সুকান্তর পায়ের কাছে রবীন্দ্রনাথ, বঙ্কিমের ছবি! ‘বাংলা বিরোধী’ তকমা দিল তৃণমূল

মালদহে তৃণমূল ছাত্রনেতার ঘটনায় বিপাকে শাসকদল, পাল্টা বিজেপিকে কোণঠাসা করতে সুকান্ত মজুমদারের ছবি ঘিরে নতুন বিতর্ক শুরু।

নজরবন্দি ডিজিটাল ডেস্ক

রাজনীতির মঞ্চে ফের রবীন্দ্রনাথ-বঙ্কিম বিতর্ক। মালদহে তৃণমূল ছাত্র পরিষদের এক নেতার হাতে বিশ্বকবির ছবি পোড়ানো নিয়ে শাসকদল যখন চাপে, ঠিক সেই সময়ই বিজেপি নেতা সুকান্ত মজুমদারের একটি ছবি ঘিরে পাল্টা আক্রমণে নামল তৃণমূল।

বুধবার তৃণমূলের অফিসিয়াল এক্স হ্যান্ডলে সুকান্ত মজুমদারের একটি সভার ছবি প্রকাশ করা হয়। তাতে দেখা যাচ্ছে, তিনি বক্তৃতা করছেন আর তাঁর পায়ের কাছে রাখা রয়েছে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর ও বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের ছবি। শাসকদলের দাবি, “আমরা সবসময় মনীষীদের মাথায় রাখি, আর বিজেপি রাখে পায়ের নীচে। এটাই বাংলাবিরোধী মুখ।”

সুকান্তর পায়ের কাছে রবীন্দ্রনাথ, বঙ্কিমের ছবি! ‘বাংলা বিরোধী’ তকমা দিল তৃণমূল

সুকান্তর পায়ের কাছে রবীন্দ্রনাথ, বঙ্কিমের ছবি! 'বাংলা বিরোধী' তকমা দিল তৃণমূল
সুকান্তর পায়ের কাছে রবীন্দ্রনাথ, বঙ্কিমের ছবি! ‘বাংলা বিরোধী’ তকমা দিল তৃণমূল

তৃণমূলের একাধিক নেতাও এই ছবি নিয়ে সোচ্চার হয়েছেন। দলের মুখপাত্র কুণাল ঘোষ ও টিএমসিপি নেতা সুদীপ রাহাও সরাসরি বিজেপিকে বাঙালি সংস্কৃতির অবমাননার অভিযোগ তোলেন। তাঁদের দাবি, বিজেপি পরিকল্পিতভাবে বাংলার মনীষীদের অসম্মান করছে।

তবে পাল্টা ব্যাখ্যা দিয়েছেন সুকান্ত মজুমদার। তিনি বলেন, “তৃণমূল নিজের পাপ ঢাকতে চাইছে। ওরা রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ছবি পুড়িয়েছে। সেই দোষ চাপা দিতে আমার কর্মসূচির ছবি বিকৃতভাবে ব্যবহার করছে। আসলে ছবি তোলা হয়েছে এমনভাবে যাতে মনে হয় আমি পায়ের কাছে দাঁড়িয়ে আছি। কিন্তু আমি আসলে অনেকটা পিছনে ছিলাম। স্থানীয় মানুষ ও সাংবাদিকরা প্রত্যক্ষদর্শী।”

সুকান্ত আরও যোগ করেন, “এই ছবিটাকে থ্রিডি ভিউতে দেখতে হবে। কুণাল ঘোষ হয়তো বোঝেন না, কিন্তু তাঁর ছেলে যিনি আইআইটিতে পড়েছেন তিনি নিশ্চয়ই বুঝবেন।”

রাজনৈতিক মহলের মতে, ২০২১ সালের বিধানসভা থেকে ২০২৪ সালের লোকসভা ভোট— প্রতিবারই তৃণমূল “বাঙালি অস্মিতা”কে সামনে রেখেই প্রচার চালিয়েছে। সেই আবহে মালদহের ছাত্রনেতা এবি সোহেলের কাণ্ডে দলের চরম অস্বস্তি তৈরি হয়েছিল। শুভেন্দু অধিকারী রবীন্দ্রনাথের ছবি হাতে নিয়ে মিছিল করেন, সোহেলকে বহিষ্কার করা হয় এবং তাঁকে গ্রেফতারও করে পুলিশ।

ঠিক সেই ঘটনার ৪৮ ঘণ্টার মধ্যেই তৃণমূল পাল্টা অস্ত্র হিসেবে সামনে আনল বিজেপি নেতার বিতর্কিত ছবি। শাসকদলের কটাক্ষ— বিজেপি বাংলার মনীষীদের অসম্মান করছে। আর পদ্মশিবির বলছে, তৃণমূল নিজেদের ভুল ঢাকতে মিথ্যা প্রচার করছে।

রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, ২০২৬ সালের বিধানসভা ভোটের আগে এই ধরনের সাংস্কৃতিক প্রতীক ও বাঙালি অস্মিতা নিয়েই লড়াই আরও চড়তে চলেছে। দুই পক্ষই মনীষীদের নাম ব্যবহার করে আবেগের রাজনীতি গরম রাখবে, এমনটাই ইঙ্গিত মিলছে।

সবচেয়ে আগে সঠিক খবর, প্রতি মুহুর্তে। আমাদের ফলো করুন
Google News Google News

সদ্য প্রকাশিত