নজরবন্দি ব্যুরোঃ আপার প্রাইমারির নিয়োগে হাইকোর্টের কাছে চার সপ্তাহ সময় চাইল এসএসসি। ২০১৪ সালে প্রথম উচ্চ প্রাথমিক শিক্ষক নিয়োগের জন্য টেট পরীক্ষার বিজ্ঞপ্তি জারি করা হয় রাজ্য সরকারের পক্ষ থেকে। যে পরীক্ষা নেওয়া হয় ২০১৫ সালের আগস্ট মাসে। ফলও প্রকাশিত হয় ২০১৬ সালে। তবে ফল প্রকাশের পরেই থেমে যায় গোটা প্রক্রিয়া। আর নিয়োগ করা হয়নি নব নির্বাচিত শিক্ষকদের। দীর্ঘ জটিলতা কাটিয়ে অবশেষে ২০১৯ সালে সম্পূর্ণ করা হয় ভেরিফিকেশন ও ইন্টারভিউ প্রক্রিয়া।
আরও পড়ুনঃ ঝোড়ো ব্যাটিং সিবিআই-এর, নারদার পর কয়লাকাণ্ডের চার্জশিট জমা এই মাসেই।
তবে আইনি জটিলতায় ফের ধাক্কা খায় সেই প্রক্রিয়া। হাইকোর্টের নির্দেশে অবশেষে ২০১৯ সালের ৪ ঠা অক্টোবর মেধা তালিকা প্রকাশ পেলেও সেই তালিকায় অসঙ্গতির অভিযোগে ফের মামলা দায়ের করা হয়। যার জেরে ফের নিয়োগ প্রক্রিয়ায় স্থগিতাদেশ জারি করে কোলকাতা হাইকোর্ট। নিয়োগ প্রক্রিয়ায় অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের হয় একের পর এক মামলা। কিছুদিন আগেই সেই সব মামলার রায় দিয়ে হাইকোর্টের তরফ থেকে ২০১৬ সালের নিয়োগ প্রক্রিয়া থেকে মেধা তালিকা সম্পূর্ণরূপে বাতিল করার নির্দেশ দেওয়া হয়। সেই সঙ্গে বিচারপতি মৌসুমি ভট্টাচার্য নির্দেশ দেন ৪ই জানুয়ারি থেকে নতুন করে প্রার্থীদের নথি যাচাই শুরু করতে হবে। ৫ই এপ্রিলের মধ্যে নথি যাচাইয়ের কাজ শেষ করে ১০ ই মের মধ্যে ইন্টারভিউ এর তালিকা প্রকাশ করতে হবে। তারপর ৩১ শে জুলাইয়ের মধ্যে শেষ করতে হবে সম্পূর্ণ প্রক্রিয়া। তবে তা সম্ভব হয়নি। যা নিয়ে রাজ্যের বিরুদ্ধে আদালত অবমাননার মামলা করার হুঁশিয়ারি দেন আইনজীবী ফিরদৌস শামিম।
আর তারপরেই এই ব্যাপারে নড়েচড়ে বসল স্কুল সার্ভিস কমিশন। ইন্টারভিউ লিস্ট পাবলিশ বা প্রস্তুতির জন্য আদালত তাদের আরও চার সপ্তাহ সময় চেয়ে কলকাতা হাইকোর্টে আবেদন করল তারা। সোমবার বিচারপতি অরিন্দম সিনহার এজলাস এ ব্যাপারে কোনও নির্দেশ না দিয়ে মামলাটি গ্রহণ করে শুনানি শেষে তা বিচারপতি মৌসুমী ভট্টাচার্যর রেগুলার বেঞ্চে পাঠিয়েছেন। একইসঙ্গে অবশ্য, যে পক্ষ আদালত অবমাননার মামলা করতে পারে বলে এএসসি আশঙ্কা করছে তাদের নোটিস দিতে নির্দেশ দিয়েছে অরিন্দম সিনহার বেঞ্চ। আজ পশ্চিমবঙ্গ আপার প্রাইমারি চাকরিপ্রার্থী মঞ্চের সহ সভাপতি সুশান্ত ঘোষ জানান, কোভিডজনিত কারণে রাজ্যে যে পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে সেটা সম্পর্কে মঞ্চ ওয়াকিবহাল।
আপার প্রাইমারির নিয়োগে হাইকোর্টের কাছে চার সপ্তাহ সময় চাইল এসএসসি। কিন্তু কমিশনের ওয়েবসাইটে আদালতের রায় অনুযায়ি ১০ মের মধ্যে ইন্টারভিউ লিস্ট প্রকাশ করা হল না ও কোনও বিবৃতি না দিয়ে যেভাবে নীরব ছিল এসএসসি, সেটা মঞ্চের পক্ষে আশঙ্কাজনক ছিল। কিন্তু এদিন আদালতে কমিশনের আবেদনে বোঝা যাচ্ছে তারা আদালতের রায় নিয়ে যথেষ্ট ওয়াকিবহাল। ঐকান্তিক আবেদন, কমিশন কোর্ট অর্ডার ও গ্যাজেট বিধি মেনে বর্ধিত শূন্যপদে দ্রুত নিয়োগ প্রক্রিয়া সম্পন্ন ও যথারীতি ব্যবস্থা গ্রহণ করুক।



