স্কুল সার্ভিস কমিশনের (SSC) নিয়োগ সংক্রান্ত মামলায় রাজ্যের জন্য বড় স্বস্তির নির্দেশ দিল সুপ্রিম কোর্ট। নিয়োগ প্রক্রিয়া সম্পূর্ণ করার জন্য রাজ্যকে আরও আট মাস সময় দেওয়া হয়েছে। ফলে ২০১৬ সালের প্যানেলের অধীনে থাকা নবম–দশম ও একাদশ–দ্বাদশের ‘যোগ্য’ শিক্ষক-শিক্ষিকারা আগামী ৩১ অগস্ট, ২০২৬ পর্যন্ত কাজ চালিয়ে যেতে পারবেন এবং বেতনও পাবেন।
বৃহস্পতিবার বিচারপতি সঞ্জয় কুমারের বেঞ্চে এই মামলার শুনানি হয়। সেখানে এসএসসি জানিয়েছিল, আইনি ও প্রশাসনিক জটিলতার কারণে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে নতুন নিয়োগ প্রক্রিয়া শেষ করা সম্ভব হচ্ছে না। সেই কারণে ২০২৬ সালের সেপ্টেম্বর পর্যন্ত সময় বাড়ানোর আবেদন জানানো হয়। তবে আদালত স্পষ্ট করে দেয়, নিয়োগ প্রক্রিয়া ৩১ অগস্টের মধ্যেই শেষ করতে হবে।



কারা এই সুবিধা পাবেন, কারা পাবেন না
শীর্ষ আদালতের নির্দেশ অনুযায়ী, এই সুবিধা শুধুমাত্র নবম–দশম এবং একাদশ–দ্বাদশ স্তরের ‘যোগ্য’ শিক্ষক-শিক্ষিকাদের ক্ষেত্রেই প্রযোজ্য। তাঁরা আগের মতোই স্কুলে পড়ানো চালিয়ে যেতে পারবেন এবং নিয়মিত বেতন পাবেন।
তবে আদালত পরিষ্কার করে দিয়েছে, এই নির্দেশ গ্রুপ সি ও গ্রুপ ডি (অশিক্ষক কর্মী) দের ক্ষেত্রে কার্যকর হবে না। তাঁদের জন্য আগের নির্দেশই বহাল থাকছে।
আগের নির্দেশ কী ছিল
উল্লেখযোগ্য ভাবে, ২০১৬ সালের এসএসসি প্যানেল সংক্রান্ত মামলায় এর আগে সুপ্রিম কোর্ট গোটা নিয়োগ প্রক্রিয়াই বাতিলের নির্দেশ দিয়েছিল। পাশাপাশি জানানো হয়েছিল, ২০২৫ সালের ৩১ ডিসেম্বরের মধ্যে নতুন করে সম্পূর্ণ নিয়োগ প্রক্রিয়া শেষ করতে হবে।


কিন্তু বাস্তবে সেই সময়সীমার মধ্যে নিয়োগ শেষ করা কঠিন হওয়ায়, এসএসসি ফের শীর্ষ আদালতের দ্বারস্থ হয়। সেই আবেদনের প্রেক্ষিতেই সময়সীমা বাড়ানোর নির্দেশ এল।
যোগ্য চাকরিহারাদের প্রতিক্রিয়া
‘যোগ্য’ চাকরিহারাদের আন্দোলনের প্রথম সারির মুখ সুমন বিশ্বাস, চিন্ময় মণ্ডলদের বক্তব্য, এই নির্দেশে আপাতত স্বস্তি মিললেও এটি স্থায়ী সমাধান নয়। তাঁদের মতে, আদালতের নির্দেশে চাকরি ও বেতন মিলছে ঠিকই, কিন্তু অনিশ্চয়তা পুরোপুরি কাটেনি।
অন্যদিকে, চলতি বছরে যাঁরা নতুন করে চাকরিতে যোগ দিয়েছিলেন, তাঁদের একাংশের মধ্যে ক্ষোভ রয়েছে। তাঁদের দাবি, দুর্নীতির জেরে গোটা নিয়োগ প্রক্রিয়া দীর্ঘসূত্রিতায় পড়ছে, ফলে প্রকৃত সমাধান এখনও অধরা।
যোগ্য–অযোগ্য তালিকা প্রকাশ নিয়েও লড়াই
এই মামলার সঙ্গে জড়িত আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হল যোগ্য ও অযোগ্য প্রার্থীদের তালিকা প্রকাশ। গ্রুপ সি মামলাকারী সুবীর সরকারের আবেদনের ভিত্তিতে কলকাতা হাই কোর্ট এসএসসিকে ওই তালিকা প্রকাশের নির্দেশ দিয়েছিল।
তবে সেই নির্দেশকে চ্যালেঞ্জ করে সুপ্রিম কোর্টে গিয়েছে পশ্চিমবঙ্গ স্কুল সার্ভিস কমিশন (WBSSC)। ফলে একদিকে যেমন নিয়োগের সময়সীমা বৃদ্ধি নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে, তেমনই যোগ্য–অযোগ্য তালিকা প্রকাশ নিয়েও আইনি লড়াই এখনও চলছে শীর্ষ আদালতে।







