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্লাসেও স্বপ্নদীপ উপস্থিত ছিলেন। বুধবার রাত ১১.৪৫ মিনিট নাগাদ হস্টেলের ব্যালকনি থেকে পড়ে যান স্বপ্নদীপ। দ্রুত তাঁকে উদ্ধার করে বেসরকারি হাসপাতালে ভর্তি করানো হয়েছিল। ভোর সাড়ে ৪টে নাগাদ তাঁর মৃত্যু হয়।

স্বপ্নদীপের অস্বাভাবিক মৃত্যুতে র্যাগিংয়ের অভিযোগ তোলে পরিবার। বুধবার রাতে মাকে ফোন করে ‘ভাল নেই’ বলেও নাকি জানিয়েছিলেন স্বপ্নদীপ। পরিবারের কাছ থেকে লিখিত অভিযোগ পেয়ে যাদবপুর থানায় অভিযোগ দায়ের করেন বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ। তদন্তকারীদের একাংশের দাবি, স্বপ্নদীপের ময়নাতদন্তের রিপোর্ট অনুযায়ী, নির্দিষ্ট উচ্চতা থেকে পড়ে যাওয়ার কারণেই তাঁর মৃত্যু হয়েছে। ওই ছাত্রের মাথার বাঁ দিকের হাড়ে চিড় ছিল। বাঁ দিকের পাঁজরের হাড়ও ভেঙে যায়। সেই কারণেই অভ্যন্তরীণ আঘাত গুরুতর হয়ে উঠেছিল। ভেঙে গিয়েছিল কোমরও। ময়নাতদন্তের রিপোর্ট অনুযায়ী, তাঁর শরীরে মদ্যপানের কোনও প্রমাণ মেলেনি। সাধারণ খাবারই খেয়েছিলেন স্বপ্নদীপ।

প্রশাসনিক মদতেই চলছে র্যাগিং, স্বপ্নদীপের পরিবারকে আইনি সহযোগিতার আশ্বাস সুকান্তর
![]()









