নজরবন্দি ব্যুরোঃ প্রতিশ্রুতি পূরণ মমতার, কথামতো শীতলকুচির নিহতদের পরিবার পেল কর্মসংস্থান। রাজ্যে এবারের আট দফা নির্বাচনে একের পর এক হিংসার ঘটনার সাক্ষী থেকেছে সাধারণ মানুষ। যার মধ্যে সবথেকে ভয়ঙ্কর ঘটনা ঘটে কোচবিহারের শীতলকুচিতে। ভোটের দিন সেখানে কেন্দ্রীয় বাহিনীর গুলিতে প্রাণ হারায় মোট ৫ জন গ্রামবাসী। ওইদিনের ঘটনার জন্য কে দায়ী সেই নিয়ে এখনও চলছে রাজনৈতিক তরজা। তবে ক্ষমতায় ফিরতেই কথামতো ওই ঘটনার তদন্তের জন্য সিআইডির বিশেষ তদন্তকারী দল গঠন করে তদন্ত শুরু করেছেন মুখ্যমন্ত্রী।
আরও পড়ুনঃ সংক্রমণ ঠেকাতে দেশব্যাপী ৬-৮ সপ্তাহ কড়া লকডাউনের পরামর্শ ICMR প্রধানের।


পাশাপাশি শপথ নিয়ে তিনি এও ঘোষণা করেছিলেন ওই ঘটনায় নিহত ৫ জনের পরিবারপিছু একটি করে চাকরি দেওয়া হবে। তাঁর প্রতিশ্রুতির ছ’দিনের মধ্যেই তাঁদের নিয়োগ প্রক্রিয়া শুরু করে দিল রাজ্য সরকার। বুধবার রাতেই ওই পাঁচ পরিবারের সদস্যদের হাতে নিয়োগ সংক্রান্ত নথি তুলে দেওয়া হয়। সোশ্যাল মিডিয়ায় সেই ছবি পোস্ট করেছেন কোচবিহারের জেলা তৃণমূল সভাপতি পার্থপ্রতিম রায়। বুধবার কোচবিহারের ল্যান্সডাউন হলে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের পক্ষ থেকে জেলাশাসক ও অন্যান্য আধিকারিকদের মাধ্যমে শীতলকুচি-কাণ্ডে নিহতদের পরিবারের একজনের হাতে স্পেশাল হোমগার্ডের নিয়োগ সংক্রান্ত নথি তুলে দেওয়া হয়। বৃহস্পতিবারও তাঁদের ডাকা হয়েছে।
সূত্রের খবর, নিয়োগ সংক্রান্ত আরও কিছু নথি জমা দেওয়ার আছে। এদিকে ওইদিনের ঘটনায় প্রথমবার ভোট দিয়ে বুথ থেকে বেরনোর সময় দুষ্কৃতীদের গুলিতে আনন্দর মৃত্যু হয়। তাঁকে দলীয় কর্মী বলে দাবি করে ‘গুলি করে খুনের’ অভিযোগে তৃণমূলকে কাঠগড়ায় তোলে বর্মন পরিবার এবং জেলা বিজেপি নেতৃত্ব। দিন কয়েক পরে জোড়পাটকিতে গিয়ে চাকরির আশ্বাস দিলেও মৃত আনন্দের মা বাসন্তী বর্মন জানান মুখ্যমন্ত্রীর দেওয়া চাকরি নেবেন না। তবে গত শুক্রবার ওই পাঁচ পরিবারের সদস্যরা কোচবিহার জেলা তৃণমূল সভাপতি পার্থপ্রতিম রায়ের সঙ্গে দেখা করেন।
প্রতিশ্রুতি পূরণ মমতার, কথামতো শীতলকুচির নিহতদের পরিবার পেল কর্মসংস্থান। সেখানেই সুর নরম করে বাসন্তীদেবী বলেন “আমরা পুরনো কোনও কথা ধরে রাখতে চাইছি না। মুখ্যমন্ত্রী চাকরি দিচ্ছেন। সেই চাকরি আমরা নেব। তাঁর দেওয়া অর্থসাহায্যও গ্রহণ করব।” এদিকে আজই শীতলকুচি পরিদর্শনে যাচ্ছেন রাজ্যপাল জগদীপ ধনগর। তার আগেই এই নিয়োগ খুবই তাৎপর্যপূর্ণ বলেই মনে করছে রাজনৈতিক মহল।










