তোমার ভক্তিতে দাগ রক্তের… বাংলায় ফ্যাসিবাদকে আটকাতে রং-রুটে টলিপাড়ায় জোট নবীন প্রবীণের।

নজরবন্দি ডিজিটাল ডেস্ক

নজরবন্দি ব্যুরো: তোমার ভক্তিতে দাগ রক্তের, তুমি কাউকেই ভালো বাসো না…২১এর নির্বাচনের একেবারে দোরগোড়ায় ‘ নিজেদের মতে নিজেদের গান ‘ এ একেবারে নিজেদের মনের কথা শোনাল টলিপাড়ার নবীন প্রবীণ জুটি। বাংলায় সেই বাম যুগ থেকে নিজেদের আদর্শ আকড়ে লালেদের ওপর আস্থা রেখেছেন অনেকে। অথবা রয়ে গেছেন রং ছাড়াই। তবে টলিপাড়ার সঙ্গে রাজনীতির যোগ হয় মূলত তৃণমূল আসার পরেই, একঝাঁক তারকা মুখ হয়ে ওঠেন দিদির সরকারের। আর ২১এর নির্বাচনের আগে এককথায় দুভাগে ভাগ করে গেছে টালিগঞ্জ।

আরও পড়ুনঃ দলবদলের কিসসা, বিজেপির বিধায়কের সংখ্যা এখন ৬ থেকে বেড়ে ৩৬!

তৃণমূলের অনেকে গেছেন বিজেপিতে, আবার নতুন মুখ এসেছেন গেরুয়া শিবিরে, লক্ষ্য সোনার বাংলা গড়ার, অন্যদিকে এতবছর মুখ্যমন্ত্রীকে পাশে পেয়ে এবার তাঁর পাশে দাঁড়াতে তৃণমূলে যোগ দিয়েছেন ছোট থেকে বড় পর্দার একাধিক চেনা মুখ। এই অবস্থায় নিজেদের পুরনো আদর্শ বা নিজেদের একান্তই মনের কথা রক্তকরবীর সঙ্গে বুকে চেপে ধরে লাল, সবুজ গেরুয়ার বাইরে থেকে গেছেন একগুচ্ছ মানুষ। একগুচ্ছ শিল্পী। টলিউডের অভিনেতা অভিনেত্রীদের মানুষের জন্য কিছু করতে চাওয়ার বাসনা দেখে অনেকেই প্রশ্ন তুলেছিলেন, কিছু করতে হলে রাজনীতিতে যেতে হয়ই কিনা…?

সেসব পেরিয়ে এবার রং গত দিক থেকে আলাদা থেকে গিয়েছিলেন যাঁরা দল বাঁধলেন তারাই। সাম্প্রতিক রাজনৈতিক কটাক্ষ করে উগরে দিলেন ফ্যাসিবাদ বিরোধীতা। নিজের মতেই নিজেদের গান নিয়ে ভেবেছিলেন ঋদ্ধি, ঋতব্রত আর সুরঙ্গনা। এই প্রজন্মের তিনজন সফল শিল্পী, অভিনেতা অভিনেত্রী নিজেদের প্রচেষ্টায় একই ফ্রেমে নিয়ে এসেছেন সব্যসাচী থেকে অনিন্দ্য চট্টোপাধ্যায়, অনুপম থেকে রূপঙ্কর, অনির্বাণ থেকে পরমব্রত, দেবলীনা থেকে রেশমি কে। এছাড়া আছেন শান্তি লাল মুখোপাধ্যায়, চন্দন সেন, রাহুল চট্টোপাধ্যায়, প্রিয়া সেনগুপ্ত, রুদ্রপ্রসাদ সেনগুপ্ত, জগন্নাথ মুখোপাধ্যায়, অরুণ মুখোপাধ্যায়, সুমন মুখোপাধ্যায় প্রমুখ।

