জন্মগত মুক ও বধিরদের স্বাভাবিক জীবন ফিরিয়ে নজির গড়ল এসএসকেএম

জন্মগত মুক ও বধিরদের স্বাভাবিক জীবন ফিরিয়ে নজির গড়ল এসএসকেএম
জন্মগত মুক ও বধিরদের স্বাভাবিক জীবন ফিরিয়ে নজির গড়ল এসএসকেএম

নজরবন্দি ব্যুরোঃ  জন্মগত মুক ও বধিরদের কথা বলার ও শোনার ক্ষমতা ফিরিয়ে দিয়ে নজির গরল এসএসকেএম। ধীরে ধীরে স্বাভাবিক জীবন ফিরে পাচ্ছে জন্মগত মুক ও বধির প্রত্যুষা, স্বপ্ননিকাররা। সন্তানের মুখ থেকে ‘মা’ ‘বাবা’ ডাক শোনার ইচ্ছা পূরণ হচ্ছে হাজারো মা বাবাদের। পরিসংখ্যান বলছে দেশে প্রতি ১০০০ জন শিশুর মধ্যে ৪ জন মূক ও বধির হয়ে জন্মায়।

আরও পড়ুনঃ নন্দীগ্রামে নির্বাচনের জন্যে ২টি কার্যালয় খুলছে তৃণমূল, নেতৃত্বে স্বয়ং নেত্রী।

ফলত গোটা ভারতের নিরিখে মুক ও বধির শিশুদের সংখ্যা অনেক। কিন্তু তাদের মা-বাবারা সাহস করে এগিয়ে আসেন না অস্ত্রোপচারের জন্য। বর্তমান সময়ে সরকারি স্তরে বিভিন্ন প্রচারের ফলে এগিয়ে আসছেন অনেকই। এই ভাবেই এগিয়ে এসেছিলেন প্রত্যুষার বাবা-মাও। ফলে আজ কথা বলছে তাদের সন্তান। গলার আওয়াজ ফিরে পেয়ে প্রত্যুষা, বলছে “আতা গাছে তোতা পাখি, ডালিম গাছে মৌ।”

প্রত্যুষার মতোই আওয়াজ ফিরে পেয়েছে স্বপ্ননিকা। প্রত্যুষা, স্বপ্ননিকা সহ আরও অনেককেই তাদের কথা বলা শোনার ক্ষমতা ফিরিয়ে দিচ্ছেন চিকিৎসকরা। প্রত্যুষার মা জানিয়েছেন, ‘চিকিৎসকের কাছ থেকে তাঁরা জানতে পেরেছিলেন তাঁদের সন্তান জন্মগত মূক ও বধির। চিকিৎসার জন্য ভেলোর যান তারা। অবশেষে অস্ত্রোপচারের পর কথা বলছে প্রত্যুষা।’

এই ধরনের সমস্যা থাকলে অস্ত্রোপচার করতে ভয় পান বাবা-মায়েরা। চিকিৎকরা জানিয়েছেন, এমন ক্ষেত্রে যত তাড়াতাড়ি সম্ভব ককলেয়ার ইমপ্লান্টেশন অস্ত্রোপচার করাকে শিশুরা শ্রবণ শক্তি ফিরে পায়। এদিন বিশ্ব শ্রবণ দিবস উপলক্ষে এসএসকেমে একসঙ্গে এসেছিল প্রত্যুষা, স্বপ্ননীকার মতো জন্মগত মূক ও বধিরা, যারা এখন স্বাভাবিক জীবন যাপন করছে। কলকাতা এসএসকেএম হাসপাতালের চিকিৎসক ও অধিকর্তা অধ্যাপক অরুণাভ সেনগুপ্ত জানান, এখন পর্যন্ত মোট ৬৭টি শিশুর কণ্ঠে শব্দ এনে দিতে পেরেছেন তারা।

তাঁর বলেন, ‘একজন চিকিৎসকের কাছে এর থেকে আনন্দের কিছু নেই। যখন একটি বধির শিশু শ্রবণ ক্ষমতা ফিরে পায়। যখন তার মায়ের মুখে হাসি ফুটে ওঠে এর থেকে বড় বিষয় আর কি হতে পারে।’ অরুণাভ সেনগুপ্ত বাংলার প্রত্যেক মা-বাবার কাছে আবেদন করেছেন, যে যদি কোনও শিশু জন্মের পর কথা বলতে বা শুনতে না পায়, তাহলে দেরি না করে যোগাযোগ করুন , সম্পূর্ণ বিনা খরচে আপনাদের সন্তান কথা বলতে পারবে। এসএসকেমের আরও এক চিকিৎসক অধ্যাপক অরিন্দম দাস জানান, ককলেয়ার ইমপ্লান্টেশন ১ বছর থেকে শুরু করে যে কোনও বয়সে করা যায়।

তিনি জানান, এদেশে ৭ মাসের শিশুরও ককলেয়ার ইমপ্লান্টেশন হয়েছে। শুধু শিশুদেরি নয় বয়স্কদের যারা হেয়ারিং-এড নিয়েও শুনতে অক্ষম তাঁদেরও ককলেয়ার ইমপ্লান্টেশন করা যায়। এই সব ক্ষেত্রে হেয়ারিং-এডের থেকে একটি আধুনিক যন্ত্র অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে মাথায় বসানো হয়, যা শব্দ তরঙ্গকে ইলেকট্রিক এনার্জিতে রূপান্তর করে মস্তিষ্কে পাঠায়। এবং শোনার ক্ষমতা তৈরী করে। চিকিৎসক অরিন্দম জানান, ‘শিশুরা গর্ভাবস্থা থেকেই শুনতে পায়, যত দিন কোন শিশু বধির থাকে ততদিন পর্যন্ত তাঁর মস্তিষ্কে কান দিয়ে কোনো শব্দই পৌঁছয় না। ফলে শিশুর মস্তিষ্ক অন্ধকার থাকে। যার প্রভাব পড়ে শিশুর জীবনে। তাই মা বাবাদের উচিৎ দেরি না করে যত তাড়াতাড়ি সম্ভব অস্ত্রোপচার করিয়ে নেওয়া।’

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here