নজরবন্দি ব্যুরো: দিনবদলের গান নয় এখন গানবদলের দিন। হেমাঙ্গ বিশ্বাস , সলিল চৌধুরীর জায়গায় অরিজিৎ সিং, কেকে ? তবে কি ধীরে ধীরে সাংস্কৃতিক বদল আনছে রাজ্য সিপিএম । দলের অফিশিয়াল ফেসবুক পেজ থেকে ধারাবাহিকভাবে যেসব রিলস শেয়ার করা হচ্ছে তাতে এই প্রশ্নই তুলেছেন অনেকে। যা নিয়ে ইতিমধ্যেই ইতিবাচক , নেতিবাচক মনোভাব তৈরি হয়েছে দলের অন্দরে। কেউ বলছেন, নতুনকে আত্মস্থ না করলে টিকে থাকা যাবে না। কারও বক্তব্য, গণসঙ্গীতের ধ্রুপদী ঘরানা থেকে ধীরে ধীরে বার হতে থাকলেও
আরও পড়ুন: Modi-Mamata: বাংলার বকেয়া টাকা আনতে মোদী-মমতা বৈঠকের সম্ভবনা দিল্লিতে



একটা সময়ে নাড়ির টান ছিঁড়ে যাবে।গাছকে যদি শিকর থেকে উপড়ে ফেলা হয় তাহলে সে আর বাঁচবে না। এই নিয়ে বিতর্ক ও মন্থন হচ্ছে সিপিএমের অন্দরে। সিপিএমের যুব সংগঠনের ‘ইনসাফ যাত্রা‘ য় সাধারণের অংশগ্রহণে খুশি নেতারাও।বিভিন্ন ফুটেজকে ফেসবুক পেজে তুলছে সিপিএমের আইটি সেল। দিনক্ষণ দেখে স্পষ্ট সুপরিকল্পিত ভাবেই রিলসে ওই গান ব্যবহার করা হয়েছে। যদিও দলের তরফে স্পষ্টই বলা হচ্ছে, পুরনো ঘরানাকে অস্বীকার করার কোন প্রশ্নই নেই।সিপিএমের রাজ্য সম্পাদকমণ্ডলীর সদস্য পলাশ দাস বলেন, ‘‘কমিউনিস্ট আন্দোলনে সলিল চৌধুরী, হেমাঙ্গ বিশ্বাসরা শাশ্বত।



তা অস্বীকারের কোনও প্রশ্নই নেই। তবে নতুন আঙ্গিককে অবশ্যই ব্যবহার করতে হবে। সেই দৃষ্টিভঙ্গি থেকেই রিল্সে এই ধরনের গান ব্যবহার করা হচ্ছে।’’ গণনাট্য সংঘের রাজ্য সভাপতি তথা চিকিৎসক হিরণ্ময় ঘোষাল বলেন, ‘‘গণসঙ্গীতের প্রবাহ থেকে দল সরে আসবে, এমন কোনও সিদ্ধান্ত হয়নি। তবে সমাজমাধ্যম একটা নতুন পরিসর। সেখানে নতুন প্রজন্মের ব্যবহারকারীই বেশি। সে কারণেই এই উপাদানগুলোকে কাজে লাগানো হচ্ছে বলে মনে হয়।’’ সিপিএমের আইটি সেলের এক সদস্যের কথায়, ‘‘রিলসে যে ধরনের গান ব্যবহার করলে রিচ বৃদ্ধি পায়, আমরা সেই গানই ব্যবহার করছি। কিন্তু সেখানে রুচিবোধের বিষয়টাও মাথায় রাখা হচ্ছে।’’
West Bengal CPI(M): রাজ্য সিপিএমের সাংস্কৃতিক রুচি বদল ?
তিনি আরও বলেন, ‘‘ইনস্টাগ্রামে এটা বেশ কিছু দিন ধরেই চলছে। তবে যে হেতু ফেসবুকে সদ্য শুরু হয়েছে, তাই নজরে পড়ছে।’’বাজারচলতি হিন্দি গানের ব্যবহার নিয়ে কেউ কেউ যেমন ভ্রু কুঁচকোচ্ছেন, তেমনই কেউ কেউ আবার বলছেন, পরিস্থিতির সঙ্গে খাপ না খাওয়ালে ‘ডারউইনবাদ’কে অস্বীকার করা হবে। সিপিএমের নেতারাও মেনে নিচ্ছেন, এ নিয়ে দলে মত এবং পাল্টা মত থাকবে। সেটা অমূলক নয়। তবে সমাজমাধ্যমকে যদি কৌশলে ব্যবহার না করা যায়, তা হলে হয়তো আবার দশ বছর পরে গিয়ে বলতে হবে ‘ঐতিহাসিক ভুল’।









