নজরবন্দি ব্যুরোঃ বিপ্লব সরকার উৎখাতের ডাক দিয়েছিলেন বিজেপি সাংসদ সৌমিত্র খাঁ-এর স্ত্রী সুজাতা মন্ডল। এবার ত্রিপুরার মাটিতে দাঁড়িয়ে লড়াই করার উদ্দেশ্যেই তাঁকে পড়শি রাজ্যে পাঠালো তৃণমূল। সঙ্গে গেলেন জয়া দত্ত।
আরও পড়ুনঃ মন ভার কলকাতার আকাশের…বৃষ্টি মাথায় চলে গেলেন বুদ্ধদেব গুহ
২১ এর ভোটের আগে রাজনীতির ভেতরে যেমন বহু সমীকরণ বদলেছিল, সেই রাজনীতির আদর্শ আর বিভাজন নিয়ে বদলে গিয়েছিল কিছু পরিবারের ভেতরের সমীকরণও। সৌমিত্র-সুজাতা তাদের একজন। ভোটের আগে আগেই একাধিক অভিযোগ করে বিজেপি থেকে বেরিয়ে এসে মমতার হাত মাথায় রাখতে তৃণমূলে ফিরে এসেছিলেন সুজাতা।
স্বামী সৌমিত্র ডিভোর্সের নোটিস পাঠিয়েছিলেন। তার পর থেকেই দুজনের রাজনৈতিক মতাদর্শ পৃথক। সৌমিত্র এখন গেরুয়া শিবির আর নরেন্দ্র মোদির আদর্শ নিয়ে থাকছেন, অন্যজন বলছেন বিজেপি সাম্প্রদায়িক দাঙ্গাবাজের দল। ত্রিপুরায় বারবার তৃণমূলের নেতা কর্মীদের ওপর হামলার প্রতিবাদে বাংলায় দাঁড়িয়েই সুর চড়িয়েছিলেন সৌমিত্র জায়া।

এবার তাঁকেই ত্রিপুরা পাঠালো তৃণমূল। উদ্দেশ্য বিপ্লব সরকারের ভিত দুর্বল করে ঘাস ফুলের সংগঠন বাড়ানো। এই মুহুর্তে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় থেকে তাঁর দলের নেতা কর্মীরা প্রত্যেকেই যেভাবে নজর রাখছেন ত্রিপুরার ওপর তাতে সব মহলই মনে করছে দেশ বিজয়ের লড়াইয়ের আগেই এটাই তৃণমূলের ওয়ার্ম আপ ম্যাচ।
আজ আগরতলায় দাঁড়িয়েই সুজাতা বলেন, ‘সাম্প্রদায়িক দাঙ্গাবাজ বিপ্লব দেবের সরকারকে উৎখাত করতে। বাংলায় যেভাবে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বে এখানেও মা-মাটি-মানুষের সরকার প্রতিষ্ঠিত হবে। জয় বাংলার মতো এখানেও স্লোগান উঠবে জয় ত্রিপুরা। বিপ্লব দেবের সরকারের আমলে ত্রিপুরার মানুষ বঞ্চিত, অত্যাচারিত।’
বিপ্লব সরকার উৎখাতের লক্ষ্যে কোমর বাঁধছে তৃন্মুল…বাংলা থেকে নিয়ম করে নেতা মন্ত্রীরা যাচ্ছেন সে রাজ্যে।
নিজের এবং গোটা তৃণমূলের উদ্দেশ্য স্পষ্ট করেন সৌমিত্র জায়া জানান, ‘আমাদের একটাই লক্ষ্য, সাম্প্রদায়িক দাঙ্গাবাজ বিজেপি সরকারকে উৎখাত করা। আমাদের যেভাবে অত্যাচার করা হচ্ছে, তাতে আমরা ভয় পাব না। আমাদের যদি এতই গুরুত্ব না দেয় বিজেপি, তাহলে এত আক্রমণ কেন? আমরা বিজেপিকে ভয় পাইনি। আমরা সাংগঠনিক দিক থেকে তৈরি হয়ে গেছি। ২০২৩-এ ত্রিপুরায় সরকার গড়ছে তৃণমূলই। ত্রিপুরার মা-বোনেদের আশীর্বাদ নিয়ে তৃণমূলই সরকার গড়ছে।’

সুজাতার সফর সঙ্গী হয়ে ফের ত্রিপুরাতে পা রাখলেন তৃণমূল নেত্রী জয়া দত্ত। আগের বার সে রাজ্যে গিয়ে আক্রান্ত হয়েছিলেন তিনি এবং ত্ত্রিন্মুলের যুব নেতা সুদীপ, দেবাংশু। তাঁদের ফিরিয়ে আনতে তড়িঘড়ি বিপ্লব সরকারের রাজ্যে গিয়েছিলেন তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদুক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়।
থানায় ঠাঁই রনংদেহি মূর্তিতে বসে থেকে ছাড়িয়ে এনেছিলেন তাঁদের, SSKM-এ চিকিৎসা করানোর পর এখন সুস্থ জয়া। আজ ফের সুজাতার সঙ্গে পা দিয়েছেন সে রাজ্যে। সেখানে পৌঁছেই তিনি বলেন, “বারবার আসা যাওয়া চলতে থাকবে আমাদের।কেউ আটকাতে পারবে না আমাদের। জানি আবার মামলা করবে আমাদের বিরুদ্ধে। কিন্তু তাতে কিছু যায় আসে না আমাদের। যতই আমাদের উপর পরিকল্পিত অত্যাচার করুক, ত্রিপুরায় আমাদের আটকানো যাবে না।”