সব মিলিয়ে মোট মিনিট ৬এর গান। যেখানে একসঙ্গে গলা মেলালেন টলিপাড়ার একেবারে নবীন থেকে প্রবীণেরা। গান লিখেছেন অনির্বাণ। ২০১৯ সালে রামলীলা ময়দান থেকে শুরু হওয়া এক মিছিলে হাঁটার পর এই ভাবনা মাথায় জেগেছিল অনির্বাণের। আর তখন থেকেই এই গানের পরিকল্পনা। তারপর চোখের সামনে ২১এর প্রেক্ষাপট। এর থেকে ভালো সুযোগ আর পেতে চাননি তাঁরা বাংলায়, তাই চটপট প্রকাশ করলেন নিজদের কথাগুলো। চারপাশের পরিস্থিতি কতটা অনুকূল? এই রাজনীতি, নিয়ম কানুন, দল রং, নাগরিকত্ব আইন, নারী সুরক্ষা, ধর্মীয় বিভেদ সব মিলিয়ে, সব সঙ্গে নিয়ে কতটা বেঁচে আছে মানুষ? প্রশ্ন তুলেছেন তাঁরা।

আর সেই সব প্রশ্ন যাঁরা তুলতে পারছেন না, তাঁদের ঠোঁটের আগে এনে দিতেই এই গান। প্রসঙ্গে সংবাদমাধ্যমকে ঋদ্ধি সরাসরি জানিয়েছেন, নির্বাচনের আগের বাংলার মানুষের মনে প্রশ্ন জাগতেই এই গান। বাংলায় ফ্যাসিবাদ সরকার রুখতেই এই মুহূর্তে প্রকাশ এই গানের। এই গান শুধু প্রবীণদের নয়, নয় শুধু নবীন দের। পুরো গান জুড়ে একসঙ্গে দুই প্রজন্মকে দেখা গেছে। কৌশিক ঋদ্ধি, শান্তি ঋতব্রত। সুমন মুখোপাধ্যায় এবং অরুণ মুখোপাধ্যায়। সব মিলিয়ে মোট তিন পরিবারের দুই প্রজন্ম একই সুর তুলেছেন। আছেন স্বস্ত্রীক অনুপম। তাঁরা একসঙ্গে গাইছেন,- “তোমার কথা শুনবো না আর, যথেষ্ট বুঝি কিসে ভালো হিসেব নিজেদের মতো ভাববো।” বর্তমান পরিস্থিতি জানান দিতে গানের শুরুই হয়েছে, “তুমি পূরাণ কে বলো ইতিহাস, ইতিহাসকে বলো পুরনো, তোমার গাছ শিক্ষাকে লাঠিপেটা করে মূর্খের জ্বালা জুড়ানো।”

শুধু গান কথা নয়, গানের প্রতিটা কলির সঙ্গে সঙ্গে ঘটনার প্রেক্ষিতের ছবি তুলে ধরেছেন, দগদগে ঘায়ের মত সেইসব খবরের কাট আউট ভেসে উঠেছে পর্দায়। তাঁদের স্পষ্ট বক্তব্য, ইন্ড্রাস্ট্রিতে সকলে এখনো কোনো না কোনো দলের রাজনৈতিক ধ্বজাধারীতে পরিণত হয়নি, যাঁরা এখনো মানুষের কাজ বলতে রাস্তায় নেমে সাহায্য বোঝেন, দলের ঝান্ডা নয়, এই গান তাঁদের। আর এসবের পর নিজদের রাজনৈতিক মতামতের কারণে কাজ না পেলেও চিন্তিত নন নবীন প্রবীণ কেউই। ঐক্যবদ্ধ বাংলা গড়ার লক্ষ্যে একটা ধাপ তাঁদের এই গান।

তাঁদের কথাতেই, প্রাথমিক ভাবে বাংলায় বিজেপিকে আটকানো উদ্দ্যেশ্য, পশ্চিমবঙ্গে আজ না এলেও কেন্দ্রে থাকবেই বিজেপি সরকার, আর জারি থাকবে আমাদের লড়াই।” আর তার জন্য অন্য কোথাও নয়, লড়াই করবেন এখানে থেকেই, “আমি অন্য কোথাও যাব না, আমি এই দেশেতেই থাকবো।” আর নিজের দেশে একই আদর্শে বড়ো করতে নব প্রজন্মের হতে তাঁরা তুলে দিচ্ছেন রক্ত করবী। তবে ভোট আবহে এই গান এই ভিডিও এই বার্তা ঠিক কতটা প্রভাব ফেলবে সাধারণ মানুষের মধ্যে, সেটা সময় বলবে, আর বলবে নির্বাচনের ফলাফল।

সবচেয়ে আগে সঠিক খবর, প্রতি মুহূর্তে

Google News Google News এবং Google Discover Google Discover -এ নজরবন্দি-কে Follow করে রাখুন।

আরও পড়ুন